Sunday, 15 September 2019

প্রতিযোগিতার এই পৃথিবীতে ক্যারিয়ার গড়ার ১১টি টিপস

প্রতিযোগিতার এই পৃথিবীতে ক্যারিয়ার গড়ার ১১টি টিপস
আসসালামু আলাইকুম
আশা করি সবাই ভাল আছেন।
আজকের টপিক ঃ ক্যারিয়ার টিপস।
প্রতিযোগিতার এই পৃথিবীতে ক্যারিয়ার গড়ার ১১টি টিপস নিয়ে হাজির হলাম। মনোযোগ দিয়ে পোস্টটি পড়ার অনুরুধ রইল।

প্রতিযোগীতার এই পৃথিবীতে নিজেকে সফল করার জন্য নিজের সর্বোচ্চ সাধ্য দিয়েই চেষ্টা করতে হবে। কিভাবে নিজেকে আপনি সফল করবেন, আপনার জন্যে ১১টি ক্যারিয়ার টিপসঃ

১. লক্ষ্য নির্ধারন করুনঃ
আপনার ক্যারিয়ারের স্বল্প মেয়াদী লক্ষ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারন করুন। মাঝে মাঝে নিজের কাজগুলো পর্যালোচনা করুন আপনি যেভাবে চাইছেন সেভাবেই আপনার লক্ষ্যের দিকে আপনি এগুতে পারছেন কিনা। যদি মনে হয়, যেভাবে চাইছিলেন সেভাবে হচ্ছেনা তবে কোন কোন সমস্যার কারনে পিছিয়ে পড়ছেন খুঁজে বের করুন এবং সমাধান করার চেষ্টা করুন।

২. ফোকাসড হোনঃ
আপনি যদি শারীরিক  অথবা মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত হয়েও থাকেন, চেষ্টা করুন সেই সমস্যাগুলো একপাশে সরিয়ে রেখে আপনার ক্যারিয়ার এবং কাজের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে। চেষ্টা করুন ক্যারিয়ারের প্রতি ফোকাসড হতে।



৩. যত পারেন নিজের স্কিল বাড়ানঃ
যতটা সম্ভব নিজের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা বাড়ানোর চেষ্টা করুন। প্রতিযোগীতার এ সময়ে অন্য সবাই যখন প্রতিনিয়ত নিজের জ্ঞান এবং কোয়ালিটি বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছে আপনি সেটা না করলে পিছিয়ে পড়বেন। ইন্টারনেট অথবা বই যেখানে ভালো লাগে পড়ার চেষ্টা করুন। যত পড়বেন ততই জানবেন এবং শিখবেন, পড়ার কোন বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি।

৪. অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করুনঃ
আপনার সারাদিনের কাজের পরিকল্পনা করুন। কি কি কাজ করবেন তার তালিকা তৈরি করুন এবং কোন কাজগুলোকে অগ্রাধিকার
দিয়ে করবেন সেটা ঠিক করুন। এক্ষেত্রে যে কাজটা অধিকতর জরুরী সেটা আগে তারপর বাকিগুলো করার চেষ্টা করুন। আর যখন সবগুলো কাজই জরুরী এবং স্বল্পতম সময়ে সবগুলোই শেষ করতে হবে আপনাকে, সেক্ষেত্রে প্রত্যেক কাজের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের সিডিউল তৈরি করুন এবং সে সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করুন।

৫. সামাজিক হোনঃ
সুযোগ হলে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করুন। সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতেও নিজের অংশগ্রহন বাড়াতে থাকুন, এতে অনেক নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হবার সুযোগ পাবেন। এভাবে মানুষের সাথে মেশার অভিজ্ঞতা হবে এবং আপনার নতুন নতুন ক্ষেত্রের যোগাযোগ বাড়বে। কে বলতে পারে কখন কোন কানেকশান আপনার কাজে লেগে যাবে।

৬. নিজের গুনাগুন সর্ম্পকে সজাগ থাকুনঃ
এই পৃথিবীর কেউই পরিপূর্ন নয়, প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু দূর্বলতা আছে। নিজেকে জানুন, কোন কোন কাজে আপনি বেশী সামর্থ্যবান আর কোন কোন কাজে আপনি দূর্বল জেনে নিন এবং দূর্বলতা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করুন। দূর্বলতা আমাদের সবারই আছে, কিন্তু যে যতটা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করতে পারে সেই তত বেশী সফল হতে পারে।

৭. চ্যালেঞ্জ নিনঃ
নতুন কোন কাজ কে এড়িয়ে যাবেন না, চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহন করুন। আপনার অব্যাহত চেষ্টা আপনাকে অন্য এক উচ্চতায় যেতে সাহায্য করবে। চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফল হলে আপনার আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়ে যাবে বহুগুন, অন্যের কাছেও আপনার যোগ্যতা আপনি প্রমান করতে পারবেন।

৮. যোগাযোগ ক্ষমতা বাড়ানঃ
সময়টাই এখন যোগাযোগের, যত বেশী যোগাযোগ তত বেশী সুযোগ। অন্যদের কথা শুনুন, জানুন। কারন প্রতিটা মানুষেরই ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা আছে জীবন এবং ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে তা আপনার কাজে লাগুক অথবা না লাগুক। এতে আপনার জ্ঞানের পরিধি বাড়বে এবং কোন জ্ঞানই শেষ পর্যন্ত বৃথা যায় না।

৯. গল্প করা এড়িয়ে চলুনঃ
আপনি যেই প্রফেশনেই থাকুন না কেন, নিজের প্রফেশনের পাশাপাশি অন্যের কাজকেও সম্মান করুন। অফিসের বস, সহকর্মীদের সম্পর্কে গসিপ এড়িয়ে চলুন। অন্যেরা করে করুক আপনি চেষ্টা করুন এতে অংশগ্রহন না করতে। এভাবে অন্যের কাছে আপনি আলাদা একটি গ্রহনযোগ্যতা পাবেন।

১০. সন্তুষ্টি খুজে নিনঃ
আপনি আপনার কাজের ক্ষেত্রে সন্তষ্ট না থাকলে, এই কাজেরই কোন না কোন ভালো দিক খুজে বের করুন এবং এই ভালো দিকটিকে ভালবাসুন। এতে আপনার হতাশা দুর হবে। যদি তারপরও সেটা না হয়, ভিন্ন কোথাও চেষ্টা করুন। কনফুসিয়াস বলেছেন, “এমন কাজ করুন যা করতে ভালবাসেন, তাহলে আপনার জীবনে আপনাকে একদিনের জন্যও আর কাজ করতে হবে না।”

১১. রিলাক্স হোনঃ
মাঝে মাঝে ভিন্ন কিছু করুন যা আপনার ভালো লাগে, যা আপনার শখ। নিজেকে মাঝে মাঝে সময় দিলে আপনি সপ্তাহের বাকী কর্মদিবসগুলোতে কর্মস্পৃহা ফিরে পাবেন।
জীবন অথবা ক্যারিয়ার যেখানেই সফল হতে চান, তার জন্য আগে নিজেকে তৈরি করুন, নিজেকে ভালোবাসুন এবং নিজেকে জানুন। নিজেকে তৈরি করতে পারলে দেখবেন শুধু ক্যারিয়ার নয় আপনার জীবনের সবকিছুই আপনার নিয়ন্ত্রনে চলে আসছে।

পোস্টটি কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।


No comments:

Post a Comment

পোস্ট পড়ার পর অবশ্যই মন্তব্য করবেন। কারণ আপনার একটি মন্তব্য পোস্ট লেখককে ভাল কিছু লিখতে অনুপ্রাণিত করে। তবে এমন মন্তব্য করবেন না, যা লেখকের মনে আঘাত হানতে পারে।