Thursday, 23 May 2019

যে বিড়াল ছিল মহাতারকা

লন্ডনের মাদাম তুসো জাদুঘরে নিজের মোমের মূর্তির (ডানে) পাশে গ্রাম্পি ক্যাট।

গ্রাম্পি ক্যাটের মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে বিড়ালটির মালিকেরা লিখলেন, সাম ডেজ আর গ্রাম্পিয়ার দ্যান আদার্স...। কিছু কিছু দিন যে আলাদা, অন্যান্য দিনের চেয়ে বিষণ্ন, তা-ই বোঝাতে চেয়েছেন নিশ্চয়। মালিকদের সে সুরে সুর মিলিয়েছেন অসংখ্য ভক্ত, বিখ্যাত তারকা ব্যক্তিরাও আছেন।
মনে হতে পারে একটা বিড়াল নিয়ে এত আদিখ্যেতার কী আছে? বিড়ালটি সাত বছরের জীবনে যা করেছে, অনেক মানুষই তাদের দীর্ঘ জীবনে তা অর্জন করতে পারে না। সে একই সঙ্গে বইয়ের লেখক, চলচ্চিত্র তারকা, আবার ফ্যাশন আইকন। অসংখ্য মিম আর জিআইএফ ছবি আছে তাকে নিয়ে। মোটকথা, গ্রাম্পি ক্যাট ইন্টারনেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিড়াল।


গ্রাম্পি মানে খিটখিটে মেজাজের। গ্রাম্পি ক্যাট স্বভাবে কিন্তু মোটেও তা নয়। তবে দেখতে বদরাগী তো বটেই। মূল নাম টার্ডাস সস হলেও চেহারায় চিরস্থায়ী রাগ রাগ ভাব থাকায় গ্রাম্পি ক্যাট হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দেখলে মনে হবে যেন কোনো কিছুতেই আগ্রহ নেই, কোনো কিছুতেই তার কিছু যায়-আসে না। হয়তো সে কারণেই তরুণেরা খারাপ দিন বোঝাতে গ্রাম্পি ক্যাটের ছবি পোস্ট করে অহরহ।
তারকাখ্যাতি
২০১২ সালের ৪ এপ্রিল গ্রাম্পি ক্যাটের জন্ম। পাঁচ মাস বয়সে মূল মালিক টাবাথা বুনদেসেনের ভাই প্রথম বিড়ালটির ছবি পোস্ট করে। সে ছবি ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। এখন গ্রাম্পি ক্যাটের ফেসবুক পাতায় রয়েছে ৮৫ লাখ লাইক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে যথাক্রমে ১৫ ও ২৭ লাখ অনুসারী।
তারকা বিড়ালটির একাধিক পরিচয় রয়েছে। তবে জনপ্রিয়তা আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে। টার্ডাসের মালিকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধীরে ধীরে ছবি পোস্ট করতে থাকলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এর একটি বড় কারণ হলো, গ্রাম্পি ক্যাটের এই অভিব্যক্তি অনেকের সঙ্গেই মিলে যায় এবং সে জন্য সবাই পছন্দ করতে শুরু করে। তা ছাড়া গ্রাম্পি ক্যাটকে ঘিরে তৈরি হতে থাকে অসংখ্য মিম আর ট্রল। বিশেষ করে মিমগুলো এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে ২০১৩ সালে বর্ষসেরা মিম হিসেবে গ্রাম্পি ক্যাট ওয়েবি পুরস্কার পায়।

No comments:

Post a Comment