Monday, 19 August 2019

স্যাটেলাইট কি? কিভাবে কাজ করে? এর ভিতরে কি থাকে? সম্পূর্ণ তথ্যবহুল পোস্ট। What is satellite? How does it work? What is inside it? Full Info about Satellite.

আসসালামু আলাইকুম।
আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভাল আছেন।

এই পোস্টটি যারা পড়তেছেন বা এই ব্লগে যারা নিয়মিত ভিজিট করেন তাদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
প্রকৃতপক্ষে নাইন টেক বিডি গড়ে উঠেছে কিছু প্রযুক্তি আর বৈজ্ঞানিক তথ্যাবলি নিয়ে।
তাই আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব বর্তমান সময়ের সবচেয়ে নির্ভরশীল প্রযুক্তি "স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ " নিয়ে। আর প্যাচাল না বাড়িয়ে শুরু করলাম।

"স্যাটেলাইট" শব্দটা আসছে ল্যাটিন ভাষা থেকে, যার ইংরেজি অনুবাদ করলে দাঁড়ায় “অনুসরণ করা”। চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে, চাঁদ একটি স্যাটেলাইট। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, সুতরাং পৃথিবীও একটি স্যাটেলাইট। সূর্য আকাশগঙ্গা গ্যালাক্সির চারদিকে ঘুরছে, সুতরাং সূর্যও একটি স্যাটেলাইট। এগুলা হচ্ছে প্রাকৃতিক স্যাটেলাইট। কিন্তু, “মানুষের তৈরি কোনো যন্ত্র পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে” এই ধরনের কিছু বুঝানোর জন্য “স্যাটেলাইট” শব্দটার ব্যবহার হয়  প্রথমে থিওরিটিক্যালি, ১৯৩৬ সালে এবং পরে বৈজ্ঞানিকভাবে গৃহীত হয় ১৯৫৭ সালে, যখন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাকাশে মানবসভ্যতার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠায়। স্পুটনিক-১ এর নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই। এর পরের বছরই ১৯৫৮ সালে আমেরিকা পাঠায় তাদের বানানো প্রথম স্যাটেলাইট, নাম এক্সপ্লোরার-১।

কোন দেশের কতটি স্যাটেলাইটঃ

দক্ষিণ এশিয়ায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তালিকায় শীর্ষে ভারত। গেল বছর একদিনে ১০৪টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে ইতিহাস গড়ে দেশটি। এর আগে ২০১৪ সালে রাশিয়া এক সঙ্গে ৩৭টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছিল। এছাড়া, গেল বছর ৫ মে ''দক্ষিণ এশিয়া কৃত্রিম উপগ্রহ'' নামে একটি যৌথ প্রকল্পও শুরু করে ভারত।
স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও এর গতিবিধি নিয়ে কাজ করে এন২ওয়াইও.কম ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, সাবেক সোভিয়েত রাশিয়া ভুক্ত দেশগুলোর (কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস) সম্মিলিত স্যাটেলাইট সংখ্যা ১৫০৪টি, যুক্তরাষ্ট্রের ১৬১৬টি, চীনের ২৯৮টি, জাপানের ১৭২টি, ফ্রান্সের ৬৮টি (জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে ১টি), ভারতের ৮৮টি, জার্মানির ৫২টি, কানাডার ৪৮টি, যুক্তরাজ্যের ৪২টি, ইতালির ২৭টি, দক্ষিণ কোরিয়ার ২৪টি, স্পেনের ২৩টি, অস্ট্রেলিয়ার ২১টি, আর্জেন্টিনার ১৮টি, ইসরাইলের ১৭টি, ব্রাজিলের ১৭টি (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ১টি এবং চীনের সঙ্গে যৌথভাবে ৩টি), ইন্দোনেশিয়ার ১৬টি, তুরস্কের ১৪টি, সৌদি আরবের ১৩টি, মেক্সিকোর ১২টি, সুইডেনের ১২টি, সিঙ্গাপুরের ৯টি, ডেনমার্কের ৯টি, তাওয়ানের ৯টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৯টি, থাইল্যান্ডের ৯টি, নরওয়ের ৮টি, মালয়েশিয়ার ৬টি, কাজাখস্তানের ৬টি, আলজেরিয়ার ৬টি, নাইজেরিয়ার ৬টি, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬টি, নেদারল্যান্ডসের ৬টি, গ্রীসের ৪টি, লুক্সেমবার্গের ৪টি। পাকিস্তান, চিলি, ভেনিজুয়েলা, ভিয়েতনামের ৩টি করে; বেলারুশ ইকুয়েডর মিশর, চেক রিপাবলিক, উত্তর কোরিয়া ফিলিপিন্স, পোল্যান্ড এবং পর্তুগালের ২টি করে;
আজারবাইজান, বলিভিয়া, বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, ইরাক, ইরান, লাটভিয়া, লাওস, লিথুনিয়া, মরক্কো, পেরু, স্লোভাকিয়া এবং উরুগুয়ের ১টি করে স্যাটেলাইট রয়েছে। আর ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ।

কিভাবে কাজ করেঃ

কৃত্রিম উপগ্রহ এমনভাবে পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘূর্ণায়মান হয়, যাতে এর গতির সেন্ট্রিফিউগাল বা বহির্মুখীন শক্তি ওকে বাইরের দিকে গতি প্রদান করে - কিন্তু পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তি একে পৃথিবীর আওতার বাইরে যেতে দেয় না। উভয় শক্তি কৃত্রিম উপগ্রহকে ভারসাম্য প্রদান করে এবং কৃত্রিম উপগ্রহটি পৃথিবীর চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে। যেহেতু মহাকাশে বায়ুর অস্তিত্ব নেই তাই এটি বাধাহীনভাবে পরিক্রমণ করে। কৃত্রিম উপগ্রহগুলো বৃত্তাকারে পরিক্রমণ করে না, তার গতি ডিম্বাকৃতির।
টিভি ও বেতারসংকেত প্রেরণ এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী কৃত্রিম উপগ্রহগুলো সাধারণত পৃথিবী থেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে।
পৃথিবী থেকে বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে তথ্য পাঠানো হয়, কৃত্রিম উপগ্রহ সেগুলো গ্রহণ করে এবং বিবর্ধিত (এমপ্লিফাই) করে পৃথিবীতে প্রেরণ করে। কৃত্রিম উপগ্রহ দুইটি ভিন্ন কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করে সিগনাল (তথ্য) গ্রহণ এবং পাঠানোর জন্য। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পৃথিবীতে আসা সিগনাল অনেক দুর্বল বা কম শক্তিসম্পন্ন হয়ে থাকে, তাই প্রথমে ডিস এন্টেনা ব্যবহার করে সিগনালকে কেন্দ্রীভূত করা হয় এবং পরে রিসিভার দিয়ে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হয়।

আপলিঙ্কস এবং ডাউনলিঙ্কসঃ
আপনি যদি পৃথিবীর একপাশ থেকে অন্য পাশে কোনও টিভি সম্প্রচারের মতো কিছু প্রেরণ করতে চান, তবে তিনটি স্তরের মাধ্যমে করতে হবে। প্রথমত, আপলিংক এর কথা বলি, যেখানে পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে উপগ্রহটিতে বিভিন্ন তথ্য আপলোড করা হয়। এরপরে, স্যাটেলাইটটি বেশ কয়েকটি অনবোর্ড ট্রান্সপন্ডার (রেডিও রিসিভার, পরিবর্ধক এবং ট্রান্সমিটার) ব্যবহার করে ডেটা জমা করে এবং তা সিগনালে পরিবর্তন করে। এই আগত সংকেতগুলিকে ফ্রিকুয়েন্সিতে রূপ দিতে পারে এবং তাদের ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন করতে পারে, তাই আগত সংকেতগুলি বহির্গামী সংকেতগুলির সাথে বিভ্রান্ত হয় না। একই উপগ্রহের বিভিন্ন ট্রান্সপন্ডার বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি বহনকারী বিভিন্ন টিভি স্টেশন পরিচালনা করতে ব্যবহৃত হয়। 

অবশেষে,
ডাউনলিংকঃ যেখানে ডেটা আবার পৃথিবীর অন্য কোথাও অন্য গ্রাউন্ড স্টেশনে প্রেরণ করা হয়। যদিও কেবলমাত্র একটি মাত্র আপলিংক রয়েছে, কয়েক মিলিয়ন ডাউনলিংক থাকতে পারে, উদাহরণস্বরূপ, যদি অনেক লোক একই উপগ্রহ টিভি সংকেত একবারে গ্রহণ করে। কোনও যোগাযোগ উপগ্রহ যখন একজন প্রেরক এবং প্রাপক (একটি স্থান এবং আবার একটি ডাউনলিংক দিয়ে আবার ফিরে যায়) এর মধ্যে একটি সংকেত রিলে করতে পারে, স্যাটেলাইট সম্প্রচারে সাধারণত এক বা একাধিক আপলিংক (এক বা একাধিক টিভি চ্যানেলের জন্য) এবং একাধিক ডাউনলিংক জড়িত থাকে (গ্রাউন্ড স্টেশন বা স্বতন্ত্র উপগ্রহ টিভি গ্রাহকদের কাছে)।

উপগ্রহগুলি অন্য যে কোনও যানবাহনের মতোই তার দুটি প্রধান অংশ রয়েছে: জেনেরিক যানটি নিজেই এবং নির্দিষ্ট জিনিস যা এটি বহন করে তার অনন্য কাজটি করার জন্য (পে-লোড)। স্যাটেলাইটের "যানবাহন" অংশটিকে বাস বলা হয়, এবং এতে বাইরের কেস, সৌর প্যানেল এবং ব্যাটারি অন্তর্ভুক্ত থাকে যা শক্তি, টেলিমেট্রি (একটি রিমোট-নিয়ন্ত্রিত সিস্টেম যা উপগ্রহ থেকে পৃথিবীতে পর্যবেক্ষণের ডেটা প্রেরণ করে। স্যাটেলাইটকে সঠিক অবস্থানে রাখার জন্য রকেট থ্রাস্টার এবং সৌর বিকিরণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এবং তাপকে বিকশিত করার জন্য প্রতিবিম্বিত পদার্থ ব্যবহার করা হয় ("তাপ পাইপ")। পে-লোডে কোনও যোগাযোগ স্যাটেলাইটের জন্য ট্রান্সপন্ডার, কম্পিউটার এবং পারমাণবিক ঘড়িগুলি কোনও নেভিগেশন স্যাটেলাইটের জন্য সময় সংকেত তৈরি করতে, ক্যামেরাগুলো  কম্পিউটারগুলিতে কোনও ফটোগ্রাফিক সিগনাল পাঠাতে ব্যবহৃত হয়।

স্যাটেলাইটে যা থাকেঃ 

1. সংকেত প্রেরণ / গ্রহণের জন্য বৃহৎ প্যারাবলিক ডিশ অ্যান্টেনা। (অরেঞ্জ)

2. সংকেত প্রেরণ / গ্রহণের জন্য ছোট প্যারাবলিক ডিশ অ্যান্টেনা। (অরেঞ্জ)

3. চারটি সৌর প্যানেলের লোয়ার সোলার "ব্যাটারি"। (লাল)

4. উচ্চতর সৌর "ব্যাটারি" আরও চারটি সৌর প্যানেল। (লাল)

5. একবার স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্লো হয়ে গেলে নীচের সৌর প্যানেলগুলি স্যাটেলাইটকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। (গ্রে-বাদামি)

6. প্রধান উপগ্রহ রকেট মোটর। (হালকা নীল)


7. ছোট কন্ট্রোল ইঞ্জিনগুলি উপগ্রহটিকে তার যথার্থ অবস্থান, স্পিন এবং কক্ষপথে রাখে। (সবুজ)

কৃত্রিম উপগ্রহের জ্বালানীঃ

কৃত্রিম উপগ্রহগুলোর উৎক্ষেপণের সময়ই পর্যাপ্ত জ্বালানি গ্রহণ করতে হয়। কারণ মহাকাশে রিফুয়েলিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। তবে কিছু উপগ্রহ জ্বালানি হিসেবে সৌরশক্তি ব্যবহার করে। এদের গায়ে সৌরকোষ লাগানো থাকে, যা ব্যবহার করে থেকে সে সূর্য থেকে তার প্রয়োজনীয় শক্তি গ্রহণ করে।

প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহঃ

মহাকাশে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের কৃতিত্ব সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের। ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর উৎক্ষেপিত স্পুটনিক ১ নামের কৃত্রিম উপগ্রহটির নকশা করেছিলেন সের্গেই করালিওভ নামের একজন ইউক্রেনীয়। একই বছর সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাকাশে দ্বিতীয় কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক-২ উৎক্ষেপণ করে। স্পুটনিক-২ লাইকা নামের একটা কুকুর বহন করে নিয়ে যায়। অবশ্য উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে লাইকা মারা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পনা সফল হয় ১৯৫৮ সালের ৩১ জানুয়ারি। তাদের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ এক্সপ্লোরার-১ এদিন মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। ভারতের প্রথম মহাকাশ উপগ্রহ ASTROSAT.
দেশভিত্তিক প্রথম উৎক্ষেপিত কৃত্রিম উপগ্রহ
ক্রমিক নংদেশসালরকেটের নামউপগ্রহের নাম
১। সোভিয়েত ইউনিয়ন১৯৫৭স্পুটনিক-পিএস (রকেট)স্পুটনিক-১
২। যুক্তরাষ্ট্র১৯৫৮জুনো-১এক্সপ্লোরার-১
৩। ফ্রান্স১৯৬৫ডায়ামান্টএস্ট.রিক্স
৪। জাপান১৯৭০ল্যাম্বডা-৪এস (রকেট)ওসুমি
৫। চীন১৯৭০লং মার্চ-১ডং ফ্যাং হং-১
৬। যুক্তরাজ্য১৯৭১ব্ল্যাক অ্যারোপ্রোসপেরো এক্স-৩
৭। ভারত১৯৮০স্যাটেলাইট লাঞ্চ ভিহাইকেল (এসএলভি)রোহিণী
৮। ইসরায়েল১৯৮৮শ্যভিতওফেক-১
৯। রাশিয়া১৯৯২সোয়ুজ-ইউকসমস-২১৭৫
১০। ইউক্রেন১৯৯২সাইক্লোন-৩স্ট্রেলা
১১। ইরান২০০৯সাফির-২ওমিড
১২। বাংলাদেশ২০১৮ফ্যালকন ৯বঙ্গবন্ধু-১


আবহাওয়া সংক্রান্ত কৃত্রিম উপগ্রহঃ

প্রথম আবহাওয়া সংক্রান্ত স্যাটেলাইট ভ্যানগার্ড-২ ১৯৫৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নিক্ষিপ্ত হয়েছিল। এটা আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠাতে পারত। টাইরোস-১, তা ১৯৬০ সালের ১ এপ্রিল পৃথিবী থেকে নিক্ষিপ্ত হয় যা বিস্তারিতভাবে পৃথিবীর আবহাওয়া সংক্রান্ত ছবি পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল। ওই বছরই ২৩ নভেম্বর টাইরোস-২ পৃথিবী থেকে বিচ্ছুরিত ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি পরিমাপ করে এবং আবহাওয়ার ছবিও সংগ্রহ করে। ১৯৬১ সালের ১২ জুলাই নিক্ষিপ্ত টাইরোস-৩ আটলান্টিক মহাসাগরের হারিকেন ইথার নামক ঝড় প্রথম আবিস্কার করে। এ ক্ষেত্রে হারিকেনের কারণে যেসব অঞ্চল আক্রান্ত হতে পারে সেসব অঞ্চলকে আগেই সতর্ক করা হয়। এই ধারাবাহিক উপগ্রহমালার অনেক উপগ্রহ নিক্ষিপ্ত হয় যা তাপমাত্রা নির্ণয় করে মহাকাশে ইলেকট্রনের ঘনত্বের পরিমাপ করে। টাইরোস উপগ্রহমালার পর ঈসা এবং তারপর নিশ্বাস উপগ্রহমালা মহাকাশে নিক্ষিপ্ত হয়। ১৯৬৬ সালের ১৫ মে নিক্ষিপ্ত নিশ্বাস-২ উপগ্রহ পৃথিবীর উত্তাপের ভারসাম্য পরিমাপ করে। নিশ্বাস-১ হারিকেন ডেটার অনুসন্ধান দেয়। মানুষ জীবন ও ধনসম্পত্তির ক্ষতি প্রতিরোধ করার জন্য আবহাওয়া সংক্রান্ত স্যাটেলাইটগুলো হারিকেন, বন্যা ও অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে আগেই সতর্কতা প্রদান করে থাকে। প্রায় সব স্যাটেলাইট মেঘের ফটোগ্রাফ গ্রহণ করে। ম্যাগনেটিক টেপে সংবাদ জমা করে এবং তারপর টেলিমিটার দিয়ে গ্রাউন্ড স্টেশনে রক্ষিত কম্পিউটারে সোজাসুজি প্রেরণ করে। পৃথিবীর ওপর সেই সময় অবস্থানকারী মেঘের প্রণালীর ছবি পুনরুৎপাদনে সক্ষম হয়।


স্যাটেলাইট কিভাবে পাঠানো হয়ঃ

কক্ষপথে স্যাটেলাইট স্থাপনের ক্ষেত্রে যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি মাথা ঘামাতে হয়, তা হলো অভিকর্ষজ ত্বরণ এবং মহাশূন্য যানটির গতির সমতা রক্ষা করা। কারণ অভিকর্ষজ ত্বরণ আমাদের উৎক্ষেপণ যন্ত্রকে পৃথিবীর দিকে টানতে থাকে।
দুই ধরনের উৎক্ষেপণ যন্ত্র রয়েছে – অপচয়যোগ্য রকেট এবং মহাশূন্য শাটল। অপচয়যোগ্য রকেটগুলো স্যাটেলাইট স্থাপন শেষে ধ্বংস হয়ে যায়। অপরদিকে মহাশূন্য শাটলগুলো স্যাটেলাইট স্থাপনের কাজে বারবার ব্যবহার করা যায়। উৎক্ষেপণ যন্ত্রের গতিবেগ উচ্চতার উপর অনেকটা নির্ভর করে। কম উচ্চতার কক্ষপথে (Low Earth Orbit = LEO) এর বেগ ৭.৮ কি.মি./সেকেন্ড, বেশি উচ্চতার কক্ষপথে (Geostationary Earth Orbit =GEO) এর বেগ ৩.১ কিমি/সে।

স্যাটেলাইট এর কক্ষপথঃ
মহাকাশে স্যাটেলাইটগুলো যে ডিম্বাকার পথে ঘুরতে থাকে সেই পথকে বলা হয় অরবিট বা কক্ষপথ। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা অনুসারে এই অরবিটকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। ১. নিম্ন কক্ষপথ, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ১২৪০ মাইল বা ২, ০০০ কিলোমিটার। ২. মধ্য কক্ষপথ, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ২, ০০০ কি.মি থেকে ৩৫, ৭৮৬ কি.মি পর্যন্ত। ৩. উচ্চ কক্ষপথ, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৩৫, ৭৮৬ কি.মি. থেকে অসীম।

সংঘর্ষ ও ভূপাতিতঃ

২০০৯ সালে ১০ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার কৃত্রিম উপগ্রহ ইরিডিয়াম ৩৩ এবং রাশিয়ার কসমস ২২৫১ উপগ্রহের ধাক্কা লাগে। ঘটনাটি ঘটে সাইবেরিয়ার ৭৮৯ কিলোমিটার ওপরে। নাসা'র উপগ্রহ বিজ্ঞানি মার্ক ম্যাটনি এমএসএসবিসি চ্যানেল কে জানান, দুটি গোটা কৃত্রিম উপগ্রহের সম্মুখ সংঘাতের ঘটনা এই প্রথম ঘটল।
মহাশুন্যের ব্ল্যাক হোল, নিউট্রন স্টারের ছবি তোলা, এক্স-রে ইত্যাদির উৎসস্থল খুঁজে বের করার জন্য ১৯৯০ সালে জার্মানির উপগ্রহ রোসাটকে মহাকাশে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু মধ্যাকর্ষণজনিত কারণে বলয়ের মধ্যে চলে আসায় ২০১১ সালের ২২ কিংবা ২৩ অক্টোবরের মধ্যে এটি পৃথিবীর যে-কোন জায়গায় আঘাত হানতে পারে বলে জার্মানির মহাকাশ কেন্দ্র ডিএলআর জানিয়েছে।


বাংলাদেশের জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইটঃ

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট, যা প্রথমে মে ১০, ২০১৮ তারিখে লঞ্চ করার কথা ছিল, কিন্তু কারিগরি সমস্যার কারণে সম্ভব হয়নি; যে কোনো স্যাটেলাইট পাঠানোর ক্ষেত্রে যা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। পরের দিন, অর্থাৎ মে ১১, ২০১৮ তারিখে সফলভাবে স্যাটেলাইটটি মহাশূন্যে প্রেরণ করা হয়।
এটা কি বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট? অনেকেই দেখলাম এই ভুলটা করছে। না, এটা বাংলাদেশের পাঠানো প্রথম স্যাটেলাইট না। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো প্রথম স্যাটেলাইট হচ্ছে “ব্র্যাক অন্বেষা”, সেটা একটা পোলার ন্যানো-স্যাটেলাইট যাকে পাঠানো হয়েছিল ৩ জুন, ২০১৭ তারিখে। তবে বঙ্গবন্ধু-১ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম জিওস্টেশনারি কম্যুনিকেশন স্যাটেলাইট। মজার ব্যাপার হচ্ছে, “ব্র্যাক অন্বেষা”এবং বঙ্গবন্ধু-১, দুটোই স্পেস-এক্স নামক সংস্থার মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।


ব্যবহারঃ

মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে অনেক কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। বিশেষ করে কমিউনিকেশন (যোগাযোগ) এর কাজে স্যাটেলাইট অনেক বেশি ব্যবহৃত হয়। বেশিরভাগ টেলিভিশন চ্যানেল তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে এর মাধ্যমে। তাছাড়া ইন্টারনেট সংযোগ, টেলিফোন সংযোগ, উড়ন্ত বিমানে নেটওয়ার্ক প্রদান, দুর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক প্রদান, জিপিএস সংযোগসহ বিভিন্ন কাজে কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহৃত হয়।

পোস্টটি ভাল লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

2 comments:

  1. Traffup theke view niyen na google adsense approve hbe na

    ReplyDelete
  2. আমাদের সাইট এডসেন্স এপ্রোভড।

    ReplyDelete

পোস্ট পড়ার পর অবশ্যই মন্তব্য করবেন। কারণ আপনার একটি মন্তব্য পোস্ট লেখককে ভাল কিছু লিখতে অনুপ্রাণিত করে। তবে এমন মন্তব্য করবেন না, যা লেখকের মনে আঘাত হানতে পারে।