Tuesday, 5 February 2019

কিভাবে বুঝবেন ক্যান্সার হয়েছে কি না?

প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সারের কোনো উপসর্গ থাকে না। হঠাৎ একদিন ছোট কোনো উপসর্গ থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দুঃসংবাদটা জানা যায়। তখন আফসোস হয় যে কেন আগে চিকিৎসকের স্বরণাপন্ন হইনি। তাই সবারই জানা প্রয়োজন আপনি ক্যান্সারের জন্য ঝুঁকি কতটুকু, কী কী উপসর্গ দেখা দিলে আপনি সতর্ক হবেন।

● যারা ধূমপায়ী বা পান-জর্দায় অভ্যস্ত, তারা জেনে রাখুন এই ধূমপান আর পান-জর্দা 60% শতাংশ ক্যানসারের জন্য দায়ী।

● অতিরিক্ত লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও লবণযুক্ত বা উচ্চ ক্যালরির খাবার, ছত্রাক পড়া খাবার, মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকযুক্ত পানি ইত্যাদি 30% শতাংশ ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

● অতিরিক্ত ওজন, কায়িক শ্রমহীন জীবনযাপন।

● দীর্ঘদিন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকা যেমন হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস এবং এইডস ভাইরাস, হ্যালিকোব্যাক্টার পাইলোরি ইত্যাদি সংক্রমণ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

● নারীদের বাল্যবিবাহ, ঘন ঘন সন্তান ধারন।
● মদ্যপান।
● দীর্ঘসময় কড়া রোদে থাকা।
● অকারণে ঘন ঘন এক্স-রে করা।
● পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস থাকা, বিশেষ করে স্তন বা কোলন ক্যান্সার।
● বয়স বৃদ্ধি।

ক্যানসার ঠেকাতে যা করবেনঃ
নিজে ক্যানসারের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা জানা জরুরি। ক্যান্সারের কোনো চিহ্ন নেই, উপসর্গ নেই কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মাঝেমধ্যে বিভিন্ন পরীক্ষা করা উচিৎ। এতে প্রায়ই রোগ জটিল হওয়ার আগেই ধরা পড়ে।
 যেমনঃ
● নারীদের জরায়ূমুখ ক্যানসার স্ক্রিনিং ক্যান্সার প্রতিরোধের একটি সফল উদাহরণ। বিয়ের তিন বছর পর থেকে (একুশ বছরের আগে নয়) 64 বছর বয়স পর্যন্ত তিন বছর পরপর পেপস টেস্ট এবং ভায়া টেস্ট (অবশ্যই মহিলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে) করানো উচিৎ।

● 20 বছর বয়স থেকে নিজের স্তন নিজেই পরীক্ষা করতে শেখা।
● 15 থেকে 45 বছর বয়সী পুরুষেরা প্রতিমাসে গোসলের সময় নিজের অন্ডকোষ পরীক্ষা করা।
● প্রতিমাসে একবার দাঁতব্রাশ করার সময় নিজের মুখ গহবর আয়না দিয়ে দেখে পরীক্ষা করা।
● বছরে দুইবার ডেন্টিস্ট এর কাছে মুখ পরীক্ষা করা।
● দেহে কোনো আচিঁল বা তিল থাকলে প্রতিমাসে ওটা পরীক্ষা করা।

● বয়স 50 বছর হলে কোলন ক্যান্সার থেকে রক্ষার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।

কখন সতর্ক হবেন?
ঝুঁকি থাকুক আর না থাকুক, কিছু কিছু লক্ষণ অবহেলা না করাই উচিৎ।
যেমনঃ
● আকস্মিক ওজন কমা।
● হঠাৎ রক্তশূন্যতা ।
● বয়স চল্লিশের পর অরুচি।
● স্তন বা যেকোনো জায়গায় গোটা বা দানা বুঝতে পারা।
● মুখের ভেতর দীর্ঘমেয়াদী ঘা।
● একমাসের বেশি কাশি, কফের সাথে রক্ত।
● হঠাৎ কন্ঠস্বর পরিবর্তন।
● মলের সাথে রক্তপাত, কালো রঙের পায়খানা
ইত্যাদি উপসর্গ বা লক্ষণ সব সময়ই সন্দেহজনক। এসবক্ষেত্রে দেরি না করে খুব তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

No comments:

Post a Comment

পোস্ট পড়ার পর অবশ্যই মন্তব্য করবেন। কারণ আপনার একটি মন্তব্য পোস্ট লেখককে ভাল কিছু লিখতে অনুপ্রাণিত করে। তবে এমন মন্তব্য করবেন না, যা লেখকের মনে আঘাত হানতে পারে।