Showing posts with label Health & Treatment. Show all posts
Showing posts with label Health & Treatment. Show all posts

Thursday, 25 July 2019

ডেঙ্গু জ্বর হলে আমরা যেসব ভুল করে থাকি জেনে নিন।


আপনার ধরুন জ্বর এসেছে ১২ তারিখে।
আপনি ডাক্তার দেখতে গেলেন আলসেমি করে ১৪তারিখে। অর্থাৎ জ্বরের তৃতীয় দিনে।
ডাক্তার যখন দেখলো যে আপনি জ্বরের তৃতীয় দিনে গিয়েছেন, তিনি আপনাকে Dengue NS1 antigen test করতে দিলো, সাথে Complete Blood Count (CBC) ও করতে দিলো। আপনি করলেন কি যে, আজকে তো টাকা নেই, ২দিন পরে করবো নে। সেই টেস্ট আপনি করলেন ২দিন পরে, অর্থাৎ ১৬ তারিখে। সেদিন হলো জ্বরের ৫ম দিন। আপনার ডেংগু টেস্ট এ রেজাল্ট আসলো ডেঙ্গু নেগেটিভ। আপনি মহান আল্লাহ্‌ পাকের দরবারে খুশিতে শুকরিয়া আদায় করতে লাগলেন। ওদিকে সিবিসিতে প্লেটলেট ৩০-৩৫হাজার/কিউমিমি, হেমাটোক্রিট ৪৫%। ডাক্তারের মাথায় হাত! আপনি তো বলবেন, টাকা খরচ করে টেস্ট করলাম, ডেংগু নেগেটিভ আসলো, ডাক্তার তাইলে ভয় দেখায় কেনো! আপনি ডাক্তারকে দিলেন দুই ঘা বসিয়ে, আর নাইলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাংচুর করতে গেলেন, কারণ আপনার ইয়েতে অনেক কারেন্ট।

ঘটনা হচ্ছে, দোষটা আপনার। Dengue NS1 Antigen পরীক্ষা জ্বরের প্রথম ৩দিন এর মধ্যে পজেটিভ আসে(১)। এরপরে আপনার যদি ডেঙ্গু হয়েও থাকে, তাও সেটি নেগেটিভ আসতে পারে, এবং আসেও। আমি নিজে এই সোমবার এমন রোগী পেয়েছি যার ডেংগু NS1 নেগেটিভ দেখে সে হেলতে দুলতে এসেছে রিপোর্ট পাওয়ারও দুইদিন পরে। সে টেস্ট করিয়েছে জ্বরের ৫ম দিনে। অর্থাৎ ৭ম দিনে সে রিপোর্ট দেখাতে এসেছে কারণ তার ডেংগু নেগেটিভ তার ভয়ের কিছু নেই। ২দিন আগেই তার প্লেটলেট ছিলো ৩২হাজার/কিউমিমি, হেমাটোক্রিট ৪৭%।
তাহলে কি করবেন?

১) আপনার চিকিৎসককে একদম এগজ্যাক্ট হিসেব বলবেন যে আপনার জ্বর কয়দিনের, পারলে কতো তারিখে কখন সেটাও জানাবেন। তিনিই আপনাকে জানাবেন যে আপনার কোন টেস্ট করাতে হবে।

২) ৫ম/৬ষ্ঠ দিন হতে Dengue IgG & IgM পরীক্ষা করাতে হবে(২)। যেহেতু এই পরীক্ষাটি Dengue NS1 পরীক্ষার তুলনায় কিছুটা মুল্য বেশী, তাই জ্বর আসবার সাথে সাথেই এক মুহুর্ত দেরী না করে চিকিৎসক এর পরামর্শ নিন।

৩) ডেংগু নিশ্চিত হলে, চিকিৎসক এর পরামর্শ মতো নিয়মিত CBC পরীক্ষা করাতে হবে। এ ক্ষেত্রে রিপোর্ট দেখাতে আসবার পাশাপাশি রোগীকে নিয়ে আসতে হবে। শুধু রিপোর্ট দেখে রোগীর শারীরিক অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়।



৪) আপনার চিকিৎসক যদি CBC এবং ডেংগু পরীক্ষার পরে লিভার ফাংশন টেস্ট সহ, ইসিজি, বুকের এক্সরে সহ অন্য পরীক্ষা করতে পরামর্শ দেয়, আগেই ধরে নিয়েন না যে তিনি টাকা খাওয়ার ধান্ধায় পরীক্ষা দিয়েছেন। এ ধরণের চিন্তা করবার প্রবনতা আমাদের মধ্যে রয়েছে বলেই বললাম। ডেংগু শক সিন্ড্রোম/ এক্সপ্যান্ডেড ডেংগু সিন্ড্রোম থেকে খুব সহজেই অরগান ফেইলার ডেভেলপ করছে। প্লেটলেট কমে রক্তক্ষরন হয়ে মৃত্যুর সেইদিন গত হয়েছে, ডেংগু এখন এসেছে নতুন রুপে। লিভার ফেইলার, কিডনি ফেইলার, একিউট রেস্পিরেটরি সিন্ড্রোম, প্লুরাল ইফিউশন সহ বিভিন্ন ধরণের নিউরোলজিকেল সিম্পটমও দেখা যাচ্ছে এবার(৩)। রোগী পয়সা খরচ করতে চায় না বলে অনেক চিকিৎসক বাধ্য হয়ে টোটাল সিবিসি রিপিট না করিয়ে শুধু প্লেটলেট কাউন্ট রিপিট করাচ্ছেন। মনে রাখবেন, রোগীর কিছু টাকা হয়তো সেভ হচ্ছে, কিন্তু আল্টিমেটলি ১০জনের মধ্যে ১জনও যদি খারাপ হয়ে যায়, সেই দায় আপনার উপরেই আসবে। আপনাকে হেমাটোক্রিট ও দেখতে হবে। এমন কি, পেশেন্ট শকে চলে গেলে তো ঘন্টায় ঘন্টায় হেমাটোক্রিট করবার নির্দেশনাও গাইডলাইনে আছে (৪)।

৫) সর্বোপরী, আপনার চিকিতসককে সহায়তা করুন। এই মহামারিতেও পার্শ্ববর্তী যে কোন দেশের তুলনায় ডেংগুতে মৃত্যুহার ঈর্ষনীয়ভাবে কম আমাদের। এই কৃতিত্ব আমি আমাদের বড় স্যারদের কে না, এবারের মতো আমাদের মিডলেভেল ডক্টর, নার্স আর ব্রাদারদের দিতে চাই।
সবাই সাবধানে থাকুন। এখনও সময় আছে। বাড়িতে কিংবা বাড়ির পাশে পরিষ্কার রাখুন, পানি জমতে দিবেন না। মশারি টাংগিয়ে ঘুমাবেন। শিশুদের দিকে বিশেষ করে খেয়াল রাখুন। আর জ্বর আসলে সেটা ১দিনের জ্বর হলেও দেরী না করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। সবার সুস্থ্যতা কামনা করছি।
লিখেছেনঃ ডা. নিশম সরকার
এমবিবিএস (ডিএমসি)

Thursday, 23 May 2019

পায়ের গোড়ালি ব্যথায় কী করবেন?

পায়ের গোড়ালি ব্যথা নানা কারণে হতে পারে। এর মধ্যে গোড়ালির হাড় বৃদ্ধি বা ক্যালকেনিয়াল স্পোর বা অস্টিওফাইটিক স্পোর অন্যতম। এতে গোড়ালির হাড়ে ক্যালসিয়াম জমে একটা তীক্ষ্ণ সূচালো স্পোর বা বাড়তি অংশ তৈরি হয়, যা আশপাশের পেশি, লিগামেন্ট ইত্যাদিতে চাপ দেয়। ফলে ব্যথা অনুভুত হয়।
কারা ঝুঁকিতে?
■ অ্যাথলেট, যারা দৌড়ান বা জগিং করেন
■ ওজনাধিক্য, স্থূল, কায়িক শ্রমহীন ব্যক্তি
■ ডায়াবেটিসের রোগী
■ ট্রাফিক পুলিশ, বিক্রয়কর্মী, যাঁরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করেন
■ জুতার মাপে সমস্যা থাকলে
■ যাদের পায়ের পাতা বেশি সমতল
কী করবেন?
আইসথেরাপি: পায়ের গোড়ালির নিচে কাপড় জড়ানো বরফ দিয়ে সেঁক দিন। বরফ সরাসরি দেওয়া ঠিক নয়। ডিপে রাখা পানির বোতল গোড়ালির নিচে গড়িয়ে নিতে পারেন। প্রতিবার বরফ সেঁক দেওয়ার মধ্যে অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিরতি নিতে হবে।


স্ট্রেচিং:
১.
একটা টাওয়েল রোল করে পায়ের নিচ থেকে দুই হাতে ধরে পায়ের পাতা ওপর দিকে টানুন। ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। ১০ বার।
২.
একটা দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে গোড়ালি উঁচু করে শুধু আঙুলগুলোর ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ান। পায়ের পেছনের মাংসপেশিতে টান লাগবে। প্রতিবার ৩০ সেকেন্ড ধরে রেখে মোট ১০ বার করুন।
৩.
চেয়ারে বসে এক পায়ের ওপর আরেক পা রাখুন। হাত দিয়ে পায়ের আঙুল ওপরের দিকে টেনে ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এবার অন্য পা দিয়ে করুন। মোট ১০ বার।
সঠিক মাপের জুতা ব্যবহার করুন। সোলের নিচে হিল কুশন ব্যবহার করা যায়। সাধারণত জুতার নিচে এক ইঞ্চিমতো উঁচু হলে গোড়ালি ব্যথা কমে যায়। ব্যথা অতিরিক্ত হলে ফিজিওথেরাপি নিন। সার্জারিও প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষজ্ঞের মতামত নিন।

Thursday, 9 May 2019

এখন App এর মাধ্যমে শতাধিক ব্যায়াম শিখুন!!!

আসসালামু আলাইকুম।
.
আসা করি সবাই ভালো আছেন।
.
তো আজ আপনাদের কে এমন একটা App এর নাম
বলবো যেটা দিয়ে আপনারা সকল ধরনের ব্যায়াম
দেখায় দেওয়া হয়েছে।
.
1) App name: Home workout
.
2) offline app এটা
.
3) size:14.59mb
Download from Playstore





Tuesday, 5 February 2019

কিভাবে বুঝবেন ক্যান্সার হয়েছে কি না?

প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সারের কোনো উপসর্গ থাকে না। হঠাৎ একদিন ছোট কোনো উপসর্গ থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দুঃসংবাদটা জানা যায়। তখন আফসোস হয় যে কেন আগে চিকিৎসকের স্বরণাপন্ন হইনি। তাই সবারই জানা প্রয়োজন আপনি ক্যান্সারের জন্য ঝুঁকি কতটুকু, কী কী উপসর্গ দেখা দিলে আপনি সতর্ক হবেন।

● যারা ধূমপায়ী বা পান-জর্দায় অভ্যস্ত, তারা জেনে রাখুন এই ধূমপান আর পান-জর্দা 60% শতাংশ ক্যানসারের জন্য দায়ী।

● অতিরিক্ত লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও লবণযুক্ত বা উচ্চ ক্যালরির খাবার, ছত্রাক পড়া খাবার, মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকযুক্ত পানি ইত্যাদি 30% শতাংশ ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

● অতিরিক্ত ওজন, কায়িক শ্রমহীন জীবনযাপন।

● দীর্ঘদিন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকা যেমন হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস এবং এইডস ভাইরাস, হ্যালিকোব্যাক্টার পাইলোরি ইত্যাদি সংক্রমণ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

● নারীদের বাল্যবিবাহ, ঘন ঘন সন্তান ধারন।
● মদ্যপান।
● দীর্ঘসময় কড়া রোদে থাকা।
● অকারণে ঘন ঘন এক্স-রে করা।
● পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস থাকা, বিশেষ করে স্তন বা কোলন ক্যান্সার।
● বয়স বৃদ্ধি।

ক্যানসার ঠেকাতে যা করবেনঃ
নিজে ক্যানসারের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা জানা জরুরি। ক্যান্সারের কোনো চিহ্ন নেই, উপসর্গ নেই কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মাঝেমধ্যে বিভিন্ন পরীক্ষা করা উচিৎ। এতে প্রায়ই রোগ জটিল হওয়ার আগেই ধরা পড়ে।
 যেমনঃ
● নারীদের জরায়ূমুখ ক্যানসার স্ক্রিনিং ক্যান্সার প্রতিরোধের একটি সফল উদাহরণ। বিয়ের তিন বছর পর থেকে (একুশ বছরের আগে নয়) 64 বছর বয়স পর্যন্ত তিন বছর পরপর পেপস টেস্ট এবং ভায়া টেস্ট (অবশ্যই মহিলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে) করানো উচিৎ।

● 20 বছর বয়স থেকে নিজের স্তন নিজেই পরীক্ষা করতে শেখা।
● 15 থেকে 45 বছর বয়সী পুরুষেরা প্রতিমাসে গোসলের সময় নিজের অন্ডকোষ পরীক্ষা করা।
● প্রতিমাসে একবার দাঁতব্রাশ করার সময় নিজের মুখ গহবর আয়না দিয়ে দেখে পরীক্ষা করা।
● বছরে দুইবার ডেন্টিস্ট এর কাছে মুখ পরীক্ষা করা।
● দেহে কোনো আচিঁল বা তিল থাকলে প্রতিমাসে ওটা পরীক্ষা করা।

● বয়স 50 বছর হলে কোলন ক্যান্সার থেকে রক্ষার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।

কখন সতর্ক হবেন?
ঝুঁকি থাকুক আর না থাকুক, কিছু কিছু লক্ষণ অবহেলা না করাই উচিৎ।
যেমনঃ
● আকস্মিক ওজন কমা।
● হঠাৎ রক্তশূন্যতা ।
● বয়স চল্লিশের পর অরুচি।
● স্তন বা যেকোনো জায়গায় গোটা বা দানা বুঝতে পারা।
● মুখের ভেতর দীর্ঘমেয়াদী ঘা।
● একমাসের বেশি কাশি, কফের সাথে রক্ত।
● হঠাৎ কন্ঠস্বর পরিবর্তন।
● মলের সাথে রক্তপাত, কালো রঙের পায়খানা
ইত্যাদি উপসর্গ বা লক্ষণ সব সময়ই সন্দেহজনক। এসবক্ষেত্রে দেরি না করে খুব তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

Saturday, 2 February 2019

শিশুর থ্যালাসেমিয়া কি? কেন হয়? কীভাবে বুঝবেন? এবং প্রতিরোধের উপায় জেনে নিন।


■থ্যালাসেমিয়া কি?
●●●থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তশূন্যতা রোগ। এই রোগে আক্রান্ত শিশুর রক্তের লোহিত কণিকাগুলো তাদের জীবনের নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্তির অনেক আগেই অপরিণত অবস্থায় ভেঙে যায়। অস্থিমজ্জা ছাড়াও প্লীহার মধ্যে এই ভাঙ্গন ঘটে। ফলে আক্রান্ত শিশুর রক্তের হিমোগ্লোবিন মারাত্বকভাবে কমে যায়। কোষগুলো অক্সিজেন ঘাটতিতে পড়ে। শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শরীরের শক্তি কমে যায়। শুধু তা-ই নয়, ভাঙা লোহিত কণিকা থেকে প্রচুর আয়রন রক্তে চলে আসে, ধীরে ধীরে সেগুলো শরীরের নানা অঙ্গে জমতে থাকে। একসময় আয়রনবোঝাই এই অঙ্গগুলো তাদের কর্মক্ষমতা হারিয়ে আরও নানা জটিল শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। তবে যারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক, পুরোপুরি আক্রান্ত নয়, তাদের রোগের তীব্রতা খুবই কম এবং তারা আর পাঁচটা স্বাভাবিক বাচ্চার মতোই বেড়ে ওঠে।

■থ্যালাসেমিয়া কেন হয়?
●●● বাবা ও মা উভয়েই যদি এ রোগের বাহক হন, তাহলে তাঁদের প্রত্যেক সন্তান মারাত্মক থ্যালাসেমিয়ার ঝুঁকিতে থাকে (শতকরা 25 ভাগ)। তাই কোনো বংশের কেউ যদি এই রোগ বহন করে , তাহলে ঐ বংশের রক্ত সম্পর্কিত অন্য সদস্যরাও এ রোগের বাহক হতে পারে। আর রক্তের সম্পর্কের এই সদস্যদের মধ্যে অর্থাৎ দুই বাহকের মধ্যে যদি বিয়ে হয়, তাহলে তাঁদের সন্তানেরা মারাত্মক থ্যালাসেমিয়ার ঝুঁকিতে পড়ে যায়।

■ কীভাবে বুঝবেন শিশু এই রোগে আক্রান্ত কি না?
●●● আক্রান্ত শিশুটি অল্প বয়সেই রক্তশূন্যতায় ভোগে, দুর্বল থাকে। আর দশটা শিশুর মতো খেলতে পারে না, চলতে পারে না, অল্পেই হাঁপিয়ে যায়। ঠিকমতো বাড়ে না। রোগ ধরা পড়ার পর তার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখার জন্য তাকে নিয়মিত বিরতিতে রক্ত পরিসঞ্চালন করতে হয়। ধীরে ধীরে পেটের ভেতর যকৃত, প্লীহা বড় হয়ে যায়, পেট ফুলে যায়। কেবল রক্ত নয়, শরীর থেকে অতিরিক্ত আয়রন বের করার জন্য নিয়মিত ব্যয়বহুল ওষুধ দিতে হয়।
যদিও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এ রোগের পূর্ণ নিরাময় সম্ভব বলে দাবি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং আমাদের মতো দেশের মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

■ থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের উপায়ঃ
●●● রোগটা দুজন বাহকের মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে সন্তানের মধ্যে তীব্র আকারে দেখা দেয়। তাই দুজন বাহকের মধ্যে বিবাহ সম্পর্ক না করাই সবচেয়ে ভাল প্রতিরোধের উপায়। তাই কারা এই রোগের বাহক, তা বিয়ের আগে শনাক্ত করা এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় চেলেঞ্জ। তাই সত্যিকার অর্থে আমরা যদি এ রোগ নির্মূল করতে চাই, তাহলে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক নির্ণয়ের জন্য ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন। রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে ঠিক করা হলে এই পরীক্ষা করা আরও জরুরি। পৃথিবীর অনেক দেশে বিয়ের আগে এ ধরনের পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো পরিবারে একটি সদস্যের জন্মগত হিমোগ্লোবিনের রোগ দেখা দিলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের পরীক্ষা করে দেখা উচিৎ।