Featured

এবার হাতের ইশারায় যেকোনো স্মার্ট ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ করুন

বর্তমানে প্রায় সকল স্মার্ট ডিভাইসগুলো একে একে টাচস্ক্রিণ ফিচারে চলে এসেছে। মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে এখন টিভি, ল্যাপটপের ডিসপ্লেগুলোতেও টা...

Showing posts with label Science Fiction. Show all posts
Showing posts with label Science Fiction. Show all posts

Wednesday, 19 June 2019

প্রযুক্তি আর ইন্টারনেট এর কারণে যে জিনিস গুলো আজ বিলুপ্তির পথে

আসসালামু আলাইকুম। 
আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। প্রযুক্তি বিষয়ক আলোচনা নিয়ে আজকের লেখালেখি। তার আগে কিছু গল্প করে নেই।
পদ্মার রুপালি ইলিশ আর মাশকলাইয়ের ডাল। দুটি খাবার নিয়ে একটু ভাবুনতো। .................ভেবেছেন নিশ্চয়ই। ১৫-২০ বছর আগের সময় আর এখনকার সময়ে এই দুটি খাবারের ব্যবধান নিয়ে আরেকটু ভাবুন।..............ভেবেছেন নিশ্চয়ই। ব্যবধান কি পেলেন? ‍উত্তরটা এরকম ১৫-২০ বছর আগে এই দুটি খাবার চুলায় বসানো হলে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এই দুটি খাবারের ঘ্রান এ বাড়ি সে বাড়ি করে সারা গ্রাম ছড়িয়ে পড়ত, আর আজ এই দুটি খাবার তৈরি হলে আমার ঘরে আমিই টের পাইনা। কেন খাবারের ঘ্রান নষ্ট হয়ে গেল ও খাবারের গুনাগুন নষ্ট হয় এর ব্যাখ্যা কমবেশ আমরা সবাই জানি।এসবের ব্যাখ্যা আজকের আলোচনার বিষয় নয়। প্রেক্ষাপট বলার জন্যই এই আলোচনাটা করলাম।
আজ থেকে ১৫-২০ আগে আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কিছুই ব্যবহার করতাম আমাদের জীবনযাত্রায় যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে আর অনেকগুলো বিলুপ্ত হওয়ার পথে।
জ্বি হ্যাঁ, এমন কিছু জিনিস যা প্রযুক্তি আর ইন্টারনেট এর কারণে আজ বিলুপ্তের পথে এটাই আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু।
এবার আমরা একে একে দেখে নেই কোন কোন জিনিষগুলোর বেহাল অবস্থা প্রযুক্তি আর ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান দাপটের কারনে।

১) পাবলিক ফোন:

আমরা সবাই জানি 1876 সালে আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল টেলিফোন আবিস্কার করেন। কিন্তু যদি না জানেন জেনে নিন সর্বপ্রথম পাবলিক ফোন স্থাপিত হয় 1878 সালে। 1878 সালে একজন সহায়তাকারীর উপস্থিতিতে পাবলিক ফোনগুলো স্থাপন করা হতো হোটেলে লবিতে, রেলওয়ে স্টেশন, কোন জনবহুল মার্কেটের নিকট। প্রথম চলত কাস্টমার কল শেষ করার পর সহায়তাকারীর নিকট টাকা দিয়ে দিত। কিন্তু একসময় দেখা গেল এইভাবে ফোনকল করা সম্ভব নয় এবং সেটা বিরক্তিকরও। এ ধারনা থেকেই কয়েন চালিত পাবলিক ফোন স্থাপন হয় সর্বপ্রথম 1889 সালে। প্রথমে পোষ্ট পে এবং পরে ফ্রি পে পাবলিক ফোন চালু হয় 1898 সালে যার নাম ছিল No. 5 Coin collector. 1905 সালে সর্বপ্রথম স্ট্রিট পাবলিক ফোন স্থাপিত হয়। 1950 সালে চালু হয় 3-স্লট ডায়াল পাবলিক ফোন যেটিতে ফোন কলার 10 পয়সার মুদ্রা, নিকেল ধাতুর মুদ্রা ও সিকি মুদ্রা দিয়ে কল করার সুবিধা পেলেন। আস্তে আস্তে েএটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে এবং মিলিয়ন মিলিয়ন পাবলিক ফোন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। নিচের চিত্রটি দেখে একটু পরিচিত হয়ে নেই পাবলিক ফোনের সাথে-
কিন্তু এত জনপ্রিয় পাবলিক ফোন আজ বিলুপ্ত প্রায়। এর অন্যতম কারন হলো ইন্টারনেটের আগমন এবং প্রসার। ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে ই-মেইল, সোস্যাল মিডিয়া, ভয়েস চ্যাট করার বিভিন্ন এ্যাপলিকেশন, এর পর মোবাইল ফোনের কারনে যোগাযোগ চলে এসেছে  ঘড়ির কাটায়। একটি সেল ফোন হাতে থাকলে কেন আমরা রাস্তার ধারে পাবলিক ফোনে কথা বলব। ইন্টারনেটের দাপটে আর প্রযুক্তির নিত্যনতুন আবিষ্কারের ফলে পাবলিক ফোন বিলুপ্তির পথে।
তবে পাবলিক ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শেষ ব্যবহারকারী পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজী আছে। তাই হয়ত আমরা অল্প হলেও আরও কিছুদিন দেখতে পাব এই পাবলিক ফোন।

2) ক্যাসেট ও সিডি:

বেশ কিছুদিন আগেও ক্যাসেট ছিল আমাদের গান শোনার একমাত্র ভরসা।অথচ দেখুন আজ ক্যাসেট নেই বললেই চলে। সিডি, ডিভিডি দখল করে নিয়েছে ক্যাসেটের স্থান।তবে অনেক জনপ্রিয় এই সিডি ও ডিভিডিও নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারছেনা। প্রযুক্তির নিত্যনতুন আবিষ্কারের কারনে এগুলোও আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।
এখন আমরা একটু পেছন ফিরে তাকাই।১৯৫৮ সালে RCA Victor প্রথম স্টেরিও ক্যাসেট আবিস্কার করেন যার সাইজ ছিল ৫”x৭” এবং এটি ছিল প্রি রেকর্ড করা তাই এটি ব্যার্থ হয়। ১৯৬২ সালে নেদারল্যান্ড ভিত্তিক কোম্পানি ফিলিপস সর্বপ্রথম কমপেক্ট অডিও ক্যাসেট আবিস্কার করেন এবং বাজারজাত করেন।উন্নত মানের ১/৮ ইঞ্চি পলিষ্টার টেপ দিয়েই এটি তৈরি হয়। রেকর্ড ও প্লেব্যাক স্পিড ছিল প্রতি সেকেন্ডে ১.৭/৮ ইঞ্চি ।যখন ক্যাসেট পূর্নতা পায় তখন এর দুটি সাইডে ৩০/৪৫ মিনিট সময় প্লেব্যাক করা যেত।
এরপর ফিলিপস ও সনির যৌথ প্রচেষ্টা শুরু হয় ১৯৭০ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ১৯৮২ সালে এই দুই কোম্পানির যৌথ প্রচেষ্টায় সিডি আসে বাজারে। এর পর আমরা সিডির জনপ্রিয়তা দেখলাম। ক্যাসেট হারিয়ে গেল। সিডি বাজারের দখল নিল। এই সিডিও আজ প্রায় বিলুপ্ত প্রায়।সিডির ক্যাপাসিটি হচ্ছে ৭০০ MB এবং সময়ের হিসেবে প্রায় ৮০ মিনিট।
এবারে একটু দেখে নেই কেন এগুলো বিলুপ্ত হচ্ছে।এক সময়কার তুমুল জনপ্রিয় ক্যাসেট স্থান হারালো সিডি ও ডিভিডি আবিস্কার হওয়ার পর। আর প্রযুক্তির কল্যানে ও ইন্টারনেটের প্রসারে আমরা এখন অনলাইনে গান শুনি, মূভি দেখি। মোবাইলে গান শুনি, কেন সিডি কিনব? আর প্রযুক্তির সর্বশেষ সংযোগ এফ.এম রেডিও। বিশ্বব্যাপি এখন এফ.এম. রেডিওর জয়জয়কার। এক একটা মিউজিক ষ্টেশান এখন মানুষের পকেটেই থাকে। এসব কারনেই সিডি, ক্যাসেট বিলুপ্তির পথে।

৩) রোলোডেক্স (Rolodex):

ইংরেজী দুটি শব্দ Rolling ও Index মিলেই Rolodex শব্দটি তৈরি। এটি হচ্ছে কোন তথ্যকে সংরক্ষন করার একটি মেশিন যেখানে কাগজে অথবা কার্ড এ তথ্য লিখে এই মেশিনে েগেঁথে রাখা হত। রোলোডেক্স এর চিত্রটি দেখুন-






১৯৭০ সালে ব্যবহৃত একটি রোলোডেক্স

Arnold Neustadter এবং Hildaur Neilsen ১৯৫৬ সালে এটি আবিষ্কার করেন আর ১৯৫৮ সালে প্রথম বাজারজাত করেন।একসময় ছিলনা কোন ভার্সুয়্যাল সোস্যাল নেটওয়ার্ক, ছিলনা কোন এড্রেস বুক, ছিলনা স্মার্ট ফোন, ছিলনা অনলাইন স্টোরেজ। কিন্তু তখনও মানুষের ছিল ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত তথ্য, ছিল ঠিকানা লিখে রাখার প্রয়োজনীয়তা, ছিল পাবলিক ফোন নাম্বারসহ আরও মনে রাখতে হবে এ ধরনের অনেক তথ্য। আর এ তথ্যগুলোই মানুষ কাগজে লিখে রোলোডেক্সে সংরক্ষন করত।
এই ডিভাইসটি আজ বিলুপ্ত শুধুই প্রযুক্তি আর ইন্টারনেটের কারনে।আজ আমাদের রয়েছে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ফোন, নোটবুক, ট্যাব, কার্ড হোল্ডার, অনলাইন স্টোরেজ সহ তথ্য সংরক্ষন করার অনেক ব্যবস্থা। এগুলোই ইতিহাস করেছে এই Rolodex নামক ডিভাইসটিকে।

৪) বিশ্বকোষ (Encyclopedia):

Encyclopedia শব্দটির বাংলা অর্থ বিশ্বকোষ/বিদ্যাকোষ/জ্ঞানকোষ। আমরা এটিকে বুঝব জ্ঞানজগতের সকল তথ্য সম্বলিত পুর্নাঙ্গ একটি রেফারেন্স বুক হিসেবে।Encyclopedia ’র অস্তিত্ব প্রায় ২০০০ বছর ধরে। আধুনিক বিশ্বকোষ ১৭ শতকে অভিধান থেকে আধুনিকায়ন করা হয়।বিশ্বকোষ সাধারনত এক বা একাধি ভলিউমে সংরক্ষিত ছিল। Encyclopedia Britannica  এবং Enciclopedia universal ilustrada europeo-americana  একাধিক ভলি ‍উমে সংরক্ষিত  Encyclopedia. ১৭৫১ সালে Encyclopedia আবিস্কার করেন জার্মান নাগরিক Denis Diderot and Jon Le Rond D'Alembert.
ভলিউমভিত্তিক এই Encyclopedia এখন প্রায় যাদুঘরে। এখন Wikipedia নামে আমরা কম্পিউটারের বসেই এই বিশ্বকোষ পড়তে পারি। আরও মজার বিষয় হলো যে কেউ এতে নতুন তথ্য সংযুক্ত করতে পারে।২০০১ সালে Wikipedia যাত্রা শুরু করে। ২০০৯ সাল নাগাদ ৩ মিলিয়ন ইংরেজি আর্টকেল সহ মোট ২৫০ ভাষায় ১০ মিলিয়ন আর্টকেল সমৃদ্ধ আজকের Wikipedia. ইতোমধ্যে সিডি ও ডিভিডি ধারক হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে েএই বিশ্বকোষের। অনলাইনের মাধ্যমে আমরাতো হাতের কাছেই পাচ্ছি। তো কেন ভলিউম কিনব? এভাবেই এনসাইক্লোপেডিয়া আজ বিলুপ্ত প্রায়।

৫) পত্রিকায় শ্রেনীভিত্তিক বিজ্ঞাপন (Classified Ads):

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যেমনঃ চাকুরী, টিউশনি, বাড়ী ভাড়া, ক্রয়-বিক্রয় প্রভৃতি শিরোনামে খবরের কাগজে আমরা প্রচুর বিজ্ঞাপন দেখেছি। এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রতিটি খবরের কাগজেই দেখা যেত। পত্রিকা অফিস অনেক মুনাফাও অর্জন করত এ ধরনের বিজ্ঞাপন থেকে। ছবিটি দেখুন-
আর এখন এই ক্লাসিফাইড এডস প্রায় নেই বললেই চলে। কারন ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির প্রসার। আজ অধিকাংশ বিজ্ঞাপন চলে গেছে করপোরেট ওয়েবসাইট এ। ব্যানার এড এর নতুন সংস্করন। এফ.এম. রেডিওতে, ওয়েবসাইটে, সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পন্যের প্রচার ও প্রসার করাকেই অনেক সুবিধার মনে হয়। এছাড়া ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য তৈরি হয়েছে ই-কমার্স ওয়েবসাইট। আর এসবের কারনের ক্লাসিফাইড এডস বিলুপ্ত প্রায়।

৬) ডিসপোজেবল ক্যামেরা (Disposable Camera):

১৯৪৯ সালে A. D. Weir ‍ডিসপোজেবল ক্যামেরা আবিস্কার করেন।প্রথমে এটি ফটো-প্যাক হিসেবে বিক্রি করা হত।অর্থ্যাত ফিল্ম ইন্স্টল করা থাকত। পরে ৩৫ মিমি ফিল্ম বাজারে আসে যা দিয়ে এটিতে ছবি তোলা হত।ছবি তোলার পর ফিল্মটিকে প্রসেস করে ছবি আউটপুট হত। এরপর Fujifilm, Konica, Canon, Nikon এরকম আরো অনেক কোম্পানিই ডিসপোসেজল ক্যামেরা বাজারজাত করে।১৯৯০ সালের দিকে এ ক্যামেরা অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করে।সিঙ্গেল ফটো ইউজার, বিয়ে বাড়িতে এটি অধিক হারে ব্যবহার হত। চিত্রটি দেখুন-
কিন্তু একসময়ের জনপ্রিয় এই ক্যামেরা আজ ডিজিটাল ক্যামেরা, এসএলআর সহ আরও উন্নত মানের ক্যামেরা কাছে তাদের বাজার হারিয়েছে। আর সর্বশেষ বিভিন্ন কোম্পানির স্মার্ট ফোনগুলো আসার পর ডিসপোজেবল ক্যামেরার সমাধি রচিত হয়েছে।

৭) ইয়ার্ড সেল (Yard sale):

Yard sale আরও বেশ কিছু নামে ডাকা হত যেমনঃ patio salerummage saletag salelawn saleattic salemoving salegarbage salethrift sale, or junk sale বাংলায় আমরা এর অর্থ বুঝি কারো ব্যবহার করা জিনিষপত্র যা পুরাতন ও মোটামোটি ব্যবহার উপযোগী সেগুলো একত্রে বিক্রয় করার ব্যবস্থা।এধনের বিক্রয় ব্যবস্থায় বিক্রেতাকে কোন লাইসেন্স করা লাগেনা। বিক্রেতা এ পন্যগুলো সাধারনত পথচারীদেরকে বা যারা এ ধরনের জিনিস কিনতে চায় তাদেরকেই দেখাত। বিক্রয় স্থান হিসেবে তারা বেছে নিত গ্যারেজ, কার পার্ক করার স্থান, রাস্তাঘাট, বাড়ীর উঠোন। বিক্রিত পন্যগুলোর তালিকায় থাকত কাপড়, খেলনা, বই, আসবাবপত্র, ঘরগৃহস্থলির বিভিন্ন জিনিস, খেলার সামগ্রী ইত্যাদি। চিত্রটি দেখুন-
বিশ্বের অনেক দেশেই এই বিক্রয় ব্যবস্থার এই পদ্ধতি খুব জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু আজ সময় পরিবর্তন হয়েছে। এই রীতি প্রায় বিলুপ্ত। এর মুল কারন ইন্টারনেট। ই-কমার্স ওয়েবসাইট, সোস্যাল মিডিয়া মারকেটিং িএর ফলে এই ধরনের বিক্রয় ব্যবস্থার আর আয়োজন হয়না। তাই এই পদ্ধতি একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে খুব বেশি সময় বাকী নেই।

৮) লাইনে দাড়িয়ে বিল প্রদান:

নগরায়নের ফলে একসময় বিদ্যুত, গ্যাস, ওয়াসা, টেলিফোন বিল সহ আরও অনেক বিল দেওয়ার রীতি প্রচলিত হলো। এক্ষেত্রগুলোতে কয়েক বছর আগেও আমরা দেখতাম লাইনের পর লাইনে দাড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিল দেওয়ার অসহায় দৃশ্য।এসকল বিল দিতে গিয়ে কষ্ট পাননি অথবা ভোগান্তির শিকার হননি এমন লোক পাওয়া কঠিন।
তবে বিশ্ববাসীর জন্য আশির্বাদ হয়ে প্রযুক্তি মানুষকে আরাম এনে দিয়েছে। আজ আর লাইনে দাড়িয়ে বিল দিতে হয়না। অনলাইনেই বিল দেওয়ার সকল প্রযুক্তি বিশ্বে চালু হয়েছে। কিছু দেশ যেগুলো প্রযুক্তিতে কিছুটা পিছিয়ে আছে সেখানে হয়ত এখনও পদ্ধতিটি পুরোপুরি চালু হয়নি। তবে একথা একবাক্যে বলা যায়যে লাইনে দাড়িয়ে বিল দেওয়ার আগের এই নিয়ম একসময় পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

৯) ম্যাপ (Map) হাতে নিয়ে ভ্রমনে বের হওয়া:

কর্মব্যাস্ত জীবনে কোলাহল আর হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের শেষে মানবদেহ যদি একটু অবসর পায় তাহলে অনেকের মনপাখি ঘুরে বেড়াতে চায় নিজের পছন্দসই স্থানে। এক্ষেত্রে অপরিচিত কোন স্থানে যাওয়ার প্ল্যান হলে আমাদের যে কাজটি প্রথমেই করতে হয় তা হলো গন্তব্যে যাওয়ার রাস্তা চিনে নিরাপদে সেখানে যাওয়া।


এক্ষেত্রে একমাত্র গাইড ছিল রুট ম্যাপ যা দেখে দেখে গন্তব্যে যাওয়া যায়। সময় পরিবর্তন হয়েছে অনেক। ম্যাপ হাতে নেওয়ার এই কাজটাকে একবারেই বাতিল করে দিয়েছে আমাদের গুগল ম্যাপ। ইন্টারনেট কানেকশান সহ ডিভাইস যা ইন্টারনেট উপযোগী সেগুলো ব্যাবহারেই সারাবিশ্ব ঘুরে বেড়ানো সম্ভব। কাগজের ম্যাপ হাতে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বললেই চলে।

১০) ইয়েলো পেইজ (Yellow Pages) এর বই সংস্করন:

Yellow page হলো ব্যবসা সংক্রান্ত টেলিফোন ডিরেক্টরি। ইংরেজি অক্ষর বিন্যাসে নয় ব্যবসায়ের ধরন অনুসারে সাজানো হয় এই ইয়েলো পেজ।১৮৮৩ সালে এর নামকরন করা হয়।১৮৮৬ সালে Reuben H Donnelley প্রথম অফিসিয়াল Yellow page প্রস্তুত করেন।
প্রযুক্তি আর ইন্টারনেটের কল্যানে এই বইটি আজ ব্যবহার হচ্ছেনা বললেই চলে। কার ইন্টারনেট আমাদের দিয়েছে সারা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার সুযোগ। তাই বিশাল সাইজের এই বইটি অধিকারে রেখে নিজের বোঝা বাড়ানোর কাজটি কেউ করেনা। একদিন একসময়ের এই দরকারী বইটিও যাদুঘরে চলে যাবে নিশ্চিত।

১১) উত্তর দেওয়ার যন্ত্র (Answering Machine):

Answering machine কে কয়েকটি নামে ডাকা যায় যেমনঃ answerphone, message machine, telephone answering machine ( TAM). এমন একটি ডিভাইস যা কোন ফোন কলার কল করলে কয়েকটি রিং বেজে ওঠার পর কলারকে একটি মেসেজ পাঠায় অতঃপর কলার তার বক্তব্য বলা শুরু করলে সে বক্তব্য ডিভাইসে রেকর্ড হয় এবং পরে শোনা যায়।এটি টেপ এনসারিং মেশিন যা ভয়েস রেকর্ড করে এবং প্লে করে। ১৮৯৮ সালে এটি আবিস্কার করেন Valdemar Poulsen. টেলিফোন কনভারসেশান রেকর্ড করার এ ডিভাইসটি Poulsen device নামে পরিচিত ছিল।এ ডিভাইস ২ ধরনের ছিল একটি হলো টু ক্যাসেট এনসার মেশিন অপরটি সিঙ্গেল ক্যাসেট এনসার মেশিন।চিত্রটি দেখুন- 
প্রযুক্তির এ যুগে এ মেশিন পুরোপুরি বিলুপ্ত। ভয়েস শোনার জন্য অত্যাধুনিক মোবাইল ফোন, অনলাইনে কথা বলার জন্যও আছে অনেক পদ্ধতি যেগুলো নিয়ে আলোচনা নাইবা করলাম। তো এনসারিং েমেশিন থাকে কিভাবে?

১২) ফ্যাক্স মেশিন (Fax Machine):

telecopying, telefax, fax যেভাবেই আমরা বলি এই মেশিনটির সাথে আমরা কমবেশি পরিচিত। স্কটিশ মেকানিক Alexandar Bain ১৮৪৩ সালে ফ্যাক্স মেশিন আবিস্কার করেন। সম্পুর্ন ডেভেলপ করার পর আমরা েইমেজ ও টেক্সট সম্বলিত কাগজ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় প্রিন্ট করা অবস্থায় খুব সহজেই পেয়ে যেতাম এ মেশিনের সাহায্যে। এই মেশিন তার কাজের সাহায্যে টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেমকে ব্যবহার করত। নিচের ছবিটি দেখুন-
পুরোপুরি না হলেও এ যন্ত্রটিও এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। শুধুমাত্র শহরভিত্তিক প্রয়োজন ছাড়া এটি আর এখন ব্যবহার হয়না বললেই চলে। এর একমাত্র কার ই-মেইল। ফ্যাক্স এর চাইতে কম খরছ, ঝামেলামুক্ত এবং অতি দ্রুততার সহিত তথ্য আদানপ্রদানের কারনে ই-মেইল দখল করে নিয়েছে ফ্যাক্স এর স্থান। একসময় এই ফ্যাক্স মেশিন হয়ে যাবে ইতিহাস।

১৩) টেলিটেক্সট (Teletext):

Teletext or broadcasting teletext হচ্ছে টেলিভিশনে তথ্য আহরন সেবা। ১৯৭০ সালের শুরুতে যুক্তরাজ্যে John Adams নামক একজন ডিজাইনার এটি প্রথম তৈরি করেন।সঠিকভাবে সজ্জিত টেলিভিশনের পর্দায় টেক্সট ও ছবি পাঠিয়ে প্রদর্শন করাটাই টেলিটেক্সট এর কাজ।প্রথম প্রথম সংবাদ, টিভি প্র্রোগ্রাম সিডিউল ও আবহাওয়ার সংবাদ প্রচার হত।বিবিসি কর্তৃক ১৯৭৩ সালে প্রথম টেলিট্রান্সমিশন করা হয়।নিচের চিত্রটি দেখুন-
তবে যখন ডিজিটাল টেলিভিশন পুরোপুরি আবিস্কার হয় তখন থেকে এই মেশিনটির বিলুপ্তি ঘটে। আর কখনই দেখা যায়নি এই যন্ত্রটিকে।

১৪) ক্রয় করে সংবাদপত্র (Newspaper) পড়া:

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে ৮ম শতকে চীনের একজন নাগরিক Kaiyuan Za Bao সংবাদপত্র আবিস্কার করেন। সংবাদপত্রের প্রয়োজনীয়তা আমরা স্কুল পর্যায়েই পড়েছি। তাই এর প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করলামনা। সংবাদপত্র কাগজেই ছাপানো হত।চিত্রটি দেখুন-
কিন্তু কাগজে ছাপানো খবরের কাগজের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কারন সমুহের মধ্যে আছে কাগজের অপ্রতুলতা আর ইন্টারনেটের প্রসার। এখন প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করন রয়েছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একটু বলি হকারের কাছ থেকে ২৫০ টাকার বিনিময়ে ১ মাসের পত্রিকা পাওয়া যায়। পত্রিকা পাচ্ছেন ১টি। আর অনলাইনে ২৫০ টাকা খরছ করলে আপনি সারা বিশ্বের যতগুলো পত্রিকা আছে সব পড়তে পারবেন। তো কেন ক্রয় করে সংবাদপত্র পড়তে যাবেন। এভাবে একদিন আসতে খুব দেরি নেই যেদিন কাগজে ছাপানো খবরের কাগজ একবারে বিলীন হয়ে যাবে।
১৫) PDA (Personal Digital Assistant):
এটিকে Palmtop computer or personal data assistant বলা যেতে পারে। এটি একটি মোবাইর ডিভাইস।ইলেকট্রনিক ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লে সম্বলিত এ স্মার্টফোন সদৃশ ডিভাইসে ইন্টারনেট কানেকশান দেয়ার ব্যবস্থা আছে।ওয়াইফাই এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার ব্যবস্থা আছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডিসপ্লে টাচ স্ক্রীন হয়।
১৯৮৪ সালে এটি প্রথম রিলিজ হয়। ১৯৯২ সালে এটি প্রথম ব্যবহার করেন অ্যাপল কম্পিউটারের সিইও। তবে বর্তমানে অত্যাধুনিক স্মার্ট ফোন আব্কিারের ফলে এর ব্যবহার কমে গেছে বললেই চলে। আর এভাবে চললে একদিন হয়ত পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে এটিকে।
আজ আর নয়। পুরো লেখাটি তথ্যমূলক। ছোটখাটো কোন তথ্যভ্রম থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। সম্পাদনা করা হবে। ভালো লাগলে লাইক ও শেয়ার করতে ভুলবেননা। পুরো লেখাটি কেমন হলো তা জানিয়ে মতামত দিন। আরও সুন্দর লেখা নিয়ে আসছি আবারও .............ততক্ষন অপেক্ষায় থাকুন।

Friday, 17 May 2019

এবার হাতের ইশারায় যেকোনো স্মার্ট ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ করুন

বর্তমানে প্রায় সকল স্মার্ট ডিভাইসগুলো একে একে টাচস্ক্রিণ ফিচারে চলে এসেছে। মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে এখন টিভি, ল্যাপটপের ডিসপ্লেগুলোতেও টাচ ফিচারটি আমরা দেখতে পাচ্ছি। আর এই টচ স্ক্রিণ ফিচারের সাহায্যে আমরা এখন যেকোনো স্মার্ট ডিভাইসকে সহজেই হাতের স্পর্শেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি। এটা হলো বর্তমান যুগের ফিচার। কিন্তু আজ আমি নিয়ে এলাম এমন একটি নতুন গ্যাজেট এর খবর নিয়ে যেটির ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি যেকোনো স্মার্ট ডিভাইসকে হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন কোনো প্রকার ছোঁয়া ছাড়াই! ৯৯ মার্কিন ডলারের এই গ্যাজেট এর নাম Bixi Touch-Free Smart Controller।
এটির মাধ্যমে আপনি যেকোনো স্মার্ট ডিভাইসকে আপনার হাতের ইশারায় In-air gestures এর মাধ্যমে কমান্ড সেন্ড করতে পারবেন। এটি গাড়ি চলানোর সময়, অফিসের কাজের ব্যস্ততার মাঝে কিংবা ঘরের কাজের মাঝে আপনার স্মার্ট ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণকে আরো সহজ করে দেবে। এটি সকল প্রকার অন-দ্যা-লাইন ডিভাইস এবং অ্যাপস যেমন LifX, Hue bulbs, Bluetooth speakers, GoPro সহ অনান্য সকল loT ডিভাইসগুলোকে সার্পোট করবে।

Bixi এর সাহায্যে আপনি সর্বোচ্চ দুটি অ্যাপস কিংবা ডিভাইসকে একই সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। সাইজে ছোট হওয়ায় ডিভাইসটিকে পকেটে নিয়েই আপনি সহজেই বহন করতে পারবেন।


এছাড়াও আপনি আপনার মোবাইলে এই ডিভাইসটিকে লাগিয়ে নিয়ে কল করা, কল কেটে দেওয়া, মেসেজ সেন্ড করা, জিপিএস এ কমান্ড দেওয়া, মিউজিক কন্ট্রোল, ভলিউম কনট্রোল, নোটিফিকেশন মিউট সহ বিভিন্ন কাজ করতে পারবেন মোবাইলে টাচ না করেই। আর সবথেকে মজার ব্যাপার হলো এটি চালানোর জন্য ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন নেই।

কারণ ডিভাইসটি Bluetooh 4.1 দিয়ে অনান্য স্মার্ট ডিভাইসে কানেক্টটেড থাকে আর আপনি সর্বোচ্চ ২০ মিটার পর্যন্ত রেঞ্জ পাবেন। ডিভাইসের নিজস্ব Bixi Remote App রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি ডিভাইসটি সহজেই সেটআপ করে নিতে পারবেন। এছাড়াও ডিভাইসটিতে রিচার্জেবল ব্যাটারি যা ফুর্ল চার্জে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। Bixi দিয়ে আপনি একই সাথে সবোর্চ্চ ৭টি Gestures সার্পোট পাবেন, আর বর্তমানে ৫ টি ভিন্ন রংয়ে আপনি Bixi কে কিনতে পারবেন। 

তো সেদিন আর বেশি দূরে নেই যেদিন আমরা আমাদের স্মার্ট ডিভাইসগুলোকে আমাদের ব্রেইনের মাধ্যমে চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কমান্ড দিতে পারবো! অপেক্ষায় রয়েছি আরো তথ্য প্রযুক্তির চমকের জন্য।

Friday, 10 May 2019

চলুন জানি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে…………!!!!

এই মহাবিশ্বে যে আমাদের অজানা কত কিছু আছে আমরা তাও জানিনা। মহান আল্লাহ্‌ যে আমাদের কত কিছু দিয়ে সৃষ্টি করেছেন তা ভাবলে অবাক লাগে। চলুন আজ একটু জানার চেষ্টা করি মানব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে।
মহাবিশ্বের একটি বস্তু মলিকিউল বা পার্টিকেল হচ্ছে ডিএনএ। আমরা প্রায়ই সংবাদপত্রে ডিএনএ নিয়ে নানা সংবাদ শিরোনাম দেখি। কিন্তু খুব বেশি মানুষই ডিএনএ কী তা জানার জন্য মাথা ঘামাই না। অথচ মাথা থেকে পা পর্যন্ত আমাদের শরীরের সর্বত্র রয়েছে ডিএনএ’র সদর্প কারসাজি।



কখনো কি নিজেকে প্রশ্ন করে দেখেছি কী করে আমরা পেলাম আমাদের নাক, চোখ, কান, আঙুল ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ? কিভাবে ডিএনএ এসব এনে দিলো? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের আগে জানা দরকার ডিএনএ সম্পর্কে কিছু সরল তথ্য।
ডিএনএ হচ্ছে জেনেটিক কোডের সংক্ষিপ্ত নাম।এটি রাসায়নিক তথ্যের অনুবর্তী ফিতার মতো বস্তু। আমাদের দেহকোষ বা সেলের নিউক্লিয়াসে এর অবস্খান। নিউক্লিক অ্যাসিড নামে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু বা মলিকিউল দিয়ে ডিএনএ তৈরি। আমাদের ডিএনএ’র এসব ক্ষুদ্রতর অণু একটি সুনির্দিষ্ট ধারাক্রমে সাজানো থাকে, ঠিক যেমনটি সাজানো থাকে একটি বাক্যে একের পর এক অক্ষর।
নিউক্লিক অ্যাসিডগুলোর এই অনুবর্তী রজ্জু বা ফিতা আমাদের দেহকোষগুলোকে বলে দেয় কিভাবে তৈরি হবে আমাদের নাক, চোখ, হাত, পা ইত্যাদি সব কিছু।



আমাদের ডিএনএ’তে যদি এই অনুবর্তী ফিতা না থাকত, তবে এসব কিছুই হতো না। বিজ্ঞান বা রসায়নশাস্ত্রে এমন কোনো নিয়ম নেই যে নিউক্লিক অ্যাসিড কোনো সুনির্দিষ্ট অনুবর্তী বা সিকোয়েন্স মেনে পাশাপাশি থাকবে। যেকোনো একধরনের নিউক্লিক অ্যাসিড অন্য আরেক ধরনের নিউক্লিক অ্যাসিডের সাথে বìধন গড়ে তুলতে পারে।
ডিএনএ’তে কোনো অনুবর্তিতায় নিওনিউক্লিক অ্যাসিডগুলোর অবস্খান করার একমাত্র পূর্ববর্তী নিউক্লিক অ্যাসিড এমনটি করতে নির্দেশ দিয়েছে।
যখন আমাদের শরীরে নতুন কোষের জন্ম হয়, পুরনো কোষের ডিএনএ নতুন কোষের ডিএনএ গঠন নির্দেশ করে। এমনকি একটি সরলতম প্রাণীতেও ডিএনএ’র নিউক্লিক অ্যাসিডগুলো এলোমেলো অনুক্রমে থাকে। একটি বানরকে কম্পিউটারের কি-বোর্ডে বসিয়ে দিলে যেমন এলোমেলোভাবে কী চেপে অক্ষর বসাবে ঠিক তেমনি।



কেউই এমনটি দেখাতে পারেননি যে হঠাৎ করেই ডিএনএ অস্তিত্ব পেয়েছে। ডিএনএ পেতে প্রয়োজন ডিএনএ। অন্য কথায়, আরো ডিএনএ তৈরির জন্য অবশ্য আগে থেকেই ডিএনএ’র উপস্খিতি থাকতে হবে। হ্যাঁ, এ কথা সত্যি, ডিএনএ যে বিশেষ কোনো অণুর জন্ম দেয় তা হঠাৎ করেই জন্ম হতে পারে।
কিন্তু কখনোই এটা দেখানো সম্ভব হয়নি এই অণুবিশেষ যে ডিএনএ তৈরি করে তা হঠাৎ করে অস্তিত্ব পায়নি অণুগুলো পাশাপাশি এসে। এই ডিএনএ-ই হচ্ছে জেনেটিক কোড। মানুষ যদি অর্থপূর্ণভাবে জেনেটিক কোডকে কাজে লাগাতে পারত জিন প্রকৌশলের বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে, তখন তারা জেনেটিক কোডের উৎপত্তি সম্পর্কে আমাদের জানাতে পারত।
আমাদের শরীরের অন্তর্ভুক্ত বস্তু দিয়েই তৈরি আমাদের নাক, চোখ, কান, মগজ, অন্য সব টিস্যু, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও কাঠামো। আমাদের শরীরে প্রতিনিয়ত পুরনো কোষ মরে নতুন কোষ জন্ম নিচ্ছে। নতুন কোষ জন্ম দিতে শরীরে যে বস্তু আমরা ব্যবহার করি তা আসে আমাদের খাবার থেকে। খাবার শক্তি বা এনার্জি উৎপাদন করে না। শরীরে নতুন কোষ তৈরিতে খাবার হচ্ছে মূল শক্তি। একটি কোষ একই আকারের বেশ কিছু নতুন কোষ তৈরি করে। আর তা করার একমাত্র উপায় হচ্ছে, খাবার থেকে পাওয়া উপাদান কাজে লাগিয়ে তা করা।



আমরা যখন মায়ের পেটে বেড়ে উঠতে শুরু করি, তার শুরু এক আউন্সেরও কম ওজনের একটি কোষ থেকে। পরে ক্রমান্বয়ে গঠিত হয় আমাদের বাহু, হাত, পা, পায়ের পাতা, মগজ, গুর্দা, ফুসফুস, যকৃৎ, পাকস্খলী­ যতক্ষণ না আমরা পরিপূর্ণ দেহরূপ পাই। একটি একক কোষ থেকে বেড়ে বহু কোষ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এ কাজ সম্পন্ন হয়।
কিন্তু একটি কোষ থেকে কোটি কোটি কোষ তৈরির মালমসলা আসে কোথেকে, যেখানে নতুন কোষের আকার শুরুর কোষটির মতোই। শুরুতে যেখানে দেহের ওজন ছিল এক আউন্সেরও কম, সেখানে পূর্ণদেহী মানুষ হয় এর চেয়ে বহু গুণ বেশি ওজনের। নতুন কোষের মালমসলা আসে গর্ভবতী মা যা খান তা থেকে।



খাবার হজম হওয়ার পর তা ভেঙে জন্ম নেয় মৌলিক কিছু অ্যামাইনো অ্যাসিড। বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড তখন নতুন করে একটি অনুক্রমে পাশাপাশি বসে তৈরি করে বিভিন্ন টিস্যু [ঝিল্লি] বা অর্গান [ইন্দ্রিয় অঙ্গ]। এই অ্যামাইনো অ্যাসিডের অনুক্রম কী হবে তা নির্ধারণ করে ডিএনএ’র অনুক্রমের মাধ্যমে।

আমাদের সব ইন্দ্রিয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পুরোপুরি গঠিত হওয়ার পরও দেহকোষ মরে যায়। এই মৃত দেহকোষ প্রতিস্খাপিত হয় নতুন জন্ম নেয়া কোষ দিয়ে। আর খাবারই অনুঘটকের কাজ করে এই নতুন কোষ গঠনে। অতএব আপনি যখন আপনার কুকুরকে একটি মাংস খাওয়ান, আপনার কুকুরের ডিএনএ এটুকু নিশ্চিত করে যে, এই মাছের অথবা গোশতের ফালিকে হজম করে তা ভেঙে কুকুরের বিভিন্ন দেহাংশ গঠনে সাহায্য করে। কিন্তু যখন আপনি নিজে একই স্টিক খান, তখন আপনার ডিএনএ তা হজম করে মানবদেহের পুনর্গঠন নিশ্চিত করে।

একটি মুরগির ডিমের ডিএনএ’তে অণুর অনুক্রম মুরগির ডিমের খাদ্যবস্তুকে পরিণত করে গাঢ় ছোট্ট ছোট্ট গুটিতে। এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির ডিএনএ’র অনুক্রম ভিন্ন। এক প্রজাতির থেকে আরেক প্রজাতির ডিএনএ-ও ভিন্ন। বিষয়টি বোঝার জন্য একটি লাইব্রেরির কথা ভাবুন, যে লাইব্রেরিতে সব বই-ই একই ভাষার।



কিন্তু বিভিন্ন বই বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। সব বইয়ে আছে একই বর্ণমালা। কিন্তু অক্ষরগুলো সাজানো বিভিন্ন অনুক্রমে বিভিন্ন বইয়ে। এই অনুক্রমই একটি বইকে করেছে অন্যটি থেকে আলাদা। সে জন্য একটা উপন্যাসকে আমরা আলাদা করতে পারছি একটি বিজ্ঞানের বই থেকে।
তা সত্ত্বেও জীববিজ্ঞানের একটা মজার বিষয় হচ্ছে, প্রজনন কোষগুলো বাদে আমাদের দেহের সব কোষে রয়েছে গোটা দেহে পূর্ণ তথ্য। তার পরও আপনার কোষের সব ডিএনএ’র সব তথ্য প্রকাশ কিংবা সঞ্চালিত হতে দেয় না। উদাহরণ টেনে উল্লেখ করা যায়, আপনার চুলের একটি কোষে রয়েছে আপনার চোখের, মগজের, গুর্দার, চামড়ার ও অন্যান্য ইন্দ্রিয় অঙ্গের পূর্ণ জেনেটিক ইনফরমেশন। তা সত্ত্বেও চুলের কোষে শুধু চুলের জেনেটিক তথ্য প্রকাশ করতে দেয়া হয়। বাকি তথ্যগুলোর প্রকাশ ও সঞ্চালন বìধ রাখা হয়। অবশ্য এটি আমাদের জন্য ভালো যে, আমাদের শরীরের কোষগুলোকে সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে। তা না হলে আমাদের দেহে সৃষ্টি হতো জৈবিক দ্বন্দ্ব বা বায়োলজিক্যাল ক্যাওস। আমাদের দেহকোষের অনেক কিছুই এখনো অনুদঘাটিত রয়ে গেছে। আধুনিক বিজ্ঞান এখনো তত দূর পৌঁছতে পারেনি।



কিন্তু আমরা আমাদের কোষ সম্পর্কে যতই বেশি জানছি, ততই এর কাজ ও সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে অবাক হচ্ছি। বুঝতে পারছি, ডিএনএ কী বিস্ময়কর এক সৃষ্টি! যখন বিজ্ঞানীরা জিন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান, তখন তারা ডিএনএ অণুর বিভিন্ন অংশ নিয়েই পরীক্ষা করেন।

‘হিউম্যান জেনোম প্রজেক্ট’-এর লক্ষ্য ডিএনএ’র কোথায় বিভিন্ন জিন অবস্খান করে। একমাত্র এ উপায়েই আমরা জেনিটিক সমস্যা সমাধানের বিষয়টি বুঝতে শুরু করতে পারি। ত্রুটিপূর্ণ জিন আসে মিউটেশনের মাধ্যমে। মিউটেশন হচ্ছে জেনেটিক কোডের অনুক্রমের দুর্ঘটনাজনিত পরিবর্তন। বিকিরণ কিংবা অন্যান্য পারিবেশিক শক্তির কারণে এ ধরনের পরিবর্তন ঘটে।
যেহেতু এগুলো জেনেটিক কোডের দুর্ঘটনা, সে জন্য প্রায় সব মিউটেশনই ক্ষতিকর। এমনকি যদি একটি ভালো মিউটেশনও ঘটে, তবে প্রতিটি ভালো মিউটেশনের জের ফলে থাকবে শত শত ক্ষতিকর প্রভাব­ কোনো প্রজাতির জন্য তা ভয়াবহ ক্ষতিকর না হলেও। প্রকৃতিবাদীরা মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত মিউটেশনের মধ্যে নতুন প্রজাতির নতুন জিন সৃষ্টি হবে এবং প্রাকৃতিক নির্ধারণের মাধ্যমে আবারো নতুন ধরনের প্রাণের সৃষ্টি হবে।
এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, জেনেটিক কোডের দুর্ঘটনাজনিত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তেমনটি ঘটবে। যেমনটি সম্ভাবনা নেই একটি উপন্যাস ভুল ছাপার কারণে অক্ষর এলোমেলো হয়ে তা রূপ নেবে বিজ্ঞানের বইয়ে। নিদেনপক্ষে এমনটি হতে বিদ্যমান জাতের প্রাণীর বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভব ঘটতে পারে। কিন্তু পুরোপুরি নতুন প্রাণী জন্ম নেবে, তা নয়। যেমন মানুষের চুলের জিন পরিবর্তন হয়ে মানুষের অন্য ধরনের চুলের জন্ম হতে পারে। তবে সম্ভাবনা এমন নেই যে এই চুলের জিন পরিবর্তন হয়ে তা রূপ নেবে পালক কিংবা অন্য কিছুতে।




প্রায় সব ধরনের জৈবিক ভিন্নতার পেছনে রয়েছে ইতোমধ্যে বিদ্যমান জিনের নতুন নতুন বিন্যাস, মিউটেশন নয়। মিউটেশনকে আমরা বরাবরই দেখে আসছি ক্ষতিকর বলে। খুব কম মিউটেশনই আছে যেগুলো ক্ষতিকর নয়। এগুলো জেনেটিক জটিলতা বাড়ায় না।

ধন্যবাদ সবাইকে......

Thursday, 9 May 2019

বিদ্যুৎ অতিপরিবাহী পদার্থ উদ্ভাবন



তারের মধ্য দিয়ে চলাচলের সময় বিদ্যুৎকে পদে পদে বাধা পেতে হয়। যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে "রেজিস্ট্যান্স"।  এর ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুতের অপচয় হয়। বিজ্ঞানীরা বিদ্যুৎ চলাচলের সময় এ অপচয় রোধ করতে সম্প্রতি এক বিশেষ পদার্থ উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়। এ গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় এর ভূ-পদার্থবিজ্ঞানী রাসেল হেমলে।
ল্যান্থানাম মৌলের সাথে হাইড্রোজেন মৌলকে যুক্ত করে নতুন উদ্ভাবিত অতিপরিবাহী পদার্থের নাম "ল্যান্থানাম হাইড্রাইড"।  এটা এমন এক পদার্থ, যা- কিনা সুপার কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করবে।  তবে সুপার কন্ডাক্টর সাধারণত বিশেষ তাপমাত্রাতেই অতিপরিবাহী ধাতুর ন্যায় কাজ করতে পারে।
আর সুপার কন্ডাক্টরকে বিশেষ তাপমাত্রায়য় রাখাটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কিন্তু নতুন উদ্ভাবিত "ল্যান্থানাম হাইড্রাইড" যেকোনো তাপমাত্রাতেই সমান কার্যকর।  ফলে এর জন্য বাড়তি খরচের প্রয়োজন পড়বে না।