Showing posts with label Carriers. Show all posts
Showing posts with label Carriers. Show all posts

Sunday, 11 August 2019

কিভাবে আমরা আমাদের লাইফে সফলতা অর্জন করতে পারি এবং এই সফলতার জন্য আমাদেরকে কি কি উপায় অবলম্বন করতে হবে।

আসসালামু আলাইকুম।
নাইন টেক বিডি তে সবাইকে স্বাগতম।
আশা করি সবাই ভাল আছেন।
আজকে আমি আলোচনা করব কিভাবে আমরা আমাদের লাইফে সফলতা অর্জন করতে পারি এবং এই সফলতার জন্য আমাদেরকে কি কি উপায় অবলম্বন করতে হবে। 


শুরু করার আগে কিছু কথা বলতে চাই----

আমরা কেনো সফলতা অর্জন করবঃ
আপনি যখন জিতে যাবেন তখন আপনার চারপাশে
সবাই জিতে যাবে। সেই মুখগুলো আপনাকে
নিয়ে খুব গর্ব করবে একদিন যে মুখগুলো
আপনাকে দেখলে কালো হয়ে যেতো।
অনেক অপরিচিত মুখও আপনার কাছে পরিচিত হয়ে
যাবে। এমন অনেক জায়গা থেকে আপনার নাম্বারে
ফোন আসবে যাদের নামও আপনি শুনেন নাই।
আপনি হবেন সবার মধ্যমণি।
কিন্তু যদি আপনি হেরে যান, তাহলে শুধু আপনি একাই
হারলেন। কেউ আপনার সঙ্গী হবে না। একমাত্র মা
ব্যতিত। যে গার্লফ্রেন্ডের/বয়ফ্রেণ্ডের সাথে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত কথা বলে কাটিয়েছেন, যার জন্য মানি ব্যাগের চেইন পর্যন্ত ছিড়ে গেছে সেও দেখবেন আপনাকে ভুলে গেছে। হয়তো বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা
কোন এএসপিকে বিয়ে করে সুখের বাসর সাজাচ্ছে। যে আত্মীয় স্বজন এক সময় আপনাকে নিয়ে গর্ব করতো তারা আপনাকে নিয়ে টিজ করবে, তাদের কাছে হবেন আপনি তামাশার পাত্র। এই ভাবে বলবে "কিরে বাপের টাকা আর
কতদিন নিবি, অনার্স মাস্টার্স করে জীবনে কি করলি
... চাকরি বাকরি কোন কিছু কররে বাপু..... এইরকমও
আরো কত কিছু আপনাকে শুনতে হবে তার
কোন হিসাব নাই। এটাই অমানুষদের স্বভাব। আর
জেনে রাখবেন অনেক সময় অমানুষ গুলোর
ছেহেড়া দেখতে অবিকল মানুষের মতোই মনে
হয়।
প্রস্তুতিঃ
আপনি যখন দু:সময়ে থাকবেন তখন আপনার জবান
কে বন্ধ রাখুন। হতাশ হবেন না, ভেঙ্গে পড়বেন
না। নীরব নিস্তব্ধভাবে প্রস্তুতি নিন উপযুক্ত জবাব
দেয়ার জন্য। আর সেই জবাব টা কি জানেন??? শুধু
মাত্র একটা সফলতা। আপনার একটা সফলতা আপনার
সমস্ত সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেবে।
তাদের জন্য উপযুক্ত জবাব হয়ে যাবে। তাদের
মুখে সুপার গ্লুর মতো আটা লাগিয়ে দিবে। এবং এটা
আপনার দ্বারা খুবই সম্ভব। কিন্তু আমাদের সমস্যা
হচ্ছে আমরা সবাই জান্নাতে যেতে চাই কিন্তু
কেউ মরতে চাই না। কিন্তু সেটাতো অসম্ভব।

আর এই অসম্ভব কাজটাকে সম্ভব করার জন্য আপনার
জীবন থেকে চারটা "P' কে বাদ দিন আর ছয়টা টা
"P" কে জীবনের সাথে যোগ করুন। 
রব্বে কারীমের কসম করে বলছি, যদি এই গুলো
করতে পারেন তাহলে দুনিয়া আখেরাতের সফলতার
যত দরজা আছে সব আপনার জন্য খুলে যাবে।

যে চারটা P কে জীবন থেকে বাদ দিবেন:-----

প্রথম--P = Procrastination মানে হলো কাল ক্ষেপণঃ

আজ নয় কাল, কাল নয় পড়শু এভাবে শুধু নিজেকে পিছিয়ে। আপনাকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য
শয়তান আর প্রবৃত্তির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এই একটা
P ই যথেষ্ট। আপনি ভাবছেন বিকাল থেকে পড়া শুরু
করবেন, কিংবা আগামীকাল থেকে পড়া শুরু
করবেন। মনে রাখবেন সেই বিকাল কিংবা
আগামীকাল আপনার জীবনে আর কখনো
আসবে না। সেটা শুধু "আগামী" বলেই থেকে
যাবে। খুব ভালো করে মনে রাখুন যে সময়টা
আপনি অনর্থক ফেইছবুক চালাচ্ছেন, কম্পিউটারে
গেইম খেলতেছেন, অনর্থকভাবে বন্ধুদের
সাথে ঘন্টার ঘন্টা টি স্টলে বইসা আড্ডা দিতেছেন,
রাতের পর রাত গার্লফ্রেন্ড কিংবা বয়ফ্রেন্ডের
সঙ্গে কথা বলে কাটাচ্ছেন ঠিক সেই সময়টাতে
আপনার অন্য একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী
রাতের পর রাত, ঘন্টার পর ঘন্টা তার পড়ার পিছনে
ব্যয় করতেছে। তাহলে কিভাবে আশা করেন যে
আপনার আর তার ফলাফল এক হবে??? তাই এখনো
সময় আছে জীবন টাকে রুটিনে নিয়ে আসেন।
বাসার মধ্যে সময়টাকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগান।
অবসর সময় গুলোকেও কাজে লাগান প্যাডের
মাধ্যমে । ছোট ছোট প্যাড কিনুন। কোনটাতে
সাধারণ জ্ঞান লিখুন, কোনটাতে ভোকাবুলারি,
কোনটাতে বাংলা সাহিত্য... এভাবে লিখে আস্তে
করে নিজের প্যান্টের পকেটে ডুকিয়ে দেন।
টিউশনিতে গেলে, কিংবা কর্মক্ষেত্রে গেলে
ডেস্কের উপরে কিংবা আপনার চোখের সামনে
এটা কে রাখুন। স্টূডেন্ট পড়ানোর পাশাপাশি কিংবা
অফিসের কাজের ফাকে ফাকে যখনেই সুযোগ
পান একবার এটার দিকেন থাকান। রাস্তাঘাটে, কিংবা রিক্সায়
বাসে চড়ার সময় রাস্তায় সুন্দরী ছেলে
মেয়েদের দিকে না থাকিয়ে আপনার প্যাডের
দিকে থাকান। দেখবেন, দেখতে দেখতেই
আপনার সাধারণ জ্ঞান, ভোকাবুলারি, ইডিয়মস এন্ড
ফ্রেইজ কিংবা বাংলা সাহিত্য মুখস্থ হয়ে যাচ্ছে।
ভোকাবুলারি শেখার এর চেয়ে সহজ পন্থা আর
পাবেন না। জীবন টাকে এভাবেই মানিয়ে নিন।

দ্বিতীয়--P = Phobia মানে হলো ভয়ঃ

অনেক কিছুর ভয় হতে পারে যেমন নিজের অযোগ্যতার ভয়, নিজের অক্ষমতার ভয়, মানুষের সমালোচনার ভয়....
আরো কত কি। নিজের যোগ্যতা আর সক্ষমতার
ব্যপারে যদি আপনার ভয় হয়, তাহলে আপনার জন্য
বলছি, আপনি কি জানেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন
পবিত্র কোরআনে দুই প্রসিদ্ধ ফল আর দুইটা
পবিত্র এবং নিরাপদ নগরীর কসম খেয়ে
বলেছেন " আমি মানুষ কে অতি উত্তম গঠনে
সৃষ্টি করেছি " এই উত্তম গঠনের মধ্যে একটা
মানুষের যত ধরণের গুনাবলী দরকার যেমন তার
যোগ্যতা, সক্ষমতা, মেধা , শক্তি, সাহস, বীরত্ব সব
গুলো আল্লাহ দিয়ে দিয়ছেন। অর্থাৎ আপনার
মধ্যে অনেক যোগ্যতা আছে যা আপনি জানেন
না। কিংবা কখনো আপনি জানার চেষ্টাও করেন নাই।
তাই আপনার দায়িত্ব হলো আপনি নিজেকে নিজের
মধ্য থেকে আবিষ্কার করুন। আপনি যোগ্য বলেই
আপনি SSC, HSC, অনার্স, মাস্টার্স সব পাশ করছেন।
সুতরাং আপনি এই কথা বলবেন না যে চাকরি টা আমার
দরকার, কারণ এই কথার দ্বারা আপনার একটা অসহায়ত্ব
বুঝায় বরং আপনি বলুন এই চাকরিটা আমার জন্যই, আমি
চাকরিটা ডিজার্ভ করি। আমাকেই সেখানে যেতে
হবে। আমিই এটার উপযুক্ত ব্যক্তি। আর সমালোচনার
ভয়??? আপনি যদি V for vendetta মুভিটা দেখে
থাকেন তাহলে দেখবেন তাতে নায়কের একটা
monologue আছে যেখানে V দিয়ে অনেক
গুলো ওয়ার্ড বলা হয়। এদের মধ্যে একটা ওয়ার্ড
ছিলো Vermin যার অর্থ হলো নিচু শ্রেনীর
মানুষ বা জাত ছোটলোক। আর তারা কারা জানেন??
পশ্চাতে যারা আপনার সমালোচনা করে তারা হচ্ছে ঐ
vermin বা নিচু ও ছোটলোক শ্রেনীর মানুষ।
সুতরাং এদের সমালোচনা কানে নিয়ে এদের কে
উপরের শ্রেণীতে তুলবেন না । ছোটলোক
গুলোকে ছোটলোকের শ্রেনীতে
থাকতে দিন। এদেরকে ভালোওবাসবেন না ঘৃণাও
করবেন না। এদেরকে শুধু উপেক্ষা করুন। আপনার
আপন লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান।

তৃতীয়--P = Pessimistic বা হতাশগ্রস্থঃ 

এই P টাকেও আপনার জীবন থেকে দূর করতে হবে।
অবস্থার যতই অবনতি হোক না কেন, যেকোন
প্রতিকূল পরিস্থিতিই আসুক না কেন, কখনোই হতাশ
হবেন না। মনে রাখবেন এই দুর্যোগপূর্ন
পৃথিবীর কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়। এমন কি
আমাদের সমস্যা গুলোও। সব সময় নিজেকে আশা
ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আবদ্ধ রাখুন। ভাবুন আমার অবস্থা
যেমন তার চেয়েও আরো অধিক খারাপ হতে
পারতো। এখনতো অনেক ভালো আছি। খুব
শীঘ্রই আল্লাহ আমার দু:সময় দূর করে দেবেন।
আর আল্লাহ বান্দার আশা অনুযায়ী তার ব্যাপারে
ফায়সালা দেয়। নিজেকে সব সময় বলুন আমি
হেরে যাবার পাত্র নই। আমি হেরে যাবো বলে
স্বপ্ন দেখে নি। আমি ক্লান্ত কিন্তু আমি পরাজিত নই।
আমাকে আমার গন্তব্যে যেতেই হবে। আমি
থেমে যাওয়ার পাত্র নই। আমি লক্ষ্যে অবশ্যই
পৌছাবো।

চতুর্থ--P = Parasite মানে হলো পরজীবী। 

এই P টাকেও দূর করতে হবে। কারো কাছে
কোনভাবেই, না মানসিকভাবে, না আর্থসামাজিকভাবে
কখনো পরজীবী হবেন না। এক মাত্র আল্লাহ
ছাড়া কোন ব্যপারে কারো কাছে নির্ভরশীল
হবেন না । বন্ধুর নোট শীটের দিকে তাকিয়ে
থাকবেন না। নিজে নিজেই নোট করুন, নিজে
নিজেই পড়ুন। নিজের ব্যক্তি সত্ত্বার সাথে কাউকে
মিশ্রিত করবেন না। নিজের হৃদয়, মন, আবেগ
অন্যের হাতে তুলে দিবেন না। জীবনের চলার
পথটা একাই চলুন। একাকী পথ চলাটা কোন কঠিন কাজ
না, কিন্তু কঠিন হয়ে যায় তখন, যখন কেউ একজন
সঙ্গী হয়ে মাঝ পথ থেকে হারিয়ে যায়। যেটা
আপনাকে নীরবে নিভৃতে খুব ভোগাবে। যা
আপনি ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারবে না। হয়তো বা
আপনার ক্যারিয়ারের জন্য বিশাল একটা হুমকিও হতে
পারে। তাই এই Parasite এর P আপনার জীবন
থেকে দূর করতে হবে।

যে ছয়টা "P" আপনার জীবনের সাথে যোগ
করবেন:-

প্রথম--P = Positivity অর্থাৎ ইতিবাচক মনোভাবঃ 

এটার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি হলো " না এর সাথে না যোগ
করুন, আর হ্যা এর সাথে হ্যা "। কেউ যদি বলে
তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না, সাথে সাথে
আপনিও বলে দিন "তোমার কথা ঠিক না", কেউ যদি
বলে চেষ্টা করো পারবে, আপনিও বলুন
ইনশাআল্লাহ, হ্যা আমি পারবো । সব কিছু ইতিবাচকভাবে
চিন্তা করুন। নিজেকে ও নিজের যোগ্যতাকে
রেস্পেক্ট করুন। জায়গা মতো সেগুলো কে
প্রদর্শন করুন কিন্তু অহংকার করবেন না। যোগ্যতা
প্রদর্শন এক জিনিস আর অহংকার আরেক জিনিস।
আল্লাহ আপনাকে যোগ্যতা দিয়েছে সেটা তার
পক্ষ থেকে আপনার উপর নিয়ামত। সেটাকে
ব্যবহার করার জন্যই দিয়েছে, সিন্দুকে তালা দিয়ে
রাখার জন্য নয়। এতে নেতিবাচক মানষিকতার মানুষ
গুলো আপনাকে গালি দিয়ে বলবে "শালা তো
নিজের ঢোল নিজে পিঠায় " আপনি বলে দিন আমার
ঢোল আছে দেখেই আমি পিঠাতে পারি, পারলে
আমার মতো একটা ঢোল অর্জন করে তুমিও
পিঠানো শুরু করো। নিজের আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্ন
গুলো কে সন্তানের মতো লালন পালন করুন। এই
গুলোই আপনার চুড়ান্ত অর্জনের প্রতিচ্ছবি হয়ে
উঠবে।

দ্বিতীয়--P = Passion বা অর্জন করার তীব্র আকাঙ্ক্ষাঃ 

এমন না যে পাইলে পাইলাম, না পাইলে নাই। এরকম মানসিকতা নিয়ে কখনো কোন কাজে সফল হতে পারবেন না। মানসিকতা এই রকম হওয়া চাই যে, আমার একটাই লক্ষ্য যে আমাকে ক্যাডার হতেই হবে, আমাকে জব
পেতেই হবে, আমাকে সফল বিজনেসম্যান
হতেই হবে -- দ্বিতীয় আর কোন অপশন নাই,
দেখেবেন এই দৃড় প্রতিজ্ঞাই আপনাকে
গন্তব্যে নিয়ে যাবে।

তৃতীয়--P = Plan বা পরিকল্পনাঃ

এর মানে হলো আপনার চারপাশে চড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চিন্তাগুলো এক ফ্রেমে আবদ্ধ করা। আর এর মূল উদ্দ্যেশ্য
হলো গুরুত্ব অনুযায়ী কাজকে প্রাধান্য দেয়া।
আমার কাজ তো অনেক আছে কিন্তু এই মুহুর্তে
কোন কাজটা আমার জন্য সবচেয়ে জরুরী
সেটাকে নির্ধারণ করে আগে করা। এভাবে
ক্রমায়ন্বয়ে এগিয়ে যাওয়া। প্লান ছাড়া কোন
কাজেই সফলতা আশা করা যায় না। দিন শেষে সবকিছু
পণ্ডশ্রম মনে হবে। তাই প্লান হচ্ছে সফলতার
মৌলিক ভিত্তি।

চতুর্থ--P = Perseverance মানে কঠোর অধ্যবসায়ের
সাথে অনুশীলনঃ

পরিশ্রম আর অনুশীলন
এই গুলো হচ্ছে এক ধরণের সুমিষ্ট পানীয়ের
মতো যে এটা যত বেশী পান করবে তার
জীবন ততবেশী সুমিষ্ট হবে। আপনি নিরবচ্ছিন্ন
ভাবে অনুশীলন চালিয়ে যান। একবার ব্যর্থ
হয়েছেন বলে থেমে যাবেন না , আবার শুরু
করুন। কাজের মধ্যে লেগে থাকুন। কাজ করতে
থাকুন ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না আপনি আপনার
গন্তব্যে না পৌছিয়েছেন। অবিরামভাবে প্রচেষ্টা
চালিয়ে যান।

পঞ্চম--P = Patient বা ধৈর্যশীলঃ 

কাজ করতে করতে অনেক সময় বিরুক্তি চলে আসবে, কিংবা
হতাশা আসতে পারে কিন্তু এই মহুর্তে ধৈর্য্যের
সাথে সব কিছু মোকাবেলা করতে হবে। মনে
রাখবেন একটা রঙধনু দেখতে হলেও বৃষ্টির জন্য
অপেক্ষা করতে হয়, জোছনার আলো
উপভোগ করতে হলেও একটা রাতের জন্য
অপেক্ষা করতে হয় আর আপনি এমন কিছু অর্জন
করবেন যার মাধ্যমে আপনি সারাটা জীবন সুখে
শান্তিতে কাটাবেন, তার জন্য কিছু অপেক্ষা করবেন
না তা কি করে হয়। তাই অস্থিরও হওয়া যাবে না অলসও
হওয়া যাবে না। ধৈর্য্যের সাথে সব মোকাবেলা
করতে হবে। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে
আছেন।

ষষ্ঠ--P = Prayer বা দোয়াঃ

সফলতা হলো ৯৯% পরিশ্রম আর ১% দোয়ার যোগফল। তবে মাঝে মাঝে এই ১% যদি ঠিক না থাকে তাহলে বাকী ৯৯% ও অর্থহীন হয়ে পড়ে।
 অনেক আগে টিভিতে
একটা গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিত এইরকম গাড়িটা ৯৯%
ভালো এর মধ্যে এ.সি, GPS সিস্টেম সেট করা
আছে, এক্সট্রা ব্যাটারি সহ আরো অনেক কিছু।
তবে ১% সমস্যা আছে আর সেটা হলো গাড়িটার
ব্রেক গুলো নষ্ট। তো এই গাড়িটার ৯৯%
যেরকমভাবে ১% এর জন্য অর্থহীন হয়ে
গিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমাদের ৯৯% পরিকল্পনা,
পরিশ্রম অর্থহীন হয়ে যাবে যদি আমাদের ১%
দোয়া ঠিক ভাবে না হয়, আল্লাহ যদি কবুল না করেন।
তাই আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, হিন্দু, বৌদ্ধ,
খ্রিস্টান, ইয়াহুদি, ক্যাথলিক বা মুসলিম, আপনার পবিত্র
ধর্মীয় রীতিমতো আন্তরিকতার আপনার সৃষ্টি
কর্তার কাছে আপনার আকাঙ্ক্ষার জন্য প্রার্থনা
করুন। যারা মুসলিম আছেন তারা অবশ্যই পাঁচ ওয়াক্ত
নামায জামাতের সাথে পড়বেন। কোন অবস্থাতেই
এটা ছাড়বেন না। জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে।
পারলে শেষ রাতে তাহজ্জুদ পড়ুন। সে সময় দুয়া
কবুল হয়। আল্লাহর কাছে আকুতি মিনতি করে বলুন "
হে আল্লাহ তুমি আমাকে মানুষের কাছে
সমালোচনা বা তামাশার পাত্র বানিওনা। আমাকে যে
যোগ্যতা দিয়েছো তা কাজের লাগানোর তৌফিক
দেয়। কারো দুয়ারে লবিং এর জন্য দ্বারস্থ করিও না।
আমাকে নিরাপদে আমার সফলতার গন্তব্যে পৌছে
দেও। এইভাবে দোয়া করেন। মনে রাখবেন
একজন ভিক্ষুক যদি বার বার আমাদের দড়জায় এসে
কড়া নাড়ে তাহলে এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে
হলেও তাকে কিছু দান করে বিদায় করে দেই।
আমরা মানুষ হয়ে যদি এইরকম টা করতে পারি তাহলে
আমাদের রব আল্লাহর দড়জায় যদি আমরা বার বার কড়া
নাড়ি, তিনি অবশ্যই আমাদেরকে খালি হাতে ফিরিয়ে
দেবেন না।
At the end I will say that believe in your intuition
as well as inner wisdom and follow the
aforementioned instruction, In Sha Allah. Must
Success will come.
Best Of Luck guys.

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা ঃ
১. ফেইসবুক পেইজ
২. ফেইসবুক গ্রুপ
৩. টুইট্টার
৪. ইউটিউব 

Saturday, 27 July 2019

"ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়" - এমন একটি ঘটনা নিয়ে হাজির হলাম যা আপনার জীবনকে পাল্টে দিতে পারে


একদিন এক বাবা তার ছেলেকে একটি পুরোনো টি-শার্ট হাতে দিয়ে বলে এটির কত দাম হতে পারে? ছেলেটি বলে এক ডলার। তার বাবা তাকে সেটি দুই ডলারে বিক্রি করার জন্য বলে। সে অনেক চিন্তা করছিল। পুরোনো টি-শার্ট কিভাবে সে দুই ডলারে বিক্রি করবে। কিশোর ছেলেটি পুরোনো ও ময়লা টি-শার্টটিকে ধুয়ে পরিষ্কার করল। এরপর রোদে শুকিয়ে পুরোনো কাপড়ের স্তুপের নিচে রেখে সমান করল টি-শার্টটি। তারপর দীর্ঘ ছয় ঘন্টা চেষ্টার পর সে পাতাল রেলের এক যাত্রীর কাছে টি-শার্টটি দুই ডলারে বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছিল। তার বাবা তার কাজে খুশি হয়েছিল।

পরের দিন ঠিক একই রকম একটি ময়লা টি-শার্ট ছেলেটিকে দিয়ে বলে তা ২০ ডলারে বিক্রি করতে। এই ২০ ডলার তার পরিবারের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। ছেলেটি তার বাবার কথায় হেসেছিল। কারণ এত পুরোনো জামা ২০ ডলারে কোনভাবেই বিক্রি সম্ভব না। তবুও সে চেষ্টা করে দেখলো। প্রথমে তা সুন্দর করে ধুয়ে পরিষ্কার করল। সে আগের দিনের দুই ডলার দিয়ে কিছু রঙ ও তুলি কিনল। সে তার এক বন্ধুর কাছে গেল যে কিনা ভালো ছবি আঁকাতে পারতো। তার বন্ধু ঐ টি-শার্টটির উপর একটা মিকিমাউসের ছবি একে দিল। তারপর সে জামাটি বিক্রি করার জন্য অনেক জায়গায় গেল। প্রায় সারাদিন চেষ্টার পর শহরের ধনী শিশুদের কিন্ডারগার্ডেন এর এক শিশুর অনেক পছন্দ হয়ে গেল এবং সেটা কিনার জন্য বায়না ধরল। শিশুটির বাবা জামাটি ২০ ডলারে শুধু কিনলেনই না তাকে আরো পাঁচ ডলার বখশিশও দিল। আর এই ২৫ ডলার ছিল তার পরিবারের সারা সপ্তাহের উপার্যন যা সে একদিনেই আয় করেছিল।
ছেলের উদ্দীপনা দেখে বাবা অনেক আনন্দিত। 



পরেরদিন একই ভাবে আরেকটি পুরোনো জামা ছেলেটিকে দিয়ে তা ২০০ ডলারে বিক্রি করার জন্য বলে। এবারে ছেলেটি খুব চিন্তা করে আর ভাবতে থাকে কিভাবে সে এই কাজটি করতে পারে। সে সময় আমেরিকায় ‘ চার্লস এঞ্জেলস ’ চলচ্চিত্রটি ছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ছবিটির নায়িকা ফারাহ ফওলার নিউইয়র্কে আসেন চলচ্চিত্রটির প্রোমোশনের কাজে। প্রেস কনফারেন্স শেষে যখন তিনি গ্রীণরুমে যান তখন দেখেন এক ছোট কিশোর দাঁড়িয়ে আছে। সে তার টি-শার্টে অটোগ্রাফ চায়। এমন ফুটফুটে ছোট ছেলেটির আবদার তিনি ফেলতে পারেন নি। পরের দিন মাইকেল ব্রুকলিনের নিলাম ঘরে যান মিস ফারাহ ফাওলারের নিজের হাতে অটোগ্রাফ দেয়া জামাটি নিলামে বিক্রি করার জন্য। নিলামে ছেলেটি টি-শার্টটিকে ১২৫০ ডলারে বিক্রি করতে সক্ষম হন।
ছেলেটি যখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিল, পড়াশুনায় একদম ই ভালো লাগছিলনা তখন সে তার বস্তির পাশের টিলার উপরে প্রতিদিন বসে থাকত আর সূর্যাস্ত দেখত। ঠিক তেমন সময় ছেলেটির বাবা তাকে পাশে ডেকে নিয়ে বললেন,” তুমি টি-শার্ট বিক্রি থেকে কি শিক্ষা পেলে?” 

ছেলেটি তখন অনেক চিন্তা ভাবনা করে গম্ভীর ভাবে উত্তর দিয়েছিল, “ Where there’s a will, there’s a way.”
এই গল্পটি ছিলো American basketball player মাইকেলের জর্ডানের ।
সংগৃহীত

Monday, 20 May 2019

গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্য ৫ টি ভালো মার্কেটপ্লেস

আজ আপনাদের সবাইকে এমন কিছু ওয়েবসাইট এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিব যেখানে আপনি আপনার Graphics Design এর ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।


01. Creative Market

ডিজাইনারদের একটি ভালো লাগার ওয়েবসাইট ক্রিয়েটিভ মার্কেট। ক্রিয়েটিভ মার্কেট হচ্ছে অন্যতম অনলাইন মার্কেট যেখানে আপনি ডিজাইন বিক্রি করতে পারবেন। সেটা আপনি জাই তৈরি করুন না কোন, যেমনঃ Graphics, Business Cards, Fronts, photos, even 3D assets. আর এখানে কোন প্রোকার Exclusive Look in নেই। আপনি আপনার মনের মতো দাম বসাতে পারেন এবং সেটি একবার না, আপনি চাইলে হাজার বার বিক্রি করতে পারেন এখানে এবং আপনি প্রোতিটি বিক্রি থেকে ৭০% টাকা আপনার পকেটে আনতে পারবেন।

02. Design Cuts



এই ওয়েবসাইটি পুরো বিশ্বের মদ্ধে অন্যতম এখানে অনেক বড় বড় ডিজাইনার কাজ করে থাকে। এখানে আপনি Patterns, brushes, backgrounds, fonts, graphics সহ আরো অনেক কিছু বিক্রি করতে পারবেন।

03. Art Web

এইসাইটি হচ্ছে এক কথায় একটি E-commerce ওয়েবসাইট। এখানে আপনি আপনার করা আর্ট ছবি আপলোড করতে পারবে এবং যা পুরো বিশ্বের মানুষের কাছে চলে যাবে এবং তাদের যদি ভালো লাগে তাহলে আপনার ডিজাইটি তারা কিনে নিবে।

04. Etsy

Etsy একটি গ্রোবাল E-commerce ওয়েবসাইট। এখানে Creative looking Design আপনি বিক্রি করতে পারবেন। যেটা আপনার হাতের তৈরি হতে হবে। এখানে নিজের হাতে তৈরি করা কিছু ক্রিয়েটিভ কাজ আপনি চাইলে বিক্রি করতে পারেন।

05. MyFonts

যারা Typography অনেক ভালো পারেন তাদের জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আছে কিনা আমার জানা নেই। আমি মনে করি আপনি যদি একজন ভালো Typography হয়ে থাকেন। যদি মনে করেন আপনি অনেক ভালো এবং Stylish Font বানাতে পারবেন তাহলে আপনি এখানে একটি একাউন্ট করুন।  (Font তো আর্ট করলেন কিন্তু কিভাবে TTF Front তৈরি করবেন তা যদি জানতে চান তাহলে এখানে কমেন্ট করুন আমি আবার আপনাদের জন্য একটি পোস্ট লিখবো যে কিভাবে TTF Font তৈরি করতে হয়)।

ক্যারিয়ার গড়ুন একজন ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে

ওয়েব ডেভেলপার বর্তমানে অত্যন্ত চাহিদা সম্পন্ন পেশা। ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। দিন দিন বাড়ছে ওয়েবসাইটের সংখ্যা। এ পৃথিবীতে এক বিলিয়নেরও বেশি ওয়েবসাইট রয়েছে। আর এর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে দক্ষ ওয়েব ডেভেলপারের। তথ্য প্রযুক্তির যুগে, ক্যারিয়ারের জন্য ওয়েব ডেভেলপমেন্ট অনেক এগিয়ে রয়েছে। ঘরে বসেই টাকা উপার্জন করা যায়। ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে খুব সহজে চাকরি পাওয়া যায়। এখন আশাকরি কাজে লাগবে।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের মধ্যে পার্থক্যঃ

ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে একটা পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট তৈরির দুটো ধাপ। ডিজাইন হচ্ছে প্রথম ধাপ এবং ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে শেষ ধাপ।
ওয়েব ডিজাইন অংশে একটি ওয়েবসাইটের ফ্রন্ট-এন্ড অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা যে অংশ দেখতে পায় সেটা করা হয়ে থাকে আর ডেভেলপমেন্ট অংশে ব্যাক-এন্ড অর্থাৎ একটি ওয়েবসাইটের ভেতরের ফাংশনাল পার্টগুলো ডেভেলপ করা হয়ে থাকে।
বিষয়টি পরিষ্কার হবে যদি আমরা ফেসবুকের কথাই চিন্তা করি। ফেসবুকে আমরা যে কালার, লেখা, ছবি ইত্যাদি দেখি, এই প্রদর্শনের কাজগুলো হয় ডিজাইন পার্টের মাধ্যমে, আর এই যে আমরা সেখানে রেজিস্ট্রেশন করতে পারি, টিউন করতে পারি, টিউমেন্ট করতে পারি এ জাতীয় ফাংশনাল কাজগুলো আটোমেটিক করা হয় ডেভেলপমেন্ট পার্ট থেকে।


যেভাবে ওয়েব ডেভেলপার হতে হবে : চাইলে ও যে কেউ বিশ্বসেরা ওয়েব ডেভেলপার হতে পারে। কিন্তু এর জন্য সবার প্রথম প্রয়োজন একাগ্রতা। আর প্রয়োজন প্রচুর পরিশ্রম ও সাধনা। পরিশ্রম ও সাধনা ছাড়া কেউ কোনো কাজে কখনো সফল হতে পারেনি। আপনি সফল হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই পরিশ্রমী হতে হবে। আপনি যদি একাগ্রচিত্তে পরিশ্রম করতে রাজি থাকেন এবং ধৈর্যসহকারে আপনার সাধনা চালিয়ে যান, তা হলে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে আপনি অবশ্যই সফল হবেন।

কেন ওয়েব ডেভেলপার হবেন?

এক জরিপ থেকে দেখা যায়, শুধু আমেরিকাতেই প্রতি মাসে প্রায় ১৬ মিলিয়নের বেশি অর্থাৎ ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়ে থাকে! যার প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি করা হয় প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার হায়ার করে এবং যার মার্কেট ভেল্যু ২০ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা! একটা সময় ছিল যখন ওয়েবসাইট ছিল শখের একটা বিষয়। কিন্তু এখন তা আর কোনো শখ বা বিলাসিতা নয়, বরং অবশ্য প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন প্রতিদিনই ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ওয়েবসাইট তৈরি করছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় দক্ষ ওয়েব ডেভেলপারের সংখ্যা নগণ্য। ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মার্কেট প্লেসে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে পারেন। এখানেই হতে পারে আপনার উপার্জনের সবচাইতে বড় সুযোগ। মার্কেট প্লেসগুলোয় সবচেয়ে বেশি চাহিদা ওয়েব ডেভেলপারের। পারিশ্রমিকও অন্য সব কাজের তুলনায় বেশি। যেখানে তুমুল হারে প্রতিদিন গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের সংখ্যা বেড়ে চলেছে তার তুলনায় নতুন ওয়েব ডিজাইনারের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। প্রতিদিন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সেক্টরের মার্কেট সাইজ বিদ্যুৎ গতিতে বেড়ে চললেও সেই হারে বাড়ছে না ওয়েব ডেভেলপারের সংখ্যা। এর ফলে বিশাল চাহিদা তৈরি হয়েছে এই সেক্টরে!

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ

ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো মাপকাঠি নয়। তবে ইংরেজিতে দক্ষ হলে মার্কেট প্লেসে খুব ভালো করা যাবে। এ ছাড়া আরেকটি কারণ হলো – ওয়েব ডেভেলপমেন্টের ভালো টিউটোরিয়াল বা বই ইংরেজিতে সহজলভ্য। তবে এখন বাংলাতেও অনেক ভালো টিউটোরিয়াল পাওয়া যাচ্ছে।

তৈরি হতে কতটা সময় প্রয়োজনঃ

আপনার মেধা ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করছে আপনার তৈরি হতে কত সময় লাগবে। আপনি কত দ্রুত গোটা ব্যাপারটা গ্রহণ করতে পারছেন। এ ছাড়া আপনি কতটা সময় ব্যয় করবেন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার জন্য তার ওপরও। তবে সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে যে কেউ মোটামুটি ভালো ওয়েব ডেভেলপার হতে পারে। আসল কথা হলো, আপনি কখনো এটা শিখে শেষ করতে পারবেন না। ছয় মাস ধারণা নেওয়ার পর আপনিই বুঝতে পারবেন আপনি আসলে কাজ নেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে কতটা যোগ্য। আপনাকে অবশ্যই নতুন নতুন আপডেট সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং সেই অনুযায়ী নিজেকে আপডেট করে নিতে হবে। তা না হলে আপনি কখনই সফল হতে পারবেন না। সাময়িক সফল হলেও অচিরেই আপনি আপনার প্লেস হারাবেন। মনে রাখবেন শেখার কোনো শেষ নেই।

কোথায় শিখবেন?

এখন অনলাইনে এত রিসোর্স যে খুব সহজেই আপনি শিখতে পারবেন। এখানে আপনি সব টিউটোরিয়াল রিসোর্স পাবেন। অথবা বিভিন্ন প্রকার ট্রেনিং সেন্টার থেকেও শিখতে পারেন। একটা ব্যাপারে লক্ষ রাখবেন আপনাকে অবশ্যই সময় দিতে হবে। ইউটিউবেও বিভিন্ন বাংলা এবং ইংরেজি টিউটোরিয়াল রয়েছে। এই সাইট থেকেও আপনি অনেকে শিখতে পারবেন।
কোথায় থেকে শিখব এটা তো পেলাম, কিন্তু কীভাবে শুরু করবো, কীভাবে একটা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করবো, সে সম্পর্কে নানান প্রশ্ন মাথায় আসছে, তাই তো? প্রথমে যে কাজটি করতে হবে তা হলো, প্রত্যেক টিঊটোরিয়াল দেখার সাথে সাথে ওই কাজ নিজে একবার করে দেখবেন। মনে রাখবেন দেখতে যতটুকু সহজ মনে হয়, নিজে নিজে করতে গেলে অনেক কঠিন মনে হয়। নিজের হাতে লিখলে খুব তাড়াতাড়ি মনে থাকে।



একজন ওয়েব ডেভেলপার কোথায় কাজ করেন?

ওয়েব ডেভেলপার হলে আপনার কাজের ক্ষেত্র শুধুমাত্র ওয়েবসাইটের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগে সবধরনের প্রতিষ্ঠানেরই ওয়েবসাইট প্রয়োজন হয়। তাই ওয়েব ডেভেলপারের কাজের ক্ষেত্র একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ হলেও কাজের ধরনে বেশ বৈচিত্র্য থাকে এবং এক্ষেত্রে সৃষ্টিশীলতা দেখানোর বেশ সুযোগ থাকে। বৈচিত্র্যের সাথে কাজ করতে চান এবং সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি আগ্রহী হলে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে আপনি কাজ করতে পারেন।

একজন ওয়েব ডেভেলপার কী ধরনের কাজ করেন?

প্রথমেই বলে নেওয়া হয়েছে একজন ওয়েব ডেভেলপারের কাজ ওয়েব ডিজাইনারের থেকে আলাদা। ওয়েব ডিজাইনার সাধারণত ওয়েবসাইটের কারুশৈলী, ওয়েবসাইটের রংবিন্যাস এবং প্রতিটি পেজের ইন্টারফেস কেমন হবে সেই ধরনের কাজগুলো সম্পাদন করেন। মোদ্দাকথা, ওয়েবসাইটের বাহ্যিক অবয়ব তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন ওয়েব ডিজাইনারকে। ওয়েব ডিজাইনার ও ওয়েব ডেভেলপার – উভয় ক্ষেত্রেই কোডিং ও প্রোগ্রামিং –এর বেশ ভালো জ্ঞান থাকতে হয়। ওয়েব ডেভেলপারের কাজ হয় ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরীণ কাজ সম্পাদন করা। একটি ওয়েবসাইটের কাঠামো কেমন হবে, সার্ভারের কাজ সম্পাদন করা থেকে শুরু করে ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য সার্ভারের সমস্যা সমাধান করা এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের কাজ সহজ করা ও কাঠামো দাঁড় করানো একজন ওয়েব ডেভেলপারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ওয়েব ডেভেলপার হলে আপনার কাজের ধরন হবে নিম্নরূপ –
  • ওয়েবসাইটের কাঠামো তৈরি করা এবং মেরামত করা;
  • সার্ভারের কাজ ঠিক করার মাধ্যমে ওয়েবসাইটের কাজ সহজ করা ও সমন্বয় করা;
  • ওয়েবসাইট কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে সেই সমস্যার সমাধান করা;
  • ওয়েবসাইটের ফ্রন্ট এন্ড ও ব্যাক এন্ডের কাজ আপনাকে করতে হবে। ফ্রন্টএন্ড মানে ওয়েবসাইটের বাহ্যিক অবয়ব। এক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের বাহ্যিক অবয়বের ক্ষেত্রে কাঠামো ঠিক রাখার কাজ করতে হবে আপনাকে। অপরদিকে ব্যাকএন্ড-এর ক্ষেত্রে সাধারণত সার্ভার, অ্যাপ্লিকেশন ও ডাটাবেজ – এই তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ করা লাগে। সার্ভারে সাধারণত ডাটাবেজ থাকে যেই ডাটাবেজে আপনার সব তথ্যগুলো জমা করা থাকে। ফ্রন্টএন্ড ও ব্যাকএন্ড দুই ধরনের কাজই একসাথে করতে চাইলে বর্তমানে ওয়ার্ডপ্রেস-এর মাধ্যমে তা করা সম্ভব। ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে আপনাকে ওয়েবসাইটের তথ্য ইনপুট বা প্রবেশসহ সার্ভারের কাজ ও অ্যাপ্লিকেশনের কাজ আপনার করা লাগবে;
  • ওয়েবসাইট মনিটরিং-এর কাজ করতে হবে আপনাকে।



একজন ওয়েব ডেভেলপারের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

  • ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করতে চাইলে ব্যক্তিগত দক্ষতা বেশি জরুরী। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও ব্যক্তিগত দক্ষতার উপর নির্ভর করে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করতে চাইলে যোগ্যতার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ হলেও সাধারণত কম্পিউটার প্রকৌশল বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি আছে এমন কাউকেই নিয়োগ দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে কম্পিউটার প্রকৌশল বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকলেও আপনাকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি বা আইটি, কম্পিউটার প্রকৌশল, টেলিকমিউনিকেশন প্রকৌশল বিষয়ে ডিগ্রির কথা উল্লেখ করা থাকে। এর পাশাপাশি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় পুরোনো অভিজ্ঞতা এবং সম্যক ধারণা ও জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ডিগ্রির বিষয়টি নিয়োগের জন্য শিথিল করা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নির্দিষ্ট কোন বিষয় নয় বরং শুধুমাত্র ব্যাচেলর বা মাস্টার্স ডিগ্রি থাকলেই আপনার কোডিং ও প্রোগ্রামিং-এর ধারণার উপর ভিত্তি করে আপনাকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ এবং কম্পিউটার প্রকৌশল বিষয়ে ডিগ্রি না থাকলেও নিয়োগ পেতে পারেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে কম্পিউটার প্রকৌশল বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রির কথা উল্লেখ করা থাকতে পারে।
  • ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিয়োগ পাওয়ার জন্য ন্যূনতম ১ বছরের অভিজ্ঞতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৭ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজনীয় হতে পারে। সাধারণত ১ থেকে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই এক্ষেত্রে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া যায়;
  • ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করতে চাইলে নারী বা পুরুষ প্রার্থী নিয়োগের কথা আলাদাভাবে সাধারণত উল্লেখ করা থাকে এবং এ ধরনের কোন বাধ্যবাধকতাও এক্ষেত্রে নেই। নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্যই কাজটি সমান ভার ও অর্থ বহন করে বিধায় নারী-পুরুষ উভয়েই ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কোন প্রাধান্য ছাড়াই কাজ করতে পারেন;
  • ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করতে চাইলে অভিজ্ঞতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিধায় এক্ষেত্রে নিয়োগের জন্য বয়সসীমা উল্লেখ করা থাকে। সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছরের একটি বয়সসীমার কথা উল্লেখ করা থাকে নিয়োগের জন্য। তবে গড় সর্বনিম্ন ১৮ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ বছরের একটি বয়সসীমা নির্দিষ্ট করা যেতে পারে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে।

একজন ওয়েব ডেভেলপারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে গেলে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশনের কাজ জানতে হবে আপনাকে। এক্ষেত্রে সফটওয়্যার বিষয়ে আপনার সম্যক ধারণা থাকতে হবে;
  • এইচটিএমএল-৫, সিএসএস-৩, ওয়ার্ডপ্রেস, অ্যাজাক্স থেকে শুরু করে পিএইচপি, এপিআই, জেএসওএন সহ সব ধরনের সফটোয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশনের কাজ জানতে হবে;
  • ফ্রন্টএন্ড ও ব্যাকএন্ড-এর কাজ করার ক্ষেত্রে সম্যক ধারণা থাকতে হবে এবং নতুন জ্ঞান আহরণের জন্য নিয়মিত ইন্টারনেটে খোঁজ রাখতে হবে নতুন কিছু করার জন্য;
  • সৃষ্টিশীল হওয়া জরুরী। ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেত্রে আপনার সৃষ্টিশীলতা এবং অ্যাপ্লিকেশন ও কোডিং দক্ষতার পরিচয় দিতে পারলে পরবর্তীতে ক্যারিয়ারে অগ্রগতির জন্য তা সুবিধাজনক হয়।

ওয়েব ডেভেলপারের আয়ঃ

দক্ষ ওয়েব ডেভেলপার অল্প সময়ের মধ্যে মাসে কয়েক লাখ টাকা সহজেই উপার্জন কার সম্ভব। Indeed.com-এর দেওয়া এক তথ্য অনুযায়ী, একজন ওয়েব ডিজাইনারের গড় বার্ষিক বেতন ৬০ হাজার ১৮২ মার্কিন ডলার; যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ ১৪ হাজার ৫৬০ টাকা, প্রতি মাসে হিসাব করলে দাঁড়ায় ৪ লাখ টাকা।

প্রথম প্রকাশিতঃ সি টেক ব্লগ