Friday, 10 May 2019

সহজেই নিয়ে নিন ক্রেডিট কার্ড ইবিএল/সাউথইস্ট/ ব্যাংক এশিয়া থেকে কোন এক্সট্রা ঝামেলা ছাড়া

বর্তমান আধুনিক যুগে সময় কে কমিয়ে কিভাবে কাজের গতি আনা যায় এই সব চিন্তা ভাবনা নিয়ে সবাই ব্যস্ত। কেননা যে যত দ্রুত কাজ সম্পাদনা করতে পারবে সে তত সফল এই রকম উক্তি আমরা শুনে থাকি। সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ব্যাংক গুলো অনেক এগিয়ে। একটা সময় আমাদের চিন্তা ছিল আমার যদি একটি ডুয়াল কারেন্সি ক্রেডিট কার্ড থাকত তাহলে খুব অনায়াসে অনলাইন থেকে কেনা-কাটা করা যেত। কিন্তু কি মসিবত আপনার ক্রেডিট কার্ড পেতে গেলে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়।
আমাদের মত যাদের শুধু ভোটার আইডি / বা ফটোআইডি (পাসপোর্ট) আছে তাদের জন্য কোন মাস্টার কার্ড নয়। কেননা আমি কোন জব করি না বা কোন ব্যবসা নেই আবার শুধু জব করলে হবে না ভালো সেলারি পেতে হবে নয় হবে না। অনেক রকম শর্ত আরোপ থাকে যার আমরা মাস্টার কার্ডের কাছে আসতে পারি না।
অনেকে আবার কমেন্ট করবেন যে আপনার অনলাইন ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার কার্ড আছে যেমন (পাইয়নার বা নিটেলার) কিন্তু বিপত্তি হল ডলার কেনা বেচা নিয়ে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশে নিটেলার কোন কার্ড দিচ্ছে না। সবাই ফেক ঠিকানা দিয়ে ভার্চুয়াল কার্ড ব্যবহার করছে। কিন্তু গ্যারান্টি কই? তবে পেপাল এর কথা ভিন্ন।
তবে আসুন বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত বিভিন্ন ব্যাংক এখন ডুয়াল কারেন্সি কার্ড ইস্যু করে থাকে। তবে এদের মধ্যে কোনটা ভালো বা কি রকম সুবিধা প্রদান করে আজ এই নিয়ে কথা বলব। হয়ত ভাবছেন আগের কথা গুলো ফাও ফাও লিখছি? না আমাদের যেন কিছু ধারণা হয় এই জন্য।

অনেক ব্যাংক ডুয়াল কারেন্সি ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ডেবিট দিতে পারে তবে সবচেয়ে সহজে ও কম সময়ে আপনি পেতে পারেন নিজের একটা প্রিপেইড ক্রেডিট কার্ড। আপনার যদি থাকে ভ্যালিড ভোটার আইডি / বা ফটোআইডি (পাসপোর্ট) তাহলে আপনি সরাসরি চলে যাবেন ইবিএল ব্যাংক (EBL bank) এর যেকোনো শাখা ও সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রধান শাখায়। সরাসরি পেয়ে যাবেন আপনার কাংখিত ক্রেডিট কার্ড যা আপনি অনেক দিনের প্রত্যাশিত। যা দিয়ে আপনি অনলাইনের সকল পেমেন্ট ও ইন্টারন্যাশনাল যেকোনো মাস্টার কার্ড এনাবল এটিএম বুথে ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনি হয়ত ভাবছেন বা আপনার হয়ত প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে কি কি সেবা বা কি রকম খরচ হতে পারে বা আরো অনেক অনেক প্রশ্ন কিন্তু সমাধান? 
প্রথমে লিখব ইবিএল ব্যাংক (EBL bank) এর ইবিএল অ্যাকুয়া প্রিপেড মাস্টার কার্ড নিয়ে। তারপর সাউথইস্ট ব্যাংকের ইন্সটা কার্ড নিয়ে।
১# ইবিএল অ্যাকুয়া কার্ড কি ও সুবিধা?
এটি একটি ডুয়াল কারেন্সি মাস্টার কার্ড যা দিয়ে আপনি টাকা ও ডলার উভয় পেমেন্ট করতে পারবেন। শুধু তাই নয় আপনি যদি অনলাইন কোন পেমেন্ট করতে চান তাহলে করতে পারবেন। জেমনঃ আপনি কোন ডোমেইন, ইউটিউবে বা ফেসবুকে টিউন বুস্ট করা, ইন্টারন্যাশনাল যে কোন ওয়েব থেকে কিছু কেনা কাটা করা। শুধু এইসব নয় আপনি যদি ইন্ডিয়াতে ঘুরতে যান তাহলে আপনি বুথ থেকে রুপি তুলতে পারবেন। অনেক কাজে আপনাকে সহজ করে দিবে।
২# কার্ড কিভাবে পাবেন বা কি কি কাগজ লাগবে?
কার্ডটি পেতে হলে আপনাকে ইবিএল যে কোন শাখায় যোগাযোগ করবেন ও সাথে অবশ্যই মূল পাসপোর্ট বা ভোটার আইডি কার্ড ও ল্যাব প্রিন্ট ২ কপি ছবি লাগবে। আপনি একটি ফর্ম পুরন করে জমা দিবেন। আপনি যদি নিজের নামে কার্ডটি নিতে চান তাহলে আপনাকে ১ সপ্তাহ সময় লাগবে আর যদি সাথে সাথে নিয়ে নিতে চান তাহলে কার্ডে আপনার নাম থাকবে না। এতে কোন সমস্যা নেই।


৩# কত টাকা লাগে বা কত খরচ হতে পারে?
আমরা সাধারণত অনেক সময় ভয়ে থাকি কেননা ক্রেডিট কার্ডে অনেক হিড্ডেন চার্জ থাকে যা আমরা অবগত নয়। তবে এই কার্ডে কোন হিড্ডেন চার্জ নেই। কার্ডটি নিতে আপনাকে ৫৭৫ টাকা লাগে। এসএমএস বা এলার্ট জন্য একটি চার্জ আছে যা বছরের শেষে আপনার কার্ড থেকে কেটে নিবে ২৩০ টাকা। আপনি যদি অন্য দেশের কারেন্সি উত্তোলন করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে এক্সট্রা চার্জ দিতে হবে ৩% মার্কআপ + (২ থেকে ৫ ডলার যদি বেশি উত্তোলন করা হয়) হারে যত উত্তোলন করবেন। আর আপনি তিন (৩) বছরের জন্য ৫৭৫ টাকা। বছরে এসএমএস চার্জ ছাড়া কোন এনুয়াল ফ্রি নেই। আপনি যদি ইবিএলের বুথ থেকে লোকাল টাকা উত্তোলন করেন তাহলে কোন চার্জ লাগবে না তবে অন্য বুথ থেকে উত্তোলন করলে আপনাকে ১৫ টাকা থেকে ২৯ টাকার মধ্যে যে কোন পরিমান চার্জ দিতে হবে।
৪# কার্ডটি অ্যাক্টিভ হতে কত সময় লাগে?
কার্ড নেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাক্টিভ হয়ে যায়। তবে আপনি যদি সাথে সাথে অ্যাক্টিভ করতে চান তাহলে কল সেন্টারে কথা বলে করে নিতে পারেন। আপনার কার্ডটি অ্যাক্টিভ হলে আপনার মোবাইলে মেসেজ আসবে।
৫# কার্ডে ডলার কিভাবে নিতে হবে?
আপনার ইবিএল কার্ডটি সাথে আপনার পাসপোর্ট নিয়ে চলে যান যে কোন ইবিএল ব্রাঞ্চে। আপনাকে ডলার এন্ডোর্স করাতে হবে। যে দিন যে রেট থাকবে ওই রেটে বাংলা টাকা অনুযায়ী আপনাকে পেমেন্ট করতে হবে বিনিময়ে আপনি ডলার পেয়ে যাবেন আপনার কার্ডে।
৬# এই কার্ড দিয়ে আর কি কি করা যাবে?
এইটা যেহেতু ডুয়াল কারেন্সি কার্ড আপনি ইন্টারন্যাশনাল যে কোন মাস্টার কার্ড এনাবল বুথ থেকে টাকা মানে ওই দেশের কারেন্সি উত্তোলন করতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে অনেকে ইন্ডিয়া ঘুরতে যান তাদের জন্য ভালো হবে। কেননা আপনার ইন্ডিয়া ভিসা করতে গেলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দরকার হয় সেক্ষেত্রে আপনি শুধু ডলার কার্ডে এন্ডোর্স করে নিলে হবে।
৭# কত টাকা এন্ডোর্স করতে পারবেন?
সার্কভুক্ত দেশের জন্য $৫০০০ হাজার ডলার ও নন-সার্ক ভুক্ত দেশের জন্য $৭০০০ ডলার এন্ডোর্স করতে পারবেন।
৮# সতর্কতা বা সাবধানতা কি কি?
আপনার কার্ডটি যদি (ইন্ডিয়া) তে আটকে যায় তাহলে ভয় নেই আপনার পিন নাম্বার জানলে হবে কেননা ওখানে কার্ডটি এটিএম বুথে মধ্যে চলে যায় না। বাহিরে পাঞ্চ করে বের করে দেয় কিন্তু আপনার পিন নাম্বার দিয়ে নিতে হবে। এইজন্য আপনাকে অবশ্যই পিন নাম্বার ভুলে গেলে হবে না। অন্য দিকে একটি কথা বার বার বলা উচিত আপনি বিশ্বস্ত ওয়েব ছাড়া আপনার কার্ডটি ব্যবহার করবেন না। কেননা আপনি যে কোন ফ্রড সাইটে গিয়ে আপনি ক্ষতি গ্রস্ত হতে পারেন। তাই বিশ্বস্ত সাইট ছাড়া কার্ড নাম্বার দিবেন না।

সাউথইস্ট ব্যাংকের ইন্সটা কার্ডে আপনি সেইম সুবিধা পাবেন তবে চার্জের একটু পার্থক্য রয়েছে।
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য "স্বাধীন" মাস্টারকার্ডঃ
অনলাইনে আয়কৃত ফ্রিল্যান্সারদের অর্জিত অর্থ বৈধ উপায়ে দেশে আনার জন্য ব্যাংক এশিয়া নিয়ে এলো “স্বাধীন” মাস্টারকার্ড।


“স্বাধীন” কার্ডের সুবিধা :

১. ব্যাংক এশিয়া “স্বাধীন” মাস্টারকার্ড একটি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড। আপনি বাংলাদেশি “টাকা” এবং ইন্টারন্যাশনাল “USD” কারেন্সী তে লেনদেন করতে পারবেন।

২. ব্যক্তি এবং কোম্পানি উভয় নামে এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

৩. অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার ৭০% পর্যন্ত “স্বাধীন” কার্ডে রেখে দেয়ার সুবিধা যার মাধ্যমে অনলাইন বা ই-কমার্স লেনদেন করার সুযোগ থাকছে।

৪. দেশে এবং 
দেশের বাইরে ATM এবং POS মেশিনের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন এবং পেমেন্ট সুবিধা

৫. ই-কর্মার্স এবং অনলাইনে সব ধরনের কেনাকাটা (বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক)

৬. কার্ডে মাইক্রোচিপ সংযুক্ত থাকবে যা, ডাটা সিকিউরিটি এনশিওর করবে

৭. টাকা জমা, পেমেন্ট আসা এবং টাকা উত্তোলন সহ প্রতিবার ট্রানজেকশনে ফ্রি SMS এলার্ট

৮. ২৪ ঘন্টা কল সেন্টার সার্ভিস
স্বাধীন কার্ড নেওার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র:

১. পূরণকৃত কার্ড আবেদন পত্র

২.জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স

৩. TIN সার্টিফিকেট/ ট্যাক্স রিটার্ন কপি

৪. দুই কপি রঙিন ছবি

৫. কাজের আদেশ/ মার্কেট প্লেস ID নম্বর/ পেমেন্ট রিসিভ কপি/ ফ্রীলান্সিং নিশ্চিত করা কাগজ পত্র

No comments:

Post a Comment