Featured

এবার হাতের ইশারায় যেকোনো স্মার্ট ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ করুন

বর্তমানে প্রায় সকল স্মার্ট ডিভাইসগুলো একে একে টাচস্ক্রিণ ফিচারে চলে এসেছে। মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে এখন টিভি, ল্যাপটপের ডিসপ্লেগুলোতেও টা...

Saturday, 2 February 2019

শিশুর থ্যালাসেমিয়া কি? কেন হয়? কীভাবে বুঝবেন? এবং প্রতিরোধের উপায় জেনে নিন।


■থ্যালাসেমিয়া কি?
●●●থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তশূন্যতা রোগ। এই রোগে আক্রান্ত শিশুর রক্তের লোহিত কণিকাগুলো তাদের জীবনের নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্তির অনেক আগেই অপরিণত অবস্থায় ভেঙে যায়। অস্থিমজ্জা ছাড়াও প্লীহার মধ্যে এই ভাঙ্গন ঘটে। ফলে আক্রান্ত শিশুর রক্তের হিমোগ্লোবিন মারাত্বকভাবে কমে যায়। কোষগুলো অক্সিজেন ঘাটতিতে পড়ে। শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শরীরের শক্তি কমে যায়। শুধু তা-ই নয়, ভাঙা লোহিত কণিকা থেকে প্রচুর আয়রন রক্তে চলে আসে, ধীরে ধীরে সেগুলো শরীরের নানা অঙ্গে জমতে থাকে। একসময় আয়রনবোঝাই এই অঙ্গগুলো তাদের কর্মক্ষমতা হারিয়ে আরও নানা জটিল শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। তবে যারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক, পুরোপুরি আক্রান্ত নয়, তাদের রোগের তীব্রতা খুবই কম এবং তারা আর পাঁচটা স্বাভাবিক বাচ্চার মতোই বেড়ে ওঠে।

■থ্যালাসেমিয়া কেন হয়?
●●● বাবা ও মা উভয়েই যদি এ রোগের বাহক হন, তাহলে তাঁদের প্রত্যেক সন্তান মারাত্মক থ্যালাসেমিয়ার ঝুঁকিতে থাকে (শতকরা 25 ভাগ)। তাই কোনো বংশের কেউ যদি এই রোগ বহন করে , তাহলে ঐ বংশের রক্ত সম্পর্কিত অন্য সদস্যরাও এ রোগের বাহক হতে পারে। আর রক্তের সম্পর্কের এই সদস্যদের মধ্যে অর্থাৎ দুই বাহকের মধ্যে যদি বিয়ে হয়, তাহলে তাঁদের সন্তানেরা মারাত্মক থ্যালাসেমিয়ার ঝুঁকিতে পড়ে যায়।

■ কীভাবে বুঝবেন শিশু এই রোগে আক্রান্ত কি না?
●●● আক্রান্ত শিশুটি অল্প বয়সেই রক্তশূন্যতায় ভোগে, দুর্বল থাকে। আর দশটা শিশুর মতো খেলতে পারে না, চলতে পারে না, অল্পেই হাঁপিয়ে যায়। ঠিকমতো বাড়ে না। রোগ ধরা পড়ার পর তার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখার জন্য তাকে নিয়মিত বিরতিতে রক্ত পরিসঞ্চালন করতে হয়। ধীরে ধীরে পেটের ভেতর যকৃত, প্লীহা বড় হয়ে যায়, পেট ফুলে যায়। কেবল রক্ত নয়, শরীর থেকে অতিরিক্ত আয়রন বের করার জন্য নিয়মিত ব্যয়বহুল ওষুধ দিতে হয়।
যদিও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এ রোগের পূর্ণ নিরাময় সম্ভব বলে দাবি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং আমাদের মতো দেশের মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

■ থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের উপায়ঃ
●●● রোগটা দুজন বাহকের মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে সন্তানের মধ্যে তীব্র আকারে দেখা দেয়। তাই দুজন বাহকের মধ্যে বিবাহ সম্পর্ক না করাই সবচেয়ে ভাল প্রতিরোধের উপায়। তাই কারা এই রোগের বাহক, তা বিয়ের আগে শনাক্ত করা এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় চেলেঞ্জ। তাই সত্যিকার অর্থে আমরা যদি এ রোগ নির্মূল করতে চাই, তাহলে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক নির্ণয়ের জন্য ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন। রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে ঠিক করা হলে এই পরীক্ষা করা আরও জরুরি। পৃথিবীর অনেক দেশে বিয়ের আগে এ ধরনের পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো পরিবারে একটি সদস্যের জন্মগত হিমোগ্লোবিনের রোগ দেখা দিলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের পরীক্ষা করে দেখা উচিৎ।

No comments:

Post a Comment