Saturday, 3 August 2019

অনার্স এবং ডিগ্রী পাস কোর্সের মধ্যে পার্থক্য~ Difference between Honor's and Degree Pass Course

আসসালামু আলাইকুম।  বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালই আছেন।
তো আজকে আমি আলোচনা করব অনার্স এবং ডিগ্রী পাস কোর্সের মধ্যে যে সকল পার্থক্য আছে সেগুলো নিয়ে। চলুন শুরু করা যাক।

অনার্স এবং ডিগ্রী পাস কোর্সের মধ্যে পার্থক্যঃ ---
অনার্স এবং ডিগ্রীর মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য বিদ্যমান।
১. অনার্স হচ্ছে স্নাতক সম্মান আর ডিগ্রি হচ্ছে শুধু স্নাতক ।
২. অনার্স ৪ বছর মেয়াদি এবং ডিগ্রি ৩ বছর মেয়াদি।
৩. অনার্সে মূলত যেকোন এক বিষয়ের উপর খুঁটিনাটি পড়ানো হয় থাকে তাই তারা ওই বিষয়ের উপর দক্ষ হয়ে গড়ে উঠে ।
৪. আর ডিগ্রি আলাদাভাবে কয়েকটি বিষয়ের কিছু কিছু অংশ পড়ানো হয় । তাই ডিগ্রীর ছাত্রছাত্রীরা পঠিত কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে কিছু কিছু জ্ঞান লাভ করতে পারে ।
৫. সার্টিফিকেটের মান ডিগ্রীর চাইতে অনার্সের টার বেশি ।
৬. মাস্টার্স হচ্ছে ডিগ্রি করার পর ২ বছর মেয়াদি একটা কোর্স এবং অনার্স করার পর ১ বছর মেয়াদি একটা কোর্স যাকে স্নাতকোত্তর বলা হয় ।
৭. চাকরির ক্ষেত্রে অনার্স সম্পন্ন কারীদের সরাসরি অনেক ব্যাংক বা কোম্পানিতে চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে থাকে
কিন্তু ডিগ্রি সম্পন্ন কারীরা মাস্টার্স সম্পন্ন না করলে নিয়োগ হয়না ।
৮. অনার্স শেষ করে সরাসরি বিসিএস দেয়া যায় কিন্তু ডিগ্রি করে মাস্টার্স না করলে বিসিএস দেয়া যায়না ।
৯. তবে ডিগ্রি করে মাস্টার্স করলে উভয়ের মান এবং
অগ্রাধিকার সমান হয়ে যায় ।
১০. এমনকি অনেক সময় বা এখনো অনেক ছাত্রছাত্রী
আছে যারা ডিগ্রি শেষ করে মাস্টার্স করে মেধা বা
রেজাল্টে অনার্স এবং মাস্টার্স কারীদের চাইতে অনেক এগিয়ে এবং ভালো প্রতিষ্ঠানে বা সরকারি জব করছে ।
যেখানে অনেক অনার্সের ছাত্র ছাত্রী চাকরির জন্য
হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।


---------
আপনি কেন ডিগ্রী পড়বেন?
নিচে উত্তর দেওয়া হল>>>>>
১→ বর্তমানে অনার্স আর ডিগ্রীর মধ্যে ১টাই পার্থক্য তাহলো> অনার্স ৪ বছরের কোর্স আর ডিগ্রি ৩ বছরের কোর্স।
২→ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্সে আপনাকে যে সাবজেক্ট দিবে সে সাবজেক্ট দিয়ে অনার্স ও মাস্টার্স করতে হবে। কিন্তু ডিগ্রির ক্ষেত্রে পুরোপুরি স্বাধীনতা দেওয়া হয় একজন স্টুডেন্ট কে। নিজের ইচ্ছানুযায়ী ডিগ্রি তে পঠিত ৩ সাবজেক্ট থেকে ১টি নিয়ে মাস্টার্স করা যাবে।
৩→ অনার্স কমপ্লিট করে ১ বছর লাগবে মাস্টার্স করতে আর ডিগ্রি কমপ্লিট করে মাস্টার্স করতে ২ বছর লাগবে।
৪→ সরকারি স্নাতক পাসে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদেরকে উপবৃত্তি দিচ্ছে। বছরে ৪৯০০ টাকা করে উপবৃত্তি দেয়। ৩ বছরে মোট ১৪৭০০ টাকা পাওয়া যায়। অনার্সে কিন্তু উপবৃত্তি দেওয়া হয় না।
৫→ বর্তমানে যারা ডিগ্রি তে ভর্তি হবে তাদের কোনো সেশনজটে পড়তে হবে না।
৬→ বর্তমানে ডিগ্রি সিলেবাস অনার্সের ক্যাটাগরিতে। ইনকোর্স পরীক্ষা ২০ মার্কস এবং মূল পরীক্ষা ৮০ মার্কের হয়।
৭→ ২০১৩-১৪ সেশনে ডিগ্রি তে প্রতি বছর ৭টি সাবজেক্ট পড়ানো হচ্ছে, ৩ বছরে ২১ টি সাবজেক্ট পড়তে হবে।
৮→ ২০১৩-১৪ সেশন থেকে ডিগ্রি তে সিজিপিএ সিস্টেমে রেজাল্ট পাবলিশ করা হচ্ছে।
৯→ সিজিপিএ এবং ক্রেডিট সিস্টেম চালু হওয়ায় আগের থেকে ডিগ্রি পাস কোর্সের গ্রহনযোগ্যতা অনেক গুণ বৃদ্বি পেয়েছে।
১০. ডিগ্রি কমপ্লিট করে মাস্টার্স করে অনেকে বিসিএস হচ্ছে। ★★★ ২০১২ সালে ডিগ্রি পড়ে একজন প্রশাসনে সারা বাংলাদেশে প্রথম হয়েছিলেন।
সেও কিন্তু একজন ডিগ্রীর ছাত্রই । এটি তিনি তার মনের জোরে অসাধ্য কে সাধন করেছেন।
মোট কথা আপনি যেখানেই থাকেন না কেন, যে বিষয়েই পড়েন না কেন----!
মেধা এবং যোগ্যতা দিয়ে ভালো কিছু দেখাতে পারলে প্রত্যেকটা শিক্ষা শাখাই ভালো ।
আশা করি সব কিছু বুঝতে পেরেছেন ।ডিগ্রী পড়েও অনেক ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করা যায় যদি নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকে।
আত্মবিশ্বাস না থাকলে কিন্তু আপনি সাকসেস হতে পারবেন না। আপনি যদি নিজেই ডিগ্রী তে পড়ে ডিগ্রি কে মূল্যায়ন করেন না তাহলে অন্যরা কিভাবে মূল্যায়ন করবে?
আপনি অনার্স চান্স পেলেন না এখন ডিগ্রি পড়বেন বা ১ বছর লস করে আরেকবার অনার্সের জন্য ট্রাই করলেন তাহলে এটা হবে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।
-------
আপনি যদি মনে করেন আপনার বন্ধু অনার্স করছে আর আমি ডিগ্রি করব?! ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে! তাহলে কিন্তু আপনি আপনার অনার্স পড়ুয়া বন্ধু থেকে পিছিয়ে যাবেন। আপনার মনোবল ভেঙ্গে যাবে।

পরিশেষে বলতে চাই, ভাল রেজাল্ট করলে সবখানে কদর পাওয়া যায়। আর মনে আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে।
*পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

No comments:

Post a Comment

পোস্ট পড়ার পর অবশ্যই মন্তব্য করবেন। কারণ আপনার একটি মন্তব্য পোস্ট লেখককে ভাল কিছু লিখতে অনুপ্রাণিত করে। তবে এমন মন্তব্য করবেন না, যা লেখকের মনে আঘাত হানতে পারে।