Featured

এবার হাতের ইশারায় যেকোনো স্মার্ট ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ করুন

বর্তমানে প্রায় সকল স্মার্ট ডিভাইসগুলো একে একে টাচস্ক্রিণ ফিচারে চলে এসেছে। মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে এখন টিভি, ল্যাপটপের ডিসপ্লেগুলোতেও টা...

Showing posts with label Technology Updates. Show all posts
Showing posts with label Technology Updates. Show all posts

Wednesday, 19 June 2019

প্রযুক্তি আর ইন্টারনেট এর কারণে যে জিনিস গুলো আজ বিলুপ্তির পথে

আসসালামু আলাইকুম। 
আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। প্রযুক্তি বিষয়ক আলোচনা নিয়ে আজকের লেখালেখি। তার আগে কিছু গল্প করে নেই।
পদ্মার রুপালি ইলিশ আর মাশকলাইয়ের ডাল। দুটি খাবার নিয়ে একটু ভাবুনতো। .................ভেবেছেন নিশ্চয়ই। ১৫-২০ বছর আগের সময় আর এখনকার সময়ে এই দুটি খাবারের ব্যবধান নিয়ে আরেকটু ভাবুন।..............ভেবেছেন নিশ্চয়ই। ব্যবধান কি পেলেন? ‍উত্তরটা এরকম ১৫-২০ বছর আগে এই দুটি খাবার চুলায় বসানো হলে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এই দুটি খাবারের ঘ্রান এ বাড়ি সে বাড়ি করে সারা গ্রাম ছড়িয়ে পড়ত, আর আজ এই দুটি খাবার তৈরি হলে আমার ঘরে আমিই টের পাইনা। কেন খাবারের ঘ্রান নষ্ট হয়ে গেল ও খাবারের গুনাগুন নষ্ট হয় এর ব্যাখ্যা কমবেশ আমরা সবাই জানি।এসবের ব্যাখ্যা আজকের আলোচনার বিষয় নয়। প্রেক্ষাপট বলার জন্যই এই আলোচনাটা করলাম।
আজ থেকে ১৫-২০ আগে আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কিছুই ব্যবহার করতাম আমাদের জীবনযাত্রায় যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে আর অনেকগুলো বিলুপ্ত হওয়ার পথে।
জ্বি হ্যাঁ, এমন কিছু জিনিস যা প্রযুক্তি আর ইন্টারনেট এর কারণে আজ বিলুপ্তের পথে এটাই আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু।
এবার আমরা একে একে দেখে নেই কোন কোন জিনিষগুলোর বেহাল অবস্থা প্রযুক্তি আর ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান দাপটের কারনে।

১) পাবলিক ফোন:

আমরা সবাই জানি 1876 সালে আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল টেলিফোন আবিস্কার করেন। কিন্তু যদি না জানেন জেনে নিন সর্বপ্রথম পাবলিক ফোন স্থাপিত হয় 1878 সালে। 1878 সালে একজন সহায়তাকারীর উপস্থিতিতে পাবলিক ফোনগুলো স্থাপন করা হতো হোটেলে লবিতে, রেলওয়ে স্টেশন, কোন জনবহুল মার্কেটের নিকট। প্রথম চলত কাস্টমার কল শেষ করার পর সহায়তাকারীর নিকট টাকা দিয়ে দিত। কিন্তু একসময় দেখা গেল এইভাবে ফোনকল করা সম্ভব নয় এবং সেটা বিরক্তিকরও। এ ধারনা থেকেই কয়েন চালিত পাবলিক ফোন স্থাপন হয় সর্বপ্রথম 1889 সালে। প্রথমে পোষ্ট পে এবং পরে ফ্রি পে পাবলিক ফোন চালু হয় 1898 সালে যার নাম ছিল No. 5 Coin collector. 1905 সালে সর্বপ্রথম স্ট্রিট পাবলিক ফোন স্থাপিত হয়। 1950 সালে চালু হয় 3-স্লট ডায়াল পাবলিক ফোন যেটিতে ফোন কলার 10 পয়সার মুদ্রা, নিকেল ধাতুর মুদ্রা ও সিকি মুদ্রা দিয়ে কল করার সুবিধা পেলেন। আস্তে আস্তে েএটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে এবং মিলিয়ন মিলিয়ন পাবলিক ফোন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। নিচের চিত্রটি দেখে একটু পরিচিত হয়ে নেই পাবলিক ফোনের সাথে-
কিন্তু এত জনপ্রিয় পাবলিক ফোন আজ বিলুপ্ত প্রায়। এর অন্যতম কারন হলো ইন্টারনেটের আগমন এবং প্রসার। ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে ই-মেইল, সোস্যাল মিডিয়া, ভয়েস চ্যাট করার বিভিন্ন এ্যাপলিকেশন, এর পর মোবাইল ফোনের কারনে যোগাযোগ চলে এসেছে  ঘড়ির কাটায়। একটি সেল ফোন হাতে থাকলে কেন আমরা রাস্তার ধারে পাবলিক ফোনে কথা বলব। ইন্টারনেটের দাপটে আর প্রযুক্তির নিত্যনতুন আবিষ্কারের ফলে পাবলিক ফোন বিলুপ্তির পথে।
তবে পাবলিক ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শেষ ব্যবহারকারী পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজী আছে। তাই হয়ত আমরা অল্প হলেও আরও কিছুদিন দেখতে পাব এই পাবলিক ফোন।

2) ক্যাসেট ও সিডি:

বেশ কিছুদিন আগেও ক্যাসেট ছিল আমাদের গান শোনার একমাত্র ভরসা।অথচ দেখুন আজ ক্যাসেট নেই বললেই চলে। সিডি, ডিভিডি দখল করে নিয়েছে ক্যাসেটের স্থান।তবে অনেক জনপ্রিয় এই সিডি ও ডিভিডিও নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারছেনা। প্রযুক্তির নিত্যনতুন আবিষ্কারের কারনে এগুলোও আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।
এখন আমরা একটু পেছন ফিরে তাকাই।১৯৫৮ সালে RCA Victor প্রথম স্টেরিও ক্যাসেট আবিস্কার করেন যার সাইজ ছিল ৫”x৭” এবং এটি ছিল প্রি রেকর্ড করা তাই এটি ব্যার্থ হয়। ১৯৬২ সালে নেদারল্যান্ড ভিত্তিক কোম্পানি ফিলিপস সর্বপ্রথম কমপেক্ট অডিও ক্যাসেট আবিস্কার করেন এবং বাজারজাত করেন।উন্নত মানের ১/৮ ইঞ্চি পলিষ্টার টেপ দিয়েই এটি তৈরি হয়। রেকর্ড ও প্লেব্যাক স্পিড ছিল প্রতি সেকেন্ডে ১.৭/৮ ইঞ্চি ।যখন ক্যাসেট পূর্নতা পায় তখন এর দুটি সাইডে ৩০/৪৫ মিনিট সময় প্লেব্যাক করা যেত।
এরপর ফিলিপস ও সনির যৌথ প্রচেষ্টা শুরু হয় ১৯৭০ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ১৯৮২ সালে এই দুই কোম্পানির যৌথ প্রচেষ্টায় সিডি আসে বাজারে। এর পর আমরা সিডির জনপ্রিয়তা দেখলাম। ক্যাসেট হারিয়ে গেল। সিডি বাজারের দখল নিল। এই সিডিও আজ প্রায় বিলুপ্ত প্রায়।সিডির ক্যাপাসিটি হচ্ছে ৭০০ MB এবং সময়ের হিসেবে প্রায় ৮০ মিনিট।
এবারে একটু দেখে নেই কেন এগুলো বিলুপ্ত হচ্ছে।এক সময়কার তুমুল জনপ্রিয় ক্যাসেট স্থান হারালো সিডি ও ডিভিডি আবিস্কার হওয়ার পর। আর প্রযুক্তির কল্যানে ও ইন্টারনেটের প্রসারে আমরা এখন অনলাইনে গান শুনি, মূভি দেখি। মোবাইলে গান শুনি, কেন সিডি কিনব? আর প্রযুক্তির সর্বশেষ সংযোগ এফ.এম রেডিও। বিশ্বব্যাপি এখন এফ.এম. রেডিওর জয়জয়কার। এক একটা মিউজিক ষ্টেশান এখন মানুষের পকেটেই থাকে। এসব কারনেই সিডি, ক্যাসেট বিলুপ্তির পথে।

৩) রোলোডেক্স (Rolodex):

ইংরেজী দুটি শব্দ Rolling ও Index মিলেই Rolodex শব্দটি তৈরি। এটি হচ্ছে কোন তথ্যকে সংরক্ষন করার একটি মেশিন যেখানে কাগজে অথবা কার্ড এ তথ্য লিখে এই মেশিনে েগেঁথে রাখা হত। রোলোডেক্স এর চিত্রটি দেখুন-






১৯৭০ সালে ব্যবহৃত একটি রোলোডেক্স

Arnold Neustadter এবং Hildaur Neilsen ১৯৫৬ সালে এটি আবিষ্কার করেন আর ১৯৫৮ সালে প্রথম বাজারজাত করেন।একসময় ছিলনা কোন ভার্সুয়্যাল সোস্যাল নেটওয়ার্ক, ছিলনা কোন এড্রেস বুক, ছিলনা স্মার্ট ফোন, ছিলনা অনলাইন স্টোরেজ। কিন্তু তখনও মানুষের ছিল ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত তথ্য, ছিল ঠিকানা লিখে রাখার প্রয়োজনীয়তা, ছিল পাবলিক ফোন নাম্বারসহ আরও মনে রাখতে হবে এ ধরনের অনেক তথ্য। আর এ তথ্যগুলোই মানুষ কাগজে লিখে রোলোডেক্সে সংরক্ষন করত।
এই ডিভাইসটি আজ বিলুপ্ত শুধুই প্রযুক্তি আর ইন্টারনেটের কারনে।আজ আমাদের রয়েছে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ফোন, নোটবুক, ট্যাব, কার্ড হোল্ডার, অনলাইন স্টোরেজ সহ তথ্য সংরক্ষন করার অনেক ব্যবস্থা। এগুলোই ইতিহাস করেছে এই Rolodex নামক ডিভাইসটিকে।

৪) বিশ্বকোষ (Encyclopedia):

Encyclopedia শব্দটির বাংলা অর্থ বিশ্বকোষ/বিদ্যাকোষ/জ্ঞানকোষ। আমরা এটিকে বুঝব জ্ঞানজগতের সকল তথ্য সম্বলিত পুর্নাঙ্গ একটি রেফারেন্স বুক হিসেবে।Encyclopedia ’র অস্তিত্ব প্রায় ২০০০ বছর ধরে। আধুনিক বিশ্বকোষ ১৭ শতকে অভিধান থেকে আধুনিকায়ন করা হয়।বিশ্বকোষ সাধারনত এক বা একাধি ভলিউমে সংরক্ষিত ছিল। Encyclopedia Britannica  এবং Enciclopedia universal ilustrada europeo-americana  একাধিক ভলি ‍উমে সংরক্ষিত  Encyclopedia. ১৭৫১ সালে Encyclopedia আবিস্কার করেন জার্মান নাগরিক Denis Diderot and Jon Le Rond D'Alembert.
ভলিউমভিত্তিক এই Encyclopedia এখন প্রায় যাদুঘরে। এখন Wikipedia নামে আমরা কম্পিউটারের বসেই এই বিশ্বকোষ পড়তে পারি। আরও মজার বিষয় হলো যে কেউ এতে নতুন তথ্য সংযুক্ত করতে পারে।২০০১ সালে Wikipedia যাত্রা শুরু করে। ২০০৯ সাল নাগাদ ৩ মিলিয়ন ইংরেজি আর্টকেল সহ মোট ২৫০ ভাষায় ১০ মিলিয়ন আর্টকেল সমৃদ্ধ আজকের Wikipedia. ইতোমধ্যে সিডি ও ডিভিডি ধারক হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে েএই বিশ্বকোষের। অনলাইনের মাধ্যমে আমরাতো হাতের কাছেই পাচ্ছি। তো কেন ভলিউম কিনব? এভাবেই এনসাইক্লোপেডিয়া আজ বিলুপ্ত প্রায়।

৫) পত্রিকায় শ্রেনীভিত্তিক বিজ্ঞাপন (Classified Ads):

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যেমনঃ চাকুরী, টিউশনি, বাড়ী ভাড়া, ক্রয়-বিক্রয় প্রভৃতি শিরোনামে খবরের কাগজে আমরা প্রচুর বিজ্ঞাপন দেখেছি। এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রতিটি খবরের কাগজেই দেখা যেত। পত্রিকা অফিস অনেক মুনাফাও অর্জন করত এ ধরনের বিজ্ঞাপন থেকে। ছবিটি দেখুন-
আর এখন এই ক্লাসিফাইড এডস প্রায় নেই বললেই চলে। কারন ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির প্রসার। আজ অধিকাংশ বিজ্ঞাপন চলে গেছে করপোরেট ওয়েবসাইট এ। ব্যানার এড এর নতুন সংস্করন। এফ.এম. রেডিওতে, ওয়েবসাইটে, সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পন্যের প্রচার ও প্রসার করাকেই অনেক সুবিধার মনে হয়। এছাড়া ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য তৈরি হয়েছে ই-কমার্স ওয়েবসাইট। আর এসবের কারনের ক্লাসিফাইড এডস বিলুপ্ত প্রায়।

৬) ডিসপোজেবল ক্যামেরা (Disposable Camera):

১৯৪৯ সালে A. D. Weir ‍ডিসপোজেবল ক্যামেরা আবিস্কার করেন।প্রথমে এটি ফটো-প্যাক হিসেবে বিক্রি করা হত।অর্থ্যাত ফিল্ম ইন্স্টল করা থাকত। পরে ৩৫ মিমি ফিল্ম বাজারে আসে যা দিয়ে এটিতে ছবি তোলা হত।ছবি তোলার পর ফিল্মটিকে প্রসেস করে ছবি আউটপুট হত। এরপর Fujifilm, Konica, Canon, Nikon এরকম আরো অনেক কোম্পানিই ডিসপোসেজল ক্যামেরা বাজারজাত করে।১৯৯০ সালের দিকে এ ক্যামেরা অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করে।সিঙ্গেল ফটো ইউজার, বিয়ে বাড়িতে এটি অধিক হারে ব্যবহার হত। চিত্রটি দেখুন-
কিন্তু একসময়ের জনপ্রিয় এই ক্যামেরা আজ ডিজিটাল ক্যামেরা, এসএলআর সহ আরও উন্নত মানের ক্যামেরা কাছে তাদের বাজার হারিয়েছে। আর সর্বশেষ বিভিন্ন কোম্পানির স্মার্ট ফোনগুলো আসার পর ডিসপোজেবল ক্যামেরার সমাধি রচিত হয়েছে।

৭) ইয়ার্ড সেল (Yard sale):

Yard sale আরও বেশ কিছু নামে ডাকা হত যেমনঃ patio salerummage saletag salelawn saleattic salemoving salegarbage salethrift sale, or junk sale বাংলায় আমরা এর অর্থ বুঝি কারো ব্যবহার করা জিনিষপত্র যা পুরাতন ও মোটামোটি ব্যবহার উপযোগী সেগুলো একত্রে বিক্রয় করার ব্যবস্থা।এধনের বিক্রয় ব্যবস্থায় বিক্রেতাকে কোন লাইসেন্স করা লাগেনা। বিক্রেতা এ পন্যগুলো সাধারনত পথচারীদেরকে বা যারা এ ধরনের জিনিস কিনতে চায় তাদেরকেই দেখাত। বিক্রয় স্থান হিসেবে তারা বেছে নিত গ্যারেজ, কার পার্ক করার স্থান, রাস্তাঘাট, বাড়ীর উঠোন। বিক্রিত পন্যগুলোর তালিকায় থাকত কাপড়, খেলনা, বই, আসবাবপত্র, ঘরগৃহস্থলির বিভিন্ন জিনিস, খেলার সামগ্রী ইত্যাদি। চিত্রটি দেখুন-
বিশ্বের অনেক দেশেই এই বিক্রয় ব্যবস্থার এই পদ্ধতি খুব জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু আজ সময় পরিবর্তন হয়েছে। এই রীতি প্রায় বিলুপ্ত। এর মুল কারন ইন্টারনেট। ই-কমার্স ওয়েবসাইট, সোস্যাল মিডিয়া মারকেটিং িএর ফলে এই ধরনের বিক্রয় ব্যবস্থার আর আয়োজন হয়না। তাই এই পদ্ধতি একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে খুব বেশি সময় বাকী নেই।

৮) লাইনে দাড়িয়ে বিল প্রদান:

নগরায়নের ফলে একসময় বিদ্যুত, গ্যাস, ওয়াসা, টেলিফোন বিল সহ আরও অনেক বিল দেওয়ার রীতি প্রচলিত হলো। এক্ষেত্রগুলোতে কয়েক বছর আগেও আমরা দেখতাম লাইনের পর লাইনে দাড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিল দেওয়ার অসহায় দৃশ্য।এসকল বিল দিতে গিয়ে কষ্ট পাননি অথবা ভোগান্তির শিকার হননি এমন লোক পাওয়া কঠিন।
তবে বিশ্ববাসীর জন্য আশির্বাদ হয়ে প্রযুক্তি মানুষকে আরাম এনে দিয়েছে। আজ আর লাইনে দাড়িয়ে বিল দিতে হয়না। অনলাইনেই বিল দেওয়ার সকল প্রযুক্তি বিশ্বে চালু হয়েছে। কিছু দেশ যেগুলো প্রযুক্তিতে কিছুটা পিছিয়ে আছে সেখানে হয়ত এখনও পদ্ধতিটি পুরোপুরি চালু হয়নি। তবে একথা একবাক্যে বলা যায়যে লাইনে দাড়িয়ে বিল দেওয়ার আগের এই নিয়ম একসময় পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

৯) ম্যাপ (Map) হাতে নিয়ে ভ্রমনে বের হওয়া:

কর্মব্যাস্ত জীবনে কোলাহল আর হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের শেষে মানবদেহ যদি একটু অবসর পায় তাহলে অনেকের মনপাখি ঘুরে বেড়াতে চায় নিজের পছন্দসই স্থানে। এক্ষেত্রে অপরিচিত কোন স্থানে যাওয়ার প্ল্যান হলে আমাদের যে কাজটি প্রথমেই করতে হয় তা হলো গন্তব্যে যাওয়ার রাস্তা চিনে নিরাপদে সেখানে যাওয়া।


এক্ষেত্রে একমাত্র গাইড ছিল রুট ম্যাপ যা দেখে দেখে গন্তব্যে যাওয়া যায়। সময় পরিবর্তন হয়েছে অনেক। ম্যাপ হাতে নেওয়ার এই কাজটাকে একবারেই বাতিল করে দিয়েছে আমাদের গুগল ম্যাপ। ইন্টারনেট কানেকশান সহ ডিভাইস যা ইন্টারনেট উপযোগী সেগুলো ব্যাবহারেই সারাবিশ্ব ঘুরে বেড়ানো সম্ভব। কাগজের ম্যাপ হাতে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বললেই চলে।

১০) ইয়েলো পেইজ (Yellow Pages) এর বই সংস্করন:

Yellow page হলো ব্যবসা সংক্রান্ত টেলিফোন ডিরেক্টরি। ইংরেজি অক্ষর বিন্যাসে নয় ব্যবসায়ের ধরন অনুসারে সাজানো হয় এই ইয়েলো পেজ।১৮৮৩ সালে এর নামকরন করা হয়।১৮৮৬ সালে Reuben H Donnelley প্রথম অফিসিয়াল Yellow page প্রস্তুত করেন।
প্রযুক্তি আর ইন্টারনেটের কল্যানে এই বইটি আজ ব্যবহার হচ্ছেনা বললেই চলে। কার ইন্টারনেট আমাদের দিয়েছে সারা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার সুযোগ। তাই বিশাল সাইজের এই বইটি অধিকারে রেখে নিজের বোঝা বাড়ানোর কাজটি কেউ করেনা। একদিন একসময়ের এই দরকারী বইটিও যাদুঘরে চলে যাবে নিশ্চিত।

১১) উত্তর দেওয়ার যন্ত্র (Answering Machine):

Answering machine কে কয়েকটি নামে ডাকা যায় যেমনঃ answerphone, message machine, telephone answering machine ( TAM). এমন একটি ডিভাইস যা কোন ফোন কলার কল করলে কয়েকটি রিং বেজে ওঠার পর কলারকে একটি মেসেজ পাঠায় অতঃপর কলার তার বক্তব্য বলা শুরু করলে সে বক্তব্য ডিভাইসে রেকর্ড হয় এবং পরে শোনা যায়।এটি টেপ এনসারিং মেশিন যা ভয়েস রেকর্ড করে এবং প্লে করে। ১৮৯৮ সালে এটি আবিস্কার করেন Valdemar Poulsen. টেলিফোন কনভারসেশান রেকর্ড করার এ ডিভাইসটি Poulsen device নামে পরিচিত ছিল।এ ডিভাইস ২ ধরনের ছিল একটি হলো টু ক্যাসেট এনসার মেশিন অপরটি সিঙ্গেল ক্যাসেট এনসার মেশিন।চিত্রটি দেখুন- 
প্রযুক্তির এ যুগে এ মেশিন পুরোপুরি বিলুপ্ত। ভয়েস শোনার জন্য অত্যাধুনিক মোবাইল ফোন, অনলাইনে কথা বলার জন্যও আছে অনেক পদ্ধতি যেগুলো নিয়ে আলোচনা নাইবা করলাম। তো এনসারিং েমেশিন থাকে কিভাবে?

১২) ফ্যাক্স মেশিন (Fax Machine):

telecopying, telefax, fax যেভাবেই আমরা বলি এই মেশিনটির সাথে আমরা কমবেশি পরিচিত। স্কটিশ মেকানিক Alexandar Bain ১৮৪৩ সালে ফ্যাক্স মেশিন আবিস্কার করেন। সম্পুর্ন ডেভেলপ করার পর আমরা েইমেজ ও টেক্সট সম্বলিত কাগজ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় প্রিন্ট করা অবস্থায় খুব সহজেই পেয়ে যেতাম এ মেশিনের সাহায্যে। এই মেশিন তার কাজের সাহায্যে টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেমকে ব্যবহার করত। নিচের ছবিটি দেখুন-
পুরোপুরি না হলেও এ যন্ত্রটিও এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। শুধুমাত্র শহরভিত্তিক প্রয়োজন ছাড়া এটি আর এখন ব্যবহার হয়না বললেই চলে। এর একমাত্র কার ই-মেইল। ফ্যাক্স এর চাইতে কম খরছ, ঝামেলামুক্ত এবং অতি দ্রুততার সহিত তথ্য আদানপ্রদানের কারনে ই-মেইল দখল করে নিয়েছে ফ্যাক্স এর স্থান। একসময় এই ফ্যাক্স মেশিন হয়ে যাবে ইতিহাস।

১৩) টেলিটেক্সট (Teletext):

Teletext or broadcasting teletext হচ্ছে টেলিভিশনে তথ্য আহরন সেবা। ১৯৭০ সালের শুরুতে যুক্তরাজ্যে John Adams নামক একজন ডিজাইনার এটি প্রথম তৈরি করেন।সঠিকভাবে সজ্জিত টেলিভিশনের পর্দায় টেক্সট ও ছবি পাঠিয়ে প্রদর্শন করাটাই টেলিটেক্সট এর কাজ।প্রথম প্রথম সংবাদ, টিভি প্র্রোগ্রাম সিডিউল ও আবহাওয়ার সংবাদ প্রচার হত।বিবিসি কর্তৃক ১৯৭৩ সালে প্রথম টেলিট্রান্সমিশন করা হয়।নিচের চিত্রটি দেখুন-
তবে যখন ডিজিটাল টেলিভিশন পুরোপুরি আবিস্কার হয় তখন থেকে এই মেশিনটির বিলুপ্তি ঘটে। আর কখনই দেখা যায়নি এই যন্ত্রটিকে।

১৪) ক্রয় করে সংবাদপত্র (Newspaper) পড়া:

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে ৮ম শতকে চীনের একজন নাগরিক Kaiyuan Za Bao সংবাদপত্র আবিস্কার করেন। সংবাদপত্রের প্রয়োজনীয়তা আমরা স্কুল পর্যায়েই পড়েছি। তাই এর প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করলামনা। সংবাদপত্র কাগজেই ছাপানো হত।চিত্রটি দেখুন-
কিন্তু কাগজে ছাপানো খবরের কাগজের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কারন সমুহের মধ্যে আছে কাগজের অপ্রতুলতা আর ইন্টারনেটের প্রসার। এখন প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করন রয়েছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একটু বলি হকারের কাছ থেকে ২৫০ টাকার বিনিময়ে ১ মাসের পত্রিকা পাওয়া যায়। পত্রিকা পাচ্ছেন ১টি। আর অনলাইনে ২৫০ টাকা খরছ করলে আপনি সারা বিশ্বের যতগুলো পত্রিকা আছে সব পড়তে পারবেন। তো কেন ক্রয় করে সংবাদপত্র পড়তে যাবেন। এভাবে একদিন আসতে খুব দেরি নেই যেদিন কাগজে ছাপানো খবরের কাগজ একবারে বিলীন হয়ে যাবে।
১৫) PDA (Personal Digital Assistant):
এটিকে Palmtop computer or personal data assistant বলা যেতে পারে। এটি একটি মোবাইর ডিভাইস।ইলেকট্রনিক ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লে সম্বলিত এ স্মার্টফোন সদৃশ ডিভাইসে ইন্টারনেট কানেকশান দেয়ার ব্যবস্থা আছে।ওয়াইফাই এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার ব্যবস্থা আছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডিসপ্লে টাচ স্ক্রীন হয়।
১৯৮৪ সালে এটি প্রথম রিলিজ হয়। ১৯৯২ সালে এটি প্রথম ব্যবহার করেন অ্যাপল কম্পিউটারের সিইও। তবে বর্তমানে অত্যাধুনিক স্মার্ট ফোন আব্কিারের ফলে এর ব্যবহার কমে গেছে বললেই চলে। আর এভাবে চললে একদিন হয়ত পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে এটিকে।
আজ আর নয়। পুরো লেখাটি তথ্যমূলক। ছোটখাটো কোন তথ্যভ্রম থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। সম্পাদনা করা হবে। ভালো লাগলে লাইক ও শেয়ার করতে ভুলবেননা। পুরো লেখাটি কেমন হলো তা জানিয়ে মতামত দিন। আরও সুন্দর লেখা নিয়ে আসছি আবারও .............ততক্ষন অপেক্ষায় থাকুন।

Thursday, 13 June 2019

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কি? ডিশ এন্টেনা থেকে কীভাবে ইন্টারনেট সম্ভব হয়? স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড এর সুবিধা, অসুবিধা।

কাশ থেকে সর্বদা এক অক্লান্ত চোখে আমাদের প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ডের উপর নজর রাখা, এমন এক কম্পাস সুবিধা যাতে পৃথিবীর যেকোনো স্থান খুঁজে পাওয়া, যেকোনো রেডিও সিগন্যাল প্রতিফলিত করে আবার পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেওয়া—এই তিনটি প্রধান কাজ স্যাটেলাইট আমাদের জন্য করে থাকে। খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে এই শতশত স্যাটেলাইট গুলোকে হয়তো খালি চোখে দেখতে পাবেন না, কিন্তু টিভি ব্রডকাস্ট থেকে শুরু করে আন্তর্মহাদেশীয় টেলিফোন কল, আবহাওয়া বার্তা এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিচালনা করতে স্যাটেলাইট গুলো দিনরাত কাজ করেই চলছে। আজকে স্যাটেলাইটের অন্যান্য কাজ গুলো নিয়ে আলোচনা করবো না, আজ জানবো স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সম্পর্কে—এটি কীভাবে কাজ করে, এটি কতটা উপযোগী, এর সুবিধা অসুবিধা ইত্যাদি সম্পর্কে।

স্যাটেলাইট কি?

স্যাটেলাইট মানেই যে কোন রকেট হবে আর তাতে এক গাঁদা যন্ত্রপাতি বসানো থাকবে, এমনটা কিন্তু নয়। স্যাটেলাইটের সাধারন অর্থ এর চেয়েও সাধারন—একটি ছোট স্পেস অবজেক্ট যদি কোন বড় অবজেক্টকে কেন্দ্রকে লাগাতার কোন কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে তবে সেটিকে স্যাটেলাইট বলা হয়। যেমন চাঁদ হলো পৃথিবীর প্রকৃত স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ, কারন পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি একে পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ করতে বাধ্য করে রেখেছে। আকাশে রকেটে করে ছেঁড়ে দেওয়া স্যাটেলাইট, যেগুলোকে আমরা প্রকৃত স্যাটেলাইট হিসেবে চিনি, সেগুলো আসলে আর্টিফিশিয়াল (মানুষের তৈরি) স্যাটেলাইট বা কৃত্তিম উপগ্রহ, এবং এগুলো একটি গননা করা পথে অবিরত প্রদক্ষিন করে। এটি বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার পথে এবং পৃথিবী থেকে বিভিন্ন দূরত্বে প্রদক্ষিন করতে পারে। সাধারনত এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরে অবস্থিত থাকে।
মহাকাশে আমাদের স্যাটেলাইট ছেঁড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, পৃথিবীর বিভিন্ন ভৌগলিক সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানা—এটি আমাদের এই পৃথিবীর উপর থেকে পৃথিবীর দিকে নজর রাখতে সাহায্য করেছে, এর ফলে আমরা জীবনের বৃত্তান্ত সম্পর্কে জেনেছি। মহাকাশে বিভিন্ন প্রকারের স্যাটেলাইট ছেঁড়ে দেওয়া রয়েছে। এদের কোন কোন গুলো আবহাওয়া তথ্য সরবরাহ করে, কোন গুলো ন্যাভিগেশন যেমন জিপিএস ডাটা সরবরাহ করে আবার কোন গুলো কমুনিকেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়। স্যাটেলাইট ফোন কল বা স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, কমুনিকেশন স্যাটেলাইটের বদৌলতে সম্ভব হয়ে থাকে। কমুনিকেশন স্যাটেলাইট অনেকটা আয়না বা দর্পণের মতো কাজ করে—এটি পৃথিবী থেকে আসা সিগন্যালকে প্রতিফলিত করে আবার পৃথিবীতেই পাঠিয়ে দেয়। মনেকরুন আপনি গভীর জঙ্গল বা পাহাড়ি এলাকা থেকে ফোন করতে চান, সেখানে অবশ্যই সাধারন ফোন কাজ করবে না, কেনোনা সেলফোন টাওয়ার সিগন্যাল পাওয়া যাবে না—আপনি স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে কল করতে পারেন। এতে আপনার ফোন থেকে একটি সিগন্যাল কমুনিকেশন স্যাটেলাইটের কাছে যাবে এবং সেই সিগন্যাল প্রতিফলিত হয়ে এর গন্তব্যে মানে পৃথিবীতে ফিরে আসবে।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট

কমুনিকেশন স্যাটেলাইট ব্যবহার করে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে রেডিও সিগন্যালকে পাঠানো হয়। আর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট অনেকটা এভাবেই কাজ করে। পৃথিবীর কোন এক প্রান্ত থেকে কোন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার ইন্টারনেট ডিজিটাল রেডিও সিগন্যালকে স্যাটেলাইটের দিকে ছুড়ে মারে (স্যাটেলাইট ডিশ এন্টেনা থেকে), সেই সিগন্যালকে স্যাটেলাইট গ্রহন করে এবং সিগন্যালকে আরো শক্তিশালি বানিয়ে আবার পৃথিবীর দিকে ছুড়ে মারে, এবার দ্বিতীয় ডিশ এন্টেনা সেই সিগন্যাল গ্রহন করে এবং আপনি ইন্টারনেট উপভোগ করতে পারেন। স্যাটেলাইট রেডিও সিগন্যালে প্রায় যেকোনো ধরনের তথ্য আদান প্রদান করানো সম্ভব, যেমন ইন্টারনেট সিগন্যাল, সেলফোন কল, টিভি ব্রডকাস্ট সিগন্যাল, রেডিও ব্রডকাস্ট সিগন্যাল ইত্যাদি।
চিত্র– স্যাটেলাইট ইন্টারনেট যেভাবে কাজ করে, ক্রেডিট– Internetanywhere
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এবং ল্যান্ডলাইন ইন্টারনেট বা মোবাইল ইন্টারনেটের মধ্যে খুব একটা বেশি পার্থক্য নেই। ল্যান্ডলাইন ইন্টারনেট বা ব্রডব্যান্ড কানেকশনে আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডারের কাছ থেকে একটি তার এসে সরাসরি আপনার রাউটার বা কম্পিউটারে সংযুক্ত হয়। এই তারটি সাধারনত পুরাতন কপার বা অপটিক্যাল ফাইবারের হয়ে থাকে—যা সচরাচর আপনার ইন্টারনেট ডাটা বা ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে থাকে। আবার মোবাইল ব্রডব্যান্ডে ইন্টারনেট সিগন্যালকে সেলফোন টাওয়ারের মাধ্যমে আপনার ফোনে বা মডেমে পৌছিয়ে দেওয়া হয়, এবং প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে ইন্টারনেট ডাটা সরবরাহ করানো হয়।


স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এর ক্ষেত্রেও কোন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার থাকার প্রয়োজন পড়ে, তারা ইন্টারনেট সিগন্যালকে ডিশ এন্টেনা বা স্যাটেলাইট এন্টেনার সাহায্যে স্যাটেলাইটে পৌছিয়ে দেয় এবং সেই সিগন্যাল স্যাটেলাইট থেকে প্রতিফলিত হয়ে আপনার বাড়িতে লাগানো ডিশ এন্টেনাতে রিসিভ হয় এবং এই সম্পূর্ণ প্রসেসটি আলোর গতিতে সম্পূর্ণ হয়।
এখানে একটি জিনিষ মাথায় রাখা প্রয়োজনীয় যে, অনেকে মনে করেন স্যাটেলাইট টিভি সিগন্যাল থেকে ইন্টারনেট পাওয়া সম্ভব এবং এতে কোন বাড়তি খরচের প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ, টেকনিক্যালি এটি সম্ভব, তবে এতে প্রপার হার্ডওয়্যার এবং ডিভাইজের প্রয়োজন, তাছাড়া আপনার ডিশ প্রভাইডার যেকোনো সময় আপনাকে ব্যান করতে পারে। তবে প্রপারলি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে আপনাকে অবশ্যই কোন স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রভাইডারের কাছ থেকে সেবা নিতে হবে, কারন এই ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য পরিপূর্ণ সিস্টেম সেটআপ থাকা প্রয়োজনীয়। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সম্পূর্ণ করতে ৩টি স্যাটেলাইট ডিশ এন্টেনার প্রয়োজন পড়ে—একটিকে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার ব্যবহার করে সিগন্যাল পাঠায় (এটিকে প্রভাইডার হাব বলা হয়), আরেকটি স্পেসে থাকে এবং সর্বশেষটি আপনার বাড়িতে লাগানো থাকে যা সিগন্যাল রিসিভ করে।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কীভাবে কাজ করে?

আগেই বলেছি, ইন্টারনেট ডাটা সহ টিভি, কল ইত্যাদি যেকোনো রেডিও সিগন্যালকে স্যাটেলাইট ব্যবহার করে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পৌঁছানো সম্ভব। স্যাটেলাইট ব্যবহার করে আপনি যেকোনো রেডিও সিগন্যাল পাঠাতে চান না কেন, এতে তিনটি স্টেপ সম্পূর্ণ করার প্রয়োজন হয়। প্রথমত কাজ করে আপলিঙ্ক, এটি পৃথিবীতে অবস্থিত সার্ভিস প্রভাইডারের ডিশ এন্টেনা থেকে ইন্টারনেট সিগন্যাল স্যাটেলাইটের দিকে ছুড়ে মারে, পরবর্তীতে এই সিগন্যালকে স্যাটেলাইট রিসিভ করে এবং রেডিও রিসিভার, এমপ্লিফায়ার, এবং ট্রান্সমিটার ব্যবহার করে প্রসেসিং করে। এই প্রসেসিং এর মাধ্যমে সিগন্যালটির শক্তি বৃদ্ধি করানো হয় এবং এর ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়—যাতে স্যাটেলাইটে রিসিভ হওয়া সিগন্যাল এবং স্যাটেলাইট থেকে পাঠানো সিগন্যালের মধ্যে গণ্ডগোল না পাকিয়ে যায়। একটি স্যাটেলাইটে অনেক রেডিও রিসিভার, এমপ্লিফায়ার, এবং ট্রান্সমিটার লাগানো থাকে, যাতে এটি একসাথে অনেক সার্ভিস প্রভাইডার থেকে সিগন্যাল রিসিভ করতে পারে এবং তা একই সময়ে অনেক সিগন্যাল পৃথিবীতে ফেরত পাঠাতে পারে।
এবং পরিশেষে থাকে ডাউনলিঙ্ক, যা পৃথিবীর বুকে অবস্থিত আরেকটি স্যাটেলাইট ডিশ এন্টেনা, সাধারনত আপনার বাড়িতে লাগানো থাকে। একটি আপলিঙ্কের পেছনে মিলিয়ন ডাউনলিঙ্ক থাকতে পারে। যেমন— একটি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডারের যদি ১ মিলিয়ন গ্রাহক থাকে তবে এখানে একটি আপলিঙ্ক থেকে ১ মিলিয়ন ডাউনলিঙ্ক থাকবে। স্যাটেলাইট মূলত আপলিঙ্ক থেকে ডাউনলিঙ্কে লাগাতার ডাটা সরবরাহ করেই চলে। আপনার স্যাটেলাইট ডিশের সাথে কিছু ক্যাবল, রাউটার বা মোডেম লাগিয়ে রিসিভ হওয়া সিগন্যাল থেকে প্রপার ইন্টারনেট পাওয়া সম্ভব হয়।

কেন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন?

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করার একমাত্র কারন হতে পারে, যদি আপনি এমন কোন স্থানে বাস করেন যেখানে ক্যাবল বা ডিএসএল নির্ভর ব্রডব্যান্ড বা মোবাইল ব্রডব্যান্ড লভ্য নয়। যদি আপনার গ্রাম থেকে ২জি ইন্টারনেট চালাতে হয়, তবে আপনার জন্য স্যাটেলাইট ইন্টারনেট আদর্শ হতে পারে, কারন এটি অনেক দ্রুতগতির হয়ে থাকে।
আসলে এটুকুতেই স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করার কারন সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে না, চলুন এটি ব্যবহারের সুবিধা এবং অসুবিধা সমূহ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক…

সুবিধা—

  • স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ডায়ালআপ কানেকশন থেকে অনেকবেশি ফাস্ট, যদি এটি নির্ভর করে আপনি কোন স্পীড প্যাকেজটি কিনেছেন, তারপরেও এই ইন্টারনেট থেকে আপনি ১০ থেকে ৩৫ গুন বেশি স্পীড পাবেন ডায়ালআপ কানেকশনের তুলনায়।
  • স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট হাই ব্যান্ডউইথ নিয়ন্ত্রন করতে পারে, ফলে একত্রে অনেক ব্যবহারকারী একসাথে ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও ইন্টারনেট স্পীড নিয়ে সমস্যা হবে না।
  • এই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে কোন ফোন লাইনের প্রয়োজন নেই।

অসুবিধা—

  • খারাপ আবহাওয়ার জন্য ইন্টারনেট কানেকশন কোয়ালিটি খারাপ হয়ে যেতে পারে, এতে স্পীড কমে যেতে পারে।
  • স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে লেটেন্সি বা পিং রেট অনেক বেশি হয়, পিং হলো আপনার কম্পিউটার থেকে ইন্টারনেট সার্ভার কানেক্ট হতে কতো সময় লাগে তার পরিমাপ। যেহেতু এখানে আপনার সকল ডাটা আইএসপি পর্যন্ত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যায়—অর্থাৎ আপনি কিছু রিকোয়েস্ট করলে সেটি প্রথমে স্যাটেলাইটের কাছে যায় তারপর স্যাটেলাইট থেকে আপনার আইএসপি এর কাছে যায়, আবার আইএসপি থেকে একইভাবে ডাটা আপনার কাছে আসে, ফলে এতে কিছু সময় লেগে যায়। তাই স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে পিং রেট অনেক বেশি হয়, ফলে এটি অনলাইন গেমিং বা দ্রুত রেসপন্সের জন্য আদর্শ নয়। তবে একবার সার্ভারের সাথে কানেক্ট হয়ে গেলে হাই রেটে ব্যান্ডউইথ ট্র্যান্সফার করতে পারে।
  • আপনার স্যাটেলাইট ডিশের সামনে সামান্য কোন বাঁধা সিগন্যাল কোয়ালিটি খারাপ করে দিতে পারে, আপনার বাড়ির পাশে যদি বড় বড় গাছ থাকে তবে সিগন্যাল খারাপ হতে পারে, তাছাড়া আপনার এন্টেনাকে সর্বদা দক্ষিণদিকে পয়েন্ট করে রাখার প্রয়োজন পড়বে।
  • স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে ঠিকঠাক মতো ভিপিএন ব্যবহার করতে পারবেন না, ভিপিএন ব্যবহারে কম পিং-রেট প্রয়োজন।
  • সবচাইতে বড় সমস্যা হলো, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট অনেক ব্যয়বহুল হয়ে থাকে, ১-২ এমবিপিএস কানেকশনের জন্য ৮,০০০ টাকা প্রতিমাস খরচ পড়ে যেতে পারে। আবার প্রতিমাসে বেশি ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করলে আপনার আইএসপি ফেয়ার ইউজ পলিসি চালু করে দেবে (ইন্টারনেট স্পীড কমিয়ে দেবে)। এই ব্রডব্যান্ডের খরচে কমপক্ষে ৩০ গুন বেশি গতি সম্পন্ন ল্যান্ডলাইন ব্রডব্যান্ড পাওয়া সম্ভব।

শেষ কথা

গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট আপনার জন্য সুবিধা জনক হতে পারে, কিন্তু এর সুবিধার চেয়ে অসুবিধায় বেশি। বিশেষকরে এর মূল্য একদম আকাশ ছোঁয়া। যাদের যে কোন স্থানে হাই ব্যান্ডউইথ এর প্রয়োজন পড়ে (যেমন টিভি রিপোর্টারদের) তারা স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। আমার মতে এই ইন্টারনেট ঠিক তখনই ব্যবহার করা উচিৎ, যখন আপনার কাছে সত্যিই আর কোন অপশন থাকবে না।
আশা করছি আজকের পোস্টটি পড়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পেড়েছেন। তো আপনি কি কখনো স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন, বা ব্যবহার করতে ইচ্ছুক? নিচে কমেন্টে আপনার মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করুন।
সম্পূর্ণ ক্রেডিট- Techubs.Net

Monday, 27 May 2019

মঙ্গল গ্রহে যেতে চান? চাইলে আপনার নামটি পাঠিয়ে দিতে পারেন মঙ্গল গ্রহে!

মঙ্গল গ্রহে যেতে চান? ফেইক না, সত্যি ভাই..
হ্যা চাইলে আপনার নামটি পাঠিয়ে দিতে পারেন মঙ্গল গ্রহে!
মার্স ২০২০ রোভারে করে পাঠানো হবে রেজিষ্ট্রেশন করা ব্যক্তিদের নাম।
এর আগেও নাসা দুবার এধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলো, এর আগে মার্স ইনসাইট নামক নভোজানে করে প্রায় ২৪ লাখ ২৯ হাজার ৮০৭ জন পৃথিবীবাসীর নাম পাঠানো হয়েছিলো, এর মাঝে ১৫ জন বাংলাদেশীর নামও রয়েছে।
এতে আপনি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন না, তবে ২২৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরের একটি গ্রহে আপনার নাম আছে এটা ভেবে একটু হলেও পুলকিত বোধ করবেন।
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া একদম সহজ।

"নাসার ওয়েবসাইট" এ গিয়ে আপনার নাম, দেশের নাম, ইমেইল এড্রেস, আর পোষ্টাল কোড দিয়ে Send My Name to Mars এ ক্লিক করলেই কাজ শেষ।


 মার্স ২০২০ রোভারের ভার্চুয়াল যাত্রী হিসেবে আপনাকে একটি ভার্চুয়াল টিকিট দেয়া হবে। আমার টিকেটটি ☆
নাসা সবসময় এমন সুযোগ দেয় না, সুযোগ থাকতে মঙ্গল গ্রহের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করুন, হয়ে যান মার্সিয়ান।
শুভকামনা রইল সবার প্রতি।


Tuesday, 21 May 2019

গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য কেমন কনফিগারেশন এর ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ নিবেন দেখুন


গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য ভাল কম্পিউটার কনফিগারেশন কি? ল্যাপটপ নাকি ডেক্সটপ কিনবো? কত দামি কম্পিউটার লাগবে গ্রাফিক ডিজাইন করতে? গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্যে কেমন ধরনের কম্পিউটার কিনলে ভালো হবে? যা দিয়ে গ্রাফিক্সের সকল কাজ করা যাবে। বাজেট কত হলে ভালো হবে? কোন ব্রান্ডের ল্যাপটপ নিলে ভালো হবে মুটামটি কম দামের ভিতরে? ডেস্কটপ হলে ভাল হবে নাকি ল্যাপটপ? আর কি কি কনফিগারেশন বা স্পেসিফিকেশন থাকলে ভাল হয়?
বর্তমানে যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে ফ্রিল্যান্সিং করছেন বা করতে চান তাদের কয়েকটি কমন প্রশ্ন এগুলো।
গ্রাফিক ডিজাইন যারা শিখছেন, অথবা শিখার পর কাজ করার চেষ্টা করছেন, তারা অনেকেই দ্বিধার মধ্যে থাকে যে কি ধরনের কম্পিউটার দিয়ে কাজ করলে ভাল হয়, যাদের কম্পিউটার নেই যারা কম্পিউটার কিনবে তারাও হয়ত বুঝতে পারে না, কি রকম কম্পিউটার কিনলে আসলে ভাল হয়। কত দামের কম্পিউটার কিনলে প্রোফেসনাল গ্রাফিক ডিজাইন এর কাজ করা যাবে। অনেকেই পুরাতন কম্পিউটার আপগ্রেড করতে চান। আশা করছি এই লেখাটা তাদের উপকারে আসবে। নিচে গ্রাফিক ডিজাইন কাজের জন্য উপযুক্ত কম্পিউটার এর বিভিন্ন পার্টস এর মান এবং মূল্য এর একটি ধারনা দেয়া হল:

মাদারবোর্ডঃ

অনেক কোম্পানির মাদারবোর্ড রয়েছে তবে এর মধ্যে গিগাবাইট এর মাদারবোর্ড অপেক্ষাকৃত ভাল। গিগাবাইটের ২৫০০ টাকা থেকে ৫০০০০ টাকার মাদারবোর্ড রয়েছে। আপনি যেহেতু 2D গ্রাফিক্স এর কাজ করবেন, তাই সাধারণত ৭০০০ থেকে ১৫০০০ এর মধে ভাল মানের মাদার বোর্ড পেয়ে যাবেন। আর 3D গ্রাফিক্স এনিমেশনের কাজ করলে আরো দামী মাদারবোর্ড নিতে পারেন। মাদার বোর্ড আপনাকে প্রসেসর এর সাথে মিল রেখে কিনতে হবে, আপনি যদি ইন্টেল এর প্রসেসর ব্যবহার করেন তাহলে ইন্টেল এর মাদার বোর্ড ব্যবহার করবেন।



প্রসেসরঃ

গ্রাফিক্সের কাজের জন্য প্রসেসর ও হতে হবে ভাল মানের। সাধারনত বাংলাদেশে মানুষজন Intel অথবা AMD প্রসেসর ব্যবহার করে। এর মধ্যে Intel ভাল, আপনি Intel core i5 / Intel core i7 প্রসেসর কিনতে পারেন। প্রসেসর কেনার ক্ষেত্রে Processor Generation & GHz দেখে কিনবেন। যখন পিসি কিনবেন তখনকার সময়ের Generation বা তার কাছাকাছি জেনারেশন এর প্রসেসর কিনবেন। যেমন বর্তমানে 7th Generation এর প্রসেসর পাওয়া যায়। গ্রাফিক ডিজাইন করার জন্য প্রসেসর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। প্রসেসর কম্পিউটার এর বেশির ভাগ কাজ পরিচালনা করে। আপনার কম্পিউটারের প্রসেসর যদি কম হয় তাহলে আপনি যখন অনেকগুলি ফাইল বা প্রোগ্রাম একসাথে ওপেন করে কাজ করতে চান তাহলে কম্পিউটার এর গতি কমে আসবে, এবং কম্পিউটার হ্যাং ও করতে পারে তবে মনে রাখবেন অনেক ভাল প্রসেসর অনেক দাম পড়ে যাবে তাই প্রথমে র‍্যাম এর ব্যাপারটি নিশ্চিত করে প্রসেসর এর ব্যাপার এ সিদ্ধান্ত নিন।

র‌্যামঃ

র‍্যামকে গুরুত্ব দিন প্রসেসর এর থেকেও বেশি। তবে ভাল মানের প্রসেসর এর কার্যক্ষমতা বাড়াতে তার প্রধান মেমরী বা র‌্যাম যত বেশি হবে তত কম সময়ে প্রসেসিং হবে। গ্রাফিক ডিজাইন এ ফটোশপ অনেক জনপ্রিয় একটা সফটওয়্যার আর ফটোশপ চালাতে মেমরি বেশি প্রয়োজন হয়। তাই আপনি যদি বেশি করে র‍্যাম নিয়ে লাগান তাহলে খরচ কম পড়বে। ফটোশপ সব সময় অনেক ডাটা নিয়ে কাজ করে আর এই ডাটাগুলো কম্পিউটার র‍্যাম এ জমা থাকে তাই র‍্যাম এর স্পেস বেশি থাকা প্রয়োজন। আপনি যখন অনেক বড় বড় ফাইল নিয়ে কাজ করবেন যেমন আপনার বায়ার আপনাকে এমন ও ছবি দিবে যেগুলির এক একটার সাইজ ৫০ মেগা থেকে শুরু করে ১৫০ মেগাবাইট পর্যন্ত অথবা তার ও বেশি হতে পারে, তারপর আপনি যখন সেই ছবি এডিটিং করা শুরু করবেন সেখানে আরও কিছু উপাদান যোগ হলে আপনার মেগা বাইট এর পরিমান আরও বেড়ে যাবে আর আপনার র‍্যাম যদি কম হয় তাহলে প্রোগ্রাম হয়ে যাবে স্লো, সেটা আপনার এবং বায়ার কারো জন্য ভাল হবে না। তাই আমি বলবো কাজের উপর নির্ভর করে আপনার র‍্যাম ৮-১৬ গিগাবাইট এর মধ্যে নেয়ার চেষ্টা করেন।
আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আপনি যদি উইন্ডোজ এর ৬৪ বিট ব্যবহার করেন আর ফটোশপ ও ৬৪ বিট এ ইন্সটল না করেন তাহলে বেশি র‍্যাম আপনার কম্পিউটারে কোন কাজে আসবে না। ৮ GB র‍্যাম 4000-4500 মধ্যে ভাল ব্রান্ড এর র‍্যাম পাবেন আপনি যদি মনে করেন আপনি ১৬ গিগাবাইট ব্যবহার করবেন সে ক্ষেত্রে আপনি ৮ গিগাবাইট এর দুইটি র‍্যাম একসাথে ব্যবহার করতে পারেন। কোর সিরিজের প্রসেসর আর ৪ জিবির উপর র‍্যাম থাকলে কাজে দারুন গতি আসে।
একটা বেশী আরেকটা কম হলে কাজ ঠিকমত হবে না, কাজের জন্য দুটোর মিলবন্ধন দরকার। আর গ্রাফিক্স কার্ড(জিপিইউ) খুব গুরুত্বপুর্ণ যদি থ্রিডি বা অন্য কোন চাপের কাজ করতে চান। মনে রাখবেন CORE i3 +8GB RAM is surely better than CORE i7+4 GB RAM। সবসময় RAM বেশি নেওয়ার চেষ্টা করবেন সম্পূর্ণ configuration অনুযায়ী।
বাজারে অনেক কোম্পানির র‌্যাম পাওয়া যায় আপনি Twinmos / Apacer / A Data কোম্পানির DDR3/DDR4 ভার্সনের ৮ জিবি র‌্যাম নিতে পারেন।

হার্ডডিস্কঃ

1TB Harddisk নিতে পারেন। আপনি হার্ডডিস্ক যতই নেন না কেন C ড্রাইভের জন্য ১২০/১২৮ GB SSD হার্ডডিস্ক নিবেন, কম্পিউটার কয়েক গুন বেশী ফাস্টার/দ্রতগতী হবে।

মনিটরঃ

মনিটর 22″ হলে ভাল হবে। Dell/HP/Asus ব্রান্ড মনিটর নিলে ভাল হবে। বর্তমানের বেশিরভাগ গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা Dell S2218H 21.5 Inch Full HD LED Borderless ব্যবহার করে। এটি ১০, ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

গ্রাফিক্স কার্ডঃ

আপনার বাজেট ভাল হলে আপনি আলাদা ভাবে গ্রাফিক কার্ড লাগাতে পারেন কিন্তু গ্রাফিক্স কার্ড বেশ দামি তাই আমি বলবো আপনি থ্রিডি এনিমেশন অথবা ভিডিও এডিটিং এর দিকে না গেলে মাদার বোর্ড এর সাথে যে গ্রাফিক কার্ড থাকে সেটাই যথেষ্ট। তবে আপনি যদি আলাদা গ্রাফিক কার্ড লাগাতে চান তাহলে বলবো আপনি OpenCL capable GPU, CUDA cores দরকারি নয়। অ্যাডোব CS6 Mercury ইঞ্জিন নিয়ে এসছে যেটা OpenGL and OpenCL এর কাজ করে। তাই nVidia কার্ড সাথে CUDA cores দরকার নেই।

কম্পিউটর মনিটর:

আপনি বেশি স্পেস এর র‍্যাম নিলেন, ভাল মানের প্রসেসর নিলেন, ভাল মানের গ্রাফিক কার্ড নিলেন কিন্তু দেখা গেল আপনার মনিটর এর মান ভাল না তাহলে আসলে কোন লাভ নেই। তাই ভাল কালার সিস্টেম এর মনিটর মিনিমাম ১৯২০x১২০০ পিক্সেল ডাইমেনশন। ২১-২৪ ইঞ্চি সাইজ। কালার কেলিব্রাটর সেট আপ করে নিন যদি আপনি প্রিন্ট ডিজাইন এর কাজ করেন, কারন অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আপনি মনিটর এ যে কালার দেখছেন প্রিন্ট করার পর সে রকম কালার পাওয়া যায় না। আপনি মার্কেট এ অনেক ব্রান্ড ই মনিটর পাবেন, ভাল হয় ২১-২৪ ইঞ্চি এর মধ্যে মনিটর ব্যবহার করলে কিন্তু সাইজ এর থেকে ও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল কালার এর ব্যাপারটি। আপনি Samsang অথবা Dell এর মধ্যে ১০-১২ হাজার টাকায় চমৎকার HD monitor পেয়ে যাবেন।

কিবোর্ড/মাউস:

লংটাইম ব্যবহারের জন্য A4 Tech কিবোর্ড ও মাউস ভাল হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায় আপনি যদি ৩০-৩৫ হাজার টাকার মধ্যে গ্রাফিক ডিজাইন এর জন্য পারফেক্ট একটা পরিপূর্ণ কম্পিউটার পেতে পারেন। আর আপনি যদি আপগ্রেড করতে চান তাহলে ১৫-২০ হাজার টাকার মধ্যে আপনি আপগ্রেড করাতে পারবেন।
কম্পিউটার কেনার আগে ঠিক করে নিন আপনার কাজের ক্ষেত্র আপনি যখন নতুন কম্পিউটার কিনবেন অথবা কম্পিউটার আপগ্রেড করবেন আমার মতে আপনি আগে বের করুন আপনি গ্রাফিক ডিজাইন কোন কাজ এর জন্য করবেন। আপনি যদি মাত্র গ্রাফিক ডিজাইন শুরু করে থাকেন অথবা শুরু করবেন ভাবছেন তাহলে আপনার যদি কম্পিউটার থাকে তাহলে যেটা আছে সেটা দিয়ে এই শুরু করতে পারবেন সেটা একদম সাধারন কম্পিউটার হলে ও সম্ভব। আপনি যখন সম্পূর্ণভাবে প্রফেশনালি শুরু করবেন তখন আপনাকে কম্পিউটার আপগ্রেড করতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে এমন ও না আপনার খুব উচ্চমানের কম্পিউটার লাগবে। আপনি ঠিক করেন আপনি কোন কাজটি করবেন আপনি যদি ফটোশপ এর কাজ করেন তাহলে আপনাকে ফটো এডিটিং এর কাজগুলি বেশি করতে হবে আর সে ক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটার এর মান অনেক ভাল হতে হবে আর আপনি যদি লোগো ডিজাইন, প্রিন্ট ডিজাইন এর কাজের কথা চিন্তা করেন তাহলে আপনাকে Adobe Illustrator অথবা Corel draw এর কাজ বেশি করতে হবে যার জন্য খুব উচ্চমানের কম্পিউটার প্রয়োজনীয় নয়।

ল্যাপটপ না ডেক্সটপ কিনবেন?

অনেকেই বলেন গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য ডেক্সটপ ভাল, আসলে এমন কোন কথা নেই যে ডেক্সটপ গ্রাফিক্স ডিজাইনের ল্যাপটপ ভাল না। আমার আসলে কম বাজেটের মধ্যে অনেক ভাল ডেক্সটপ কনফিগারেশন পেয়ে যাই তাই বলে থাকি ডেক্সটপ ভাল। যেমন একটি ভাল মানের ডেক্সটপ ৪০-৫০ হাজার দিয়ে নেয়া সম্ভব কিন্তু আমি যদি সেমই কনফিগারেশন ল্যাপটপ কিনতে চাই তাহলে ১ লাখের কাছাকাছি খরচ হবে, তাই আমরা এই মানের ল্যাপটপ না কিনে ডেস্কটপ কিনি তাই বলে থাকি গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য ডেক্সটপ ভাল।

আসলে দুটোরই অনেক ভালো-মন্দ বিষয় আছে। তবে আমার মতে গ্রাফিক্স ডিজাইনে স্পিডে কাজ করতে চাইলে ৬০ হাজার ৮০ হাজার বা এক লাখের মধ্যে ল্যাপটপ কেনেন বাজেট ৫০ হাজারের নিচে হলে ডেক্সটপ কেনেন। আপনি এই ডেস্কটপ দিয়ে ১ লাখ টাকার ল্যাপটপ এর স্পিড পাবেন। অনেক ফ্রিল্যান্স গ্রফিক্স ডিজাইনাররা MacBook Pro ব্যবহার করেন, আপনার বাজেট ভালো থাকলে অ্যাপল এর MacBook Pro কিনতে পারেন। এটা জেনারেল ডেস্কটপ থেকে বেশি ভাল পারফরম্যান্স দেয়। তার মানে আসল বিষয় হচ্ছে কনফিগারেশন।

Friday, 17 May 2019

এবার হাতের ইশারায় যেকোনো স্মার্ট ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ করুন

বর্তমানে প্রায় সকল স্মার্ট ডিভাইসগুলো একে একে টাচস্ক্রিণ ফিচারে চলে এসেছে। মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে এখন টিভি, ল্যাপটপের ডিসপ্লেগুলোতেও টাচ ফিচারটি আমরা দেখতে পাচ্ছি। আর এই টচ স্ক্রিণ ফিচারের সাহায্যে আমরা এখন যেকোনো স্মার্ট ডিভাইসকে সহজেই হাতের স্পর্শেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি। এটা হলো বর্তমান যুগের ফিচার। কিন্তু আজ আমি নিয়ে এলাম এমন একটি নতুন গ্যাজেট এর খবর নিয়ে যেটির ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি যেকোনো স্মার্ট ডিভাইসকে হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন কোনো প্রকার ছোঁয়া ছাড়াই! ৯৯ মার্কিন ডলারের এই গ্যাজেট এর নাম Bixi Touch-Free Smart Controller।
এটির মাধ্যমে আপনি যেকোনো স্মার্ট ডিভাইসকে আপনার হাতের ইশারায় In-air gestures এর মাধ্যমে কমান্ড সেন্ড করতে পারবেন। এটি গাড়ি চলানোর সময়, অফিসের কাজের ব্যস্ততার মাঝে কিংবা ঘরের কাজের মাঝে আপনার স্মার্ট ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণকে আরো সহজ করে দেবে। এটি সকল প্রকার অন-দ্যা-লাইন ডিভাইস এবং অ্যাপস যেমন LifX, Hue bulbs, Bluetooth speakers, GoPro সহ অনান্য সকল loT ডিভাইসগুলোকে সার্পোট করবে।

Bixi এর সাহায্যে আপনি সর্বোচ্চ দুটি অ্যাপস কিংবা ডিভাইসকে একই সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। সাইজে ছোট হওয়ায় ডিভাইসটিকে পকেটে নিয়েই আপনি সহজেই বহন করতে পারবেন।


এছাড়াও আপনি আপনার মোবাইলে এই ডিভাইসটিকে লাগিয়ে নিয়ে কল করা, কল কেটে দেওয়া, মেসেজ সেন্ড করা, জিপিএস এ কমান্ড দেওয়া, মিউজিক কন্ট্রোল, ভলিউম কনট্রোল, নোটিফিকেশন মিউট সহ বিভিন্ন কাজ করতে পারবেন মোবাইলে টাচ না করেই। আর সবথেকে মজার ব্যাপার হলো এটি চালানোর জন্য ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন নেই।

কারণ ডিভাইসটি Bluetooh 4.1 দিয়ে অনান্য স্মার্ট ডিভাইসে কানেক্টটেড থাকে আর আপনি সর্বোচ্চ ২০ মিটার পর্যন্ত রেঞ্জ পাবেন। ডিভাইসের নিজস্ব Bixi Remote App রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি ডিভাইসটি সহজেই সেটআপ করে নিতে পারবেন। এছাড়াও ডিভাইসটিতে রিচার্জেবল ব্যাটারি যা ফুর্ল চার্জে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। Bixi দিয়ে আপনি একই সাথে সবোর্চ্চ ৭টি Gestures সার্পোট পাবেন, আর বর্তমানে ৫ টি ভিন্ন রংয়ে আপনি Bixi কে কিনতে পারবেন। 

তো সেদিন আর বেশি দূরে নেই যেদিন আমরা আমাদের স্মার্ট ডিভাইসগুলোকে আমাদের ব্রেইনের মাধ্যমে চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কমান্ড দিতে পারবো! অপেক্ষায় রয়েছি আরো তথ্য প্রযুক্তির চমকের জন্য।

Thursday, 16 May 2019

ফ্রিল্যান্সিং হবে সহজ যদি থাকে স্বাধীন কার্ড

ফ্রিল্যান্সিং হবে সহজ, যদি থাকে "স্বাধীন" কার্ড

আপনার কষ্টার্জিত টাকা বৈধ উপায়ে দেশে আনতে পারবেন কারন BASIS এবং Bank Asia LTD মিলে এই Card বাংলাদেশ এ চালু করেছেন।







এই Card ব্যবহার করে Freelancer রা তাদের টাকা $ লেনদেন করতে পারবেন।
“স্বাধীন” কার্ডের সুবিধা :
ব্যাংক এশিয়া “স্বাধীন” মাস্টারকার্ড একটি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড। আপনি বাংলাদেশি “টাকা” এবং ইন্টারন্যাশনাল “USD” কারেন্সী তে লেনদেন করতে পারবেন।
ব্যক্তি এবং কোম্পানি উভয় নামে এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে।
অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার ৭০% পর্যন্ত “স্বাধীন” কার্ডে রেখে দেয়ার সুবিধা যার মাধ্যমে অনলাইন বা ই-কমার্স লেনদেন করার সুযোগ থাকছে।
কার্ড হোল্ডারদের জন্য বীমা সুবিধা থাকছে।
শতভাগ দেশিয় মুদ্রায় রূপান্তরের সুযোগ যার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ফ্রিল্যান্সারদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার পূর্ণ ব্যবহার ও বিনিয়োগ নিশ্চিত হবে।
দেশে এবং দেশের বাইরে ATM এবং POS মেশিনের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন এবং পেমেন্ট সুবিধা
ই-কর্মার্স এবং অনলাইনে সব ধরনের কেনাকাটা (বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক)
কার্ডে মাইক্রোচিপ সংযুক্ত থাকবে যা, ডাটা সিকিউরিটি এনশিওর করবে
টাকা জমা, পেমেন্ট আসা এবং টাকা উত্তোলন সহ প্রতিবার ট্রানজেকশনে ফ্রি SMS এলার্ট
২৪ ঘন্টা কল সেন্টার সার্ভিস


স্বাধীন কার্ড নেওার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র:
পূরণকৃত কার্ড আবেদন পত্র
জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স
TIN সার্টিফিকেট/ ট্যাক্স রিটার্ন কপি
দুই কপি রঙিন ছবি
কাজের আদেশ/ মার্কেট প্লেস ID নম্বর/ পেমেন্ট রিসিভ কপি/ ফ্রিলান্সিং নিশ্চিত করা কাগজ পত্র
স্বাধীন কার্ড এর Application Form Click Here

তৈরি করুন নিজস্ব ওয়েবসাইট বিনামূল্যে

ওয়েবসাইট বর্তমান প্রজন্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ওয়েবসাইটের কোনো বিকল্প নেই। একটি ওয়েবসাইট আপনার প্রতিষ্ঠানকে পরিচিত করাতে পারে সমগ্র বিশ্বের সাথে অন্য যে কোনো উপায়ের চেয়ে দ্রুত ও সহজে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই প্রজন্মে ওয়েবসাইটই পারে আপনার প্রতিষ্ঠানের তথ্যাদি সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ওয়েবসাইট। এসব সাইটের একেকটি একেক ধরনের উদ্দেশ্যে তৈরি। এগুলোর কোনোটা ব্যক্তিগত, কোনোটা প্রাতিষ্ঠানিক।

ইচ্ছা করলে আপনিও আপনার প্রতিষ্ঠানের কিংবা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। তবে আমরা জানি ওয়েবসাইট তৈরি করা একটি ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার। প্রথমে আপনার সাইটের জন্য প্রয়োজন হবে নিজস্ব নাম যাকে ডোমেইন বলা হয়ে থাকে। এই ডোমেইনটি আপনাকে কিনতে হবে। এখানেই শেষ নয়। ডোমেইন ক্রয়ের পর আপনাকে হোস্টিংয়ের জন্যও দ্বারস্থ হতে হবে বিভিন্ন কোম্পানির।
হোস্টিং হচ্ছে একটি জায়গা বা স্থান যেখানে আপনার সাইটের কন্টেন্ট যেমন ছবি, অডিও-ভিডিও ইত্যাদি সংরক্ষিত থাকে। এই হোস্টিংয়েও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যান। সর্বনিম্ন ২০ মেগাবাইট থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইজের হোস্টিং কিনতে পারবেন আপনি। ডোমেইন ও হোস্টিং পেলে তারপরই আপনি আপনার সাইট প্রকাশ করতে পারবেন।


কিন্তু ইন্টারনেটে এমন কিছু সেবাদাতা ওয়েবসাইট আছে যারা আপনাকে সহজেই ওয়েবসাইট তৈরির সুযোগ দেবে। ওয়েবসাইট তৈরিতে সাধারণত কোডিংয়ের প্রয়োজন হয় কিন্তু এসব সেবার মাধ্যমে আপনি কোনোপ্রকার কোডিং ছাড়াই আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। শুধু এতটুকুই নয়, এইসব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আপনাকে বিনামূল্যে সাইট তৈরি করার সুযোগও দেবে।
তবে সেসব সেবায় অবশ্য কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যেমন, আপনাকে সাবডোমেইন দেয়া হবে, আপনার সাইটে বিজ্ঞাপণ দেয়া হতে পারে ইত্যাদি। তো, আসুন জেনে নিই তেমন কিছু জনপ্রিয় ও বিখ্যাত সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কথা।

ফিফটি ওয়েবস (http://www.50webs.com/)

প্লেইন এইচটিএমএল দিয়ে তৈরি ওয়েবসাইট হোস্ট করার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নাম হচ্ছে ফিফটি ওয়েবস। ফিফটি ওয়েবসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে নো অ্যাডস বা কোনো বিজ্ঞাপণ না দেয়া। সাধারণ কোডিংয়ে তৈরি (যেমন ফ্রন্টপেজ ব্যবহার করে তৈরি ওয়েবসাইট) সাইট হোস্টিংয়ের জন্য অনন্য একটি সার্ভিস হচ্ছে ফিফটি ওয়েবস। ফিফটি ওয়েবসের প্রিমিয়াম ও ফ্রি উভয় ধরনের সেবাই আছে। যেহেতু আমরা বিনামূল্যে ওয়েবসাইট তৈরি করতে যাচ্ছি, তাই আসুন জেনে নিই ফিফটি ওয়েবসের ফ্রি ওয়েব হোস্টিং পরিকল্পনায় কী কী আছে।
ফিফটি ওয়েবস ব্যবহার করলে আপনি পাবেন সর্বোচ্চ ৬০ মেগাবাইট পর্যন্ত জায়গা। বিজ্ঞাপণমুক্ত পরিবেশে সাইট নির্মাণের সুবিধা প্রদানকারী এই সার্ভিসে আপনি আপনার ফাইল আপলোড করার জন্য পাবেন একটি এফটিপি অ্যাকাউন্ট যাতে এক্সেস নেয়া যাবে যে কোনো কম্পিউটার থেকে। আনলিমিটেড ব্যান্ডওয়াইডথ ও পপ-থ্রি সার্ভার ছাড়াও ফিফটি ওয়েবস ব্যবহারকারীরা পাবেন সহজ কন্ট্রোল প্যানেল ও ওয়েবভিত্তিক ফাইল ম্যানেজার।
এছাড়াও ছোটখাট সম্পাদনার জন্য রয়েছে বিখ্যাত এডিটর। এছাড়াও প্রতিটি অ্যাকাউন্টের সাথে পাবেন একটি করে ইমেইল অ্যাকাউন্ট। ফিফটি ওয়েবসে অ্যাকাউন্টের জন্য তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে ফ্রি প্ল্যানে সাইন আপ বাটনে ক্লিক করুন। তারপর ইউজ এ সাবডোমেইন এ টিক দিয়ে নেক্সট বাটনে ক্লিক করুন এবং প্রদর্শিত ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করুন। লক্ষ্য করুন, ফিফটি ওয়েবসে সাইট তৈরি করার পর আপনাকে একটি সাবডোমেইন দেয়া হবে। যেমন : http://yoursitename.50webs.com/
ফ্রি হোস্টিয়া (http://www.freehostia.com)
ফ্রি হোস্টিয়া হচ্ছে ডায়নামিক ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য অনন্য একটি সেবা। যারা ওয়েবসাইট তৈরিতে একটু অ্যাডভান্সড, যারা পিএইচপি দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান কিংবা যারা সিএমএস জুমলা, দ্রুপাল কিংবা ব্লগ ইঞ্জিন ওয়ার্ডপ্রেস, মুভেবল টাইপ ইত্যাদি ইন্সটল করে ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য ফ্রি হোস্টিয়া হচ্ছে পারফেক্ট একটি সার্ভিস। প্রায় সবধরণের সুবিধাসম্পন্ন এই সার্ভিসের আওতায় আপনি পাবেন একটি সাবডোমেইন ও ২৫০ মেগাবাইট জায়গা। কোনো সেটাপ ফি নেই এবং মাসিক ব্যান্ডওয়াইডথ হচ্ছে ৫ গিগাবাইট। সর্বোচ্চ দশটি সাবডোমেইন রেজিস্টার করতে পারবেন আপনি ফ্রি হোস্টিয়া ব্যবহার করে এবং একটি মাইএস.কিউ.এল ডাটাবেস পাবেন যার সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা হবে ১০ মেগাবাইট। পপ-থ্রি অ্যাকাউন্ট পাবেন তিনটি এবং এফটিপি অ্যাকাউন্ট পাবেন একটি।
এছাড়াও আপনি ফ্রি হোস্টিয়ার ব্যবহারবান্ধব ওয়েববেসড ফাইল ম্যানেজারও ব্যবহার করতে পারবেন সহজেই। ৯৯.৯% আপটাইমের গ্যারান্টিসহ ফ্রি হোস্টিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সেবা হচ্ছে ফ্রি স্ক্রিপ্ট ইন্সটলেশন। সাধারণত জুমলা বা ওয়ার্ডপ্রেস জাতীয় ইঞ্জিন ইন্সটল করতে হলে আপনাকে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে মূল ফাইলটি ডাউনলোড করতে হবে এবং ডিকম্প্রেস করার পর এফটিপি ক্লায়েন্স ব্যবহার করে আবার তা আপলোড করতে হবে আপনার এফটিপিতে। কিন্তু ফ্রি হোস্টিয়া ব্যবহারকারীদের এই ঝামেলা নেই। একটি ক্লিকের বিনিময়েই আপনি বিখ্যাত ব্লগ ইঞ্জিন ওয়ার্ডপ্রেস, টেক্সটপ্যাটার্ন, মুভেবল টাইপ, বি২ইভ্যুলেশন ইত্যাদি, সিএমএস জুমলা, দ্রুপাল, ওপেন রিয়েলটি, নিউক্লিয়াস ইত্যাদিসহ প্রায় ৩৪টি বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিন ইন্সটল করতে পারবেন।


ফ্রিহোস্টিয়ায় ওয়েব হোস্ট করলে আপনার সাইটে কোনো বিজ্ঞাপণ প্রদর্শন করা হবে না। ফ্রিহোস্টিয়ায় আপনি ফিফটি ওয়েবসের মতই সাবডোমেইন পাবেন। আপনার সাবডোমেইন হবে এরকম: http://aisajib.freehostia.com।
তবে ফ্রিহোস্টিয়ায় যদি আপনি সাইট তৈরি করেন, তাহলে আপনাকে প্রতি বছর আপনার অ্যাকাউন্টকে নবায়ন তথা রিনিউ করে নিতে হবে।

জাইমিক ফ্রি হোস্টিং (http://www.zymic.com/)

ফ্রি হোস্টিয়ার মত জাইমিক ফ্রি হোস্টিংও একটি জনপ্রিয় ওয়েব ডেভেলপিং সেবা যেখানে আপনি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট হোস্ট করতে পারবেন। জাইমিক প্রিমিয়াম সার্ভিসের পাশাপাশি বিনামূল্যের সেবায় আপনাকে দিবে ৫০০০ মে.বা. এর এক বিশাল স্পেস। পিএইচপি মাইএডমিন ও ৫টি মাইএসকিউএল ডাটাবেসের সুবিধা সম্বলিত জাইমিক ফ্রি হোস্টিংয়ে সাবডোমেইনে যত ইচ্ছে ওয়েবসাইট হোস্ট করতে পারবেন।
এটি ফ্রি হোস্টিয়ার মত কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার বা এই জাতীয় ইঞ্জিন সাপোর্ট করে তবে এক্ষেত্রে আপনাকে অন্য একটি এফটিপি ক্লায়েন্ট ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও ছোটখাট সম্পাদনা, ফাইল আপলোড বা ডিলিটের জন্য জাইমিকের আছে ওয়েববেসড ফাইল ম্যানেজার।
মাইএসকিউএল ডাটাবেস সেটিংসের জন্যও আছে ওয়েববেসড মাইএসকিউএল ম্যানেজমেন্ট সুবিধা। আপনার সাইটের স্ট্যাটিস্টিকস সম্বন্ধে আপনাকে আপডেটেড রাখার জন্য জাইমিকের আছে নিজস্ব ওয়েবকাউন্টার, ওয়েবএলাইজার যা আপনার সাইট কতজন ব্যবহারকারী ভিজিট করেছেন তা সম্বন্ধে তথ্য প্রদর্শন করবে। যারা প্রফেশনাল ওয়েব হোস্টিং করতে চান তাদের জন্য জাইমিক হতে পারে সঠিক সেবা।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এতকিছুর বিনিময়েও জাইমিক আপনার সাইটে কোনো বিজ্ঞাপণ প্রদর্শন করবে না। অর্থাৎ, আপনার সাইট হবে ঠিক তেমনই, যেমনটা আপনি চান। কোনো বাড়তি বিজ্ঞাপণ আপনার সাইটকে দৃষ্টিকটু করবে না। যদিও জাইমিকে সিএমএস বা এজাতীয় ইঞ্জিন ইন্সটল করার সহজ কোন সুবিধা নেই, তবুও ৫০০০ মেগাবাইটের ওয়েবস্পেস ও মাসিক ৫০, ০০০ মেগাবাইট ডাটা ট্রান্সফারের সুবিধা সম্বলিত জাইমিক ফ্রি হোস্টিং সত্যিই অসাধারণ একটি সেবা।
জাইমিক ফ্রি হোস্টিংয়ে হোস্ট করা সাইটের ঠিকানা হবে এমন: http://yoursitename.vndv.com/

ইয়াহু জিওসিটিস (http://geocities.yahoo.com)

বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ইয়াহুতে অ্যাকাউন্ট নেই এমন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ইমেইল সুবিধার জন্যই হোক, কিংবা ইয়াহু মেসেঞ্জারে বন্ধুদের সাথে চ্যাট করার জন্যই হোক, ইয়াহুতে অ্যাকাউন্ট মোটামুটি সবারই আছে। ইয়াহুকে অনেকেই একটি ইমেইল সেবদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে জানলেও মূলত ইয়াহুর আছে অনেক অনেক সেবা। ওয়েবসাইট ডেভেলপিংয়ের জন্যও আছে ইয়াহুর সার্ভিস।
এমনকি আপনি চাইলে বিনামূল্যেও সাইট তৈরি করতে পারেন ইয়াহুর ফ্রি ওয়েব ক্রিয়েটিং সেবা, জিওসিটিস এর মাধ্যমে। যারা মোটামুটি একটি সাইট তৈরি করতে চান কোনো প্রকার কোডিং ছাড়াই, তাদের জন্য জিওসিটিস একটি ভালো সেবা হতে পারে।
যদিও জিওসিটিস মাত্র ১৫ মেগাবাইট জায়গা দেয়, তবুও প্রাথমিকভাবে আপনি ইয়াহু জিওসিটিস ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ইয়াহু জিওসিটিসে সাইট নির্মাণ করলে আপনার সাইটের ঠিকানা হবে http://www.geocities.com/youryahooid

গুগল সাইটস (http://sites.google.com)

ইয়াহুর মত গুগলেরও আছে সহজে কোডিংয়ের অভিজ্ঞতা ছাড়া সাইট নির্মাণের সেবা। বলা বাহুল্য, ইয়াহু জিওসিটিসের চেয়ে গুগলের ওয়েব ডেভেলপিং সেবা বেশি জনপ্রিয়। গুগলের এই সেবার নাম ছিল গুগল পেজ ক্রিয়েটর। জিমেইল আইডি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা আকর্ষণীয় ওয়েবসাইট নির্মাণ করতে পারতেন। কিন্তু সম্প্রতি গুগল গুগল সাইটস নামে নতুন একটি সেবা চালু করেছে।
গুগল সাইটসে আপনি আপনার জিমেইল আইডি ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারবেন। এখানে আপনি পাবেন ১০০মেগাবাইট জায়গা, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। গুগল সাইটসে আপনি শুধু প্রাথমিকভাবে শেখার জন্যই নয়, প্রয়োজনীয় সাইটও নির্মাণ করতে পারেন খুব সহজে। এর সহজ ও সুন্দর ইন্টারফেসে আপনি গুগল নির্ধারিত টেমপ্লেটের উপর সাইট নির্মাণ করতে পারবেন। গুগল সাইটসের রয়েছে ২৩টি আকর্ষণীয় থিম যা আপনার সাইটের সৌন্দর্য্য বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিবে। গুগল সাইটসে আপনি একাধিক সাইট নির্মাণ করতে পারবেন।
আপনার সাইটের ঠিকানা হবে : http://sites.google.com/site/yoursitename। প্রতিটি সাইটে আপনি একাধিক পৃষ্ঠা তৈরি করতে পারবেন। সাব-পৃষ্ঠা তৈরি করতে পারবেন। এছাড়াও সাইটের সাইডবারে ওয়েবসাইটের সাম্প্রতিক কার্যক্রম, কোনো নির্দিষ্ট দিনের জন্য কাউন্টডাউন, নেভিগেশন কিংবা কিছু টেক্সট লিখে উইজেট আকারে রাখা যাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে আপনি চাইলে এই সাইট কারা কারা সম্পাদনা করতে পারবে বা কে কে দেখতে পারবে সেটা নির্ধারণ করে দিতে পারেন। এছাড়াও আপনি আপনার নিজের অন্য কোনো ঠিকানাতেও এই সাইটটি
প্রদর্শন করতে পারেন।
সব মিলিয়ে গুগল সাইটস নতুন সাইট নির্মাতাদের জন্য অসাধারণ একটি সেবা। আপনি ইচ্ছে করলে গুগল সাইটস ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আকর্ষণীয় সাইট নির্মাণ করতে পারেন। উল্লেখ্য, গুগল সাইটস সম্পূর্ণ নতুন একটি সেবা বলে এখনো অনেক সুবিধা এতে এখনো যুক্ত হয়নি যা আগের গুগল পেজ ক্রিয়েটরে ছিল। গুগলের মতে, অতি শীঘ্রই গুগল সাইটসের জন্য যুক্ত করা হবে কার্যকরী ও প্রয়োজনীয় সব সুবিধা।

ফ্রিসার্ভারস (www.freeservers.com)



কোডিংয়ের অভিজ্ঞতা বা সাইট নির্মাণের দক্ষতা ছাড়াই ওয়েবসাইট তৈরি করার আরেকটি জনপ্রিয় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নাম হচ্ছে ফ্রিসার্ভারস। ফ্রিসার্ভারসের ফ্রি প্ল্যানের আওতায় আপনি পঞ্চাশ মেগাবাইট জায়গার উপর দৃষ্টিনন্দন ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। মাসিক ১ গিগাবাইট ব্যান্ডওয়াইডথের এই সেবায় আপনি পাবেন ফাইল ম্যানেজার, কাউন্টার, সাইট ভিজিটরের মন্তব্য গ্রহণের জন্য গেস্টবুক, সহজে সাইট তৈরি করার জন্য সাইট বিল্ডার, সাইট কপিয়ার, ওয়েবরিং ইত্যাদি।
তবে ফ্রিসার্ভারসে সাইট তৈরি করলে আপনার সাইটে বিজ্ঞাপণ প্রদর্শন করবে ফ্রিসার্ভারস। এছাড়া যে ইমেইল ঠিকানা দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করবেন, সে ইমেইলে নিয়মিত বিজ্ঞাপণ আসার ঝামেলা তো রয়েছেই। তবে সব মিলিয়ে মোটামুটি একটি সাইট নির্মাণের জন্য ফ্রিসার্ভারস ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
ওয়েবসাইট প্রযুক্তির এক অনন্য আবিষ্কার। আপনি সম্পূর্ণ একটি অফিসের কাজ সেরে নিতে পারেন সাধারণ একটি ওয়েবসাইট দিয়ে। এছাড়াও ওয়েবসাইটের রয়েছে অসংখ্য ব্যবহার ও উপকারিতা। তাই উপরের পাঁচটি সাইট থেকে পছন্দমতো সেবা বেছে নিয়ে আপনিও তৈরি করুন আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট, বিনামূল্যে। আর প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে সবসময় রাখুন এক ধাপ আগে।