Saturday, 10 August 2019

মোবাইলের বিপজ্জনক রেডিয়েশন থেকে নিজেকে বাঁচান!! Save Yourself from Dangerous Mobile Radiation.

আসসালামু আলাইকুম।

9Techbd তে আপনাদেরকে স্বাগতম।
আশাকরি সবাই ভালো আছেন।
সবাই ভালো থাকেন এই প্রত্যাশাই করি সব সময়।
আজকে আমি আলোচনা করব কিভাবে মোবাইলের বিপজ্জনক রেডিয়েশন থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন।
মাথার কাছে মোবাইল ফোনটা চালু রেখে কখনো ঘুমাতে যাবেন না। জরুরি এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, ফোন কল আসার যতই সম্ভাবনা থাকুক না কেন দিনে বা রাতে যখনই ঘুমাতে যাবেন মোবাইলটা হয় বিছানা থেকে বেশ কিছুটা দূরে রাখবেন অথবা সেটা বন্ধ করে রাখার চেষ্টা করবেন।
 সম্প্রতি ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের নবম শ্রেণীর একদল ছাত্র ছাত্রী বিভিন্ন রকমের শাকের বীজ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন চালু মোবাইলের ওয়াইফাই বিকিরণ প্রাণের পক্ষে চরম ক্ষতিকর! তা মৃত্যু ডেকে আনতে পারে!
পরীক্ষাটা যারা চালিয়েছে সেই ছাত্র-ছাত্রীদের অন্যতম লি নিয়েলসন জানিয়েছেন ৪০০ রকমের শাকসবজিরর বীজ এর উপর তারা পরীক্ষাটা চালিয়েছেন।
দুটি আলাদা ঘরে একই তাপমাত্রায় ৬ টি ট্রেতে ওই শাকসবজির বীজগুলোকে রাখা হয়েছিল, ১২ দিন ধরে ওই দুটি ঘরে রাখার শাকের বীজ গুলোকে সমপরিমাণ পানি আর সূর্যালোক দেয়া হয়েছিল।
তাদের বেড়ে ওঠার জন্য তাদের মধ্যে শাকের বীজ রাখা রয়েছে এমন ছয়টি ট্রাকে রাখা হয়েছিল দুটি ওয়াইফাই রাউটার এর কাছাকাছি। সাধারন মোবাইল ফোন থেকে যতটা বিকিরণ আসে ওয়াইফাই রাউটার গুলো থেকে বিকিরণ আসে ততটাই।
১২ দিন পর দেখা গেল ওয়াইফাই রাউটার এর কাছে রাখা শাকের বীজগুলো মুটেই বাড়ে নি। শাকসবজিগুলোর বেশিরভাগই হয়ে মরে গেছে নয়তো শুকিয়ে গেছে।
আর যে শাকের বীজভরা ট্রেগুলোর ধারেকাছে কোন ওয়াইফাই রাউটার ছিল না সেগুলো খুব সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠেছে পানি আর সূর্যালোক পেয়ে।
নবম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীরা পরীক্ষা চালিয়েছে তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, “এটাই প্রমাণ করেছে ওয়াইফাই বা মোবাইল এর বিকিরণ প্রাণের পক্ষে কতটা বিপদজনক”।
তাই আমাদের পরামর্শ ঘুমাতে যাওয়ার সময় হয় মোবাইল ফোনটা দূরে রাখুন অথবা বিছানায় রাখতে হলে সেটাকে বন্ধ করে রাখুন না হলে তা মস্তিষ্ক বা শরীরের পক্ষে খুবই বিপদজনক হতে পারে।
এখন কথা হচ্ছে কিভাবে এই ওয়াইফাই রেডিয়েশন থেকে বাঁচা যায়? সিম্পল, ওয়াইফাই রাউটার ব্যবহার করা ছেড়ে দিতে পারেন এবং মেগাবাইট ব্যবহার করতে পারেন।
তারপর বলতে পারেন মোবাইল ফোন রেডিয়েশন থেকে কিভাবে বাঁচা যায়?

মোবাইলের রেডিয়েশন থেকে বাঁচার উপায়ঃ



১. উপরেই বলেছি ঘুমানোর সময় একটি ন্যূনতম দূরত্ব বজায় রাখুন অথবা মোবাইল বন্ধ করে রাতে ঘুমান। তবে আমি প্রেফার করব ঘুমানোর সময় মাথা থেকে কয়েক মিটার দূরে মোবাইল রেখে ঘুমান।
২. মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় হেডফোন, ইয়ারফোন অথবা ব্লুটুথ ব্যবহার করুন। কারণ দেখুন, আপনি যখন মোবাইলে কথা বলার সময় মোবাইল কানের কাছে নয়ে যান তখন আপনার মাথা মোবাইল এর রেডিয়েশন এর আরো কাছে থাকে।
৩. মোবাইল এর ব্যাটারি লো থাকলে মোবাইল ব্যবহার করা বন্ধ করুন। কারণ যখন ব্যাটারি লো থাকে তখন সবচেয়ে বেশি রেডিয়েশন ছড়ায়।
৪. মোবাইল চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ আপনি নিজেই চিন্তা করে দেখুন, ইনপুট এবং আউটপুট একসাথে হলে কি সমস্যা হবে না?
৫. অনেকক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। আমি নিজে যখন আর্টিকেল লিখতে বসি তখন বেশ কিছু সময় আমার মোবাইল হাতে নিয়ে থাকতে হয়। যার ফলে কিছুক্ষণ পর কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমার হাত নিস্তেজ হয়ে পড়ে। যা মোবাইল এর রেডিয়েশন এর একটি অন্যতম উদাহরণ।
৬. সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের থেকে মোবাইল অবশ্যই দূরে রাখবেন। অনেক শিশু আছে যারা স্মার্টফোন হাতে না থাকলে খাবার খায় না। কিন্তু সাবধান, শিশুদের কোমল শরীরে রেডিয়েশন এর প্রভাব খুব তাড়াতাড়ি পড়ে।
তাই আজ থেকে উপরোক্ত কাজগুলো মেনে চলুন, নিজের জীবনকে সুরক্ষিত রাখুন।

No comments:

Post a Comment

পোস্ট পড়ার পর অবশ্যই মন্তব্য করবেন। কারণ আপনার একটি মন্তব্য পোস্ট লেখককে ভাল কিছু লিখতে অনুপ্রাণিত করে। তবে এমন মন্তব্য করবেন না, যা লেখকের মনে আঘাত হানতে পারে।